শিশুদের অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

· Prothom Alo

কুষ্টিয়ায় শিশু অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এক মাস আগে কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়েছিল। অপহৃত শিশুদের ঢাকায় নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করানো হচ্ছিল।

Visit h-doctor.club for more information.

গতকাল সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় পোড়াদহ রেলওয়ে থানা-পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার আহমদ মইনুল হাসান কথা বলেন। ওই ৩ শিশুর বয়স ৯ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। সবার বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায়।

পোড়াদহ রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট থেকে বেলা ১১টার মধ্যে পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন থেকে দুই শিশুকে কৌশলে অপহরণ করেন চক্রের সদস্যরা। একই সময়ে একই এলাকা থেকে দুই শিশুর আরেক বন্ধুকেও ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এক মাস পর ৬ জুন রাতে পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করেন এক শিশুর মা। মামলার পর অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের সদস্য কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার গোপালপুর এলাকার ফতে আক্তার (২১) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চক্রের আরেক সদস্য শাহানাজ বেগমকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন দুই শিশুকে অপহরণ করার কথা স্বীকার করেন। তাঁরা প্রথমে মহানন্দা ট্রেনে করে শিশু দুটিকে যশোরে নিয়ে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। সেখান থেকে পরে তাদের ঢাকায় নিয়ে যায় চক্রটি। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, গতকাল রাতে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে ভিক্ষা করা অবস্থায় স্টেশন থেকে তিন শিশুকে উদ্ধার করে একটি সংস্থা। শিশুরা তাদের ঠিকানা বলতে না পারায় সংস্থাটি তাদের নিজেদের হেফাজতে রাখে। পরে তাদের পোড়াদহ রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পোড়াদহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির খান বলেন, অপহরণ ও মানব পাচারের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার করা শিশুদের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আহমদ মইনুল হাসান বলেন, শিশু পাচার এবং জোর করে ভিক্ষাবৃত্তির মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে রেলওয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি রেলস্টেশন এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

Read full story at source