হালাল রিজিক ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত

· Prothom Alo

আল্লাহ পবিত্র। তিনি শুধু পবিত্র জিনিসই কবুল করেন। ইমানের প্রথম বাক্য হলো কালেমা তাইয়্যেবা। এর মানে হলো পবিত্র বাণী। অর্থাৎ যে বাণীর মাধ্যমে মানুষ পবিত্র জীবনে প্রবেশ করে।

পবিত্র বিশ্বাস এবং পবিত্র কর্মই ইবাদত। পবিত্র বস্তু ছাড়া আল্লাহ কোনো কিছু গ্রহণ করেন না। (মুসলিম)

Visit goldparty.lat for more information.

নবী করিম (সা.) বলেন, ‘হারাম দ্বারা পুষ্ট দেহ জান্নাতে যেতে পারবে না।’ (মুসনাদে আহমাদ ও দারামি)

মানুষ জীবনে যা যা ভোগ বা উপভোগ করে, সবই তার রিজিক। রিজিক হালাল হওয়া ইবাদত কবুলের প্রধান শর্ত। রিজিক হালাল বা পবিত্র এবং বৈধ হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে।

প্রথমত, ব্যবহার্য, ভোগ্য বা উপভোগ্য বস্তু বা বিষয়টি হালাল তথা পবিত্র ও অনুমোদিত হতে হবে। দ্বিতীয়ত, তা প্রাপ্তি বা অর্জনের পথ বা মাধ্যম হালাল বা বৈধ হতে হবে। তৃতীয়ত, এর ভোগ, ব্যবহার বা প্রয়োগপদ্ধতিও হালাল বা বিধিবদ্ধ হতে হবে। এসবের কোনো একটির ব্যত্যয় ঘটলে ওই রিজিক হালাল বা পবিত্র হবে না। হারাম বস্তু হালাল পন্থায় অর্জন করলেও তা যেমন হালাল হবে না, অনুরূপ হালাল বস্তু হারাম পন্থায় লাভ করলে তা–ও হালাল বা বৈধ হবে না।

অজু-গোসল বা পবিত্রতা ছাড়া যেমন নামাজ শুদ্ধ হয় না, তেমনি হালাল খাদ্য ও হালাল জীবিকা ব্যতীত কোনো ইবাদতই আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।

আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘হে রাসুলগণ! তোমরা হালাল পবিত্র উত্তম রিজিক খাও আর সৎ কর্ম করো।’ (সুরা-২৩ মুমিনুন, আয়াত: ৫১)। ‘হে মুমিনগণ! তোমরা হালাল উত্তম রিজিক আহার করো, যা আমি তোমাদের দিয়েছি।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৭২)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হালাল জীবিকা সন্ধান করা নির্ধারিত ফরজসমূহের পরে বিশেষ একটি ফরজ।’ (শুআবুল ইমান, বায়হাকি; কানজুল উম্মাল: ৯২০৩)। ‘হালাল উপার্জন একটি জিহাদ।’ (কানজুল উম্মাল: ৯২০৫)

হালাল রিজিক ও সৎ উপার্জনের সব প্রচেষ্টাই ইবাদত। জীবিকার জন্য প্রিয় নবীজি (সা.) চাকরি করেছেন, ব্যবসা করেছেন। শ্রমিক তার মনিবকে ফাঁকি দিলে তার উপার্জন হালাল হবে না। মনিব তার শ্রমিককে ঠকালে, ন্যায্য পাওনা না দিলে তার সম্পদ হালাল হবে না। কর্মচারী মালিকের সঙ্গে প্রতারণা করলে তার উপার্জন হালাল হবে না, মালিক তার কর্মচারীর প্রতি জুলুম ও অবিচার করলে তার সম্পদ হালাল হবে না।

ব্যবসায়ীরা পণ্যে ভেজাল দিলে, ওজনে বা পরিমাণে কম দিলে, নকল পণ্য বিক্রি করলে; মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিলে, মজুতদারি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্য বাড়ালে তার উপার্জন হালাল হবে না। ক্রেতাও যদি কোনোভাবে বিক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা করে, তবে তার রিজিকও হালাল হবে না। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘ওই সব লোকের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ, যারা মানুষ থেকে গ্রহণ করার সময় ঠিকমতো নেয় এবং মানুষকে দেওয়ার সময় কম দেয়।’ (সুরা-৮৩ মুতাফফিফিন, আয়াত: ১-২)

সৎ ব্যবসায়ীদের প্রশংসায় প্রিয় নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সত্যবাদী বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক, শহীদদের সঙ্গে থাকবে।’ (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)।

হালাল সম্পদকেও প্রতিবছর জাকাত প্রদানের মাধ্যমে পবিত্র করতে হয়। সঠিকভাবে হিসাব করে জাকাত আদায় না করলে বৈধ সম্পদও হারাম হয়ে যায়।

হালাল পশুপাখির গোশত হালাল হওয়ার জন্য তা সঠিক নিয়মে জবাই করতে হবে, জবাইকারী মুসলিম হতে হবে, জবাইয়ের সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে হবে। (সুরা-৫ মায়িদা, আয়াত: ৪; সুরা-৬ আনআম, আয়াত: ১১৮-১১৯, ১২১, ১৩৮; সুরা-২২ হজ, আয়াত: ২৮, ৩৪, ৩৬)

অজু-গোসল বা পবিত্রতা ছাড়া যেমন নামাজ শুদ্ধ হয় না, তেমনি হালাল খাদ্য ও হালাল জীবিকা ব্যতীত কোনো ইবাদতই আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।

  • অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

    সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

    [email protected]

Read full story at source