অনেকে মিলে কিছু অর্জনের আনন্দও অনেক: মাহবুব মজুমদার
· Prothom Alo

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি), স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন মাহবুবুল আলম মজুমদার। শিক্ষাজীবনের প্রায় পুরোটাই ভিনদেশে কাটলেও কর্মজীবনে ফিরে এসেছেন বাংলাদেশে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছেন নানা কর্মকাণ্ডে। বাংলাদেশ জাতীয় গণিত দলের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এ বছর পেয়েছেন একুশে পদক ও স্পিরিট অব সালাম পুরস্কার। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. সাইফুল্লাহ
স্কুলজীবনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের হাত থেকে পুরস্কার নেওয়ার সৌভাগ্যও আপনার হয়েছিল। সেই সময়টা থেকেই শুরু করি।
Visit chickenroad-game.rodeo for more information.
মাহবুব মজুমদার: প্রতিযোগিতাটা ছিল রচনা লেখার, নাম ন্যাশনাল বাইসেনটেনিয়াল রাইটিং কম্পিটিশন। আমি আর একটি মেয়ে যৌথভাবে পুরস্কার পেয়েছিলাম। মহাবিশ্বতত্ত্ব, জ্যোতিঃপদার্থবিদ্যা, এসব নিয়ে সেই সময় থেকেই আমার আগ্রহ ছিল। সব সময় জানতে চাইতাম, কীভাবে এই মহাবিশ্বের সূচনা হলো। গণিত খুব পছন্দ করতাম। বাবা (বদিউল আলম মজুমদার) সব সময় উৎসাহ দিতেন। তিনি যেহেতু অর্থনীতিবিদ, অঙ্কের প্রতি তাঁরও একটা টান ছিল। অবশ্য শুধু গণিত নয়, আরও অনেক বিষয়ে আমার ছিল অপার কৌতূহল। রাজনীতি, ধর্ম…। বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতেন। তাঁকে দেখে আমিও ঠিক করেছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হব।
তাহলে তো আপনার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।
মাহবুব মজুমদার: (হাসি) না, সেটা বলা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছি, কিন্তু এখনো তো অনেক মৌলিক প্রশ্নের উত্তর পাইনি। যেমন কীভাবে মহাবিশ্বের সূচনা হলো...
এই যে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কথা বলছেন, এটা তো একটা নিরন্তর কাজ। দিনের পর দিন লেগে থাকতে হয়। কখনো কি ক্লান্তিকর (বোরিং) লাগে?
মাহবুব মজুমদার: আপনি যদি একটি দলের মধ্যে থেকে কাজ করেন, তখন আসলে অতটা ক্লান্তি আসে না। একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বললে, আইডিয়া শেয়ার করলে ওখান থেকেই অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশে সে রকম দল খুব একটা নেই। এখন অবশ্য চ্যাটজিপিটি খুব কাজে আসছে। চ্যাটজিপিটির সঙ্গেই যেকোনো আইডিয়া নিয়ে আলাপ করা যায়। আমি যখন বাংলাদেশে ফিরি, তখন আমার উদ্দেশ্য ছিল—দেশে এমন একটা গোষ্ঠী (কমিউনিটি) গড়ে তোলা; যারা স্ট্রিং থিওরি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি নিয়ে কাজ করবে। কিছুটা পেরেছি। আমরা এমন অনেক শিক্ষার্থী পেয়েছি, যারা খুব আগ্রহী। কিন্তু ওরা এখনো তরুণ। অভিজ্ঞ গবেষক গড়ে তোলার মতো যথেষ্ট সময় আমরা আসলে পাইনি। এখনো অনেক কিছু করা বাকি।
আপনি এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড, কেমব্রিজের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। সেখানে তো এ রকম দল পাওয়া অনেক সহজ ছিল।
মাহবুব মজুমদার: স্কুলে পড়ার সময় বিদেশে থাকলেও নিয়মিত দেশে আসতাম। বাংলাদেশের সঙ্গে একটা যোগাযোগ ছিল সব সময়। একটা ভালোবাসা, আবেগ কাজ করত। ছোটবেলায় নানা রকম পুরস্কার পেয়েছি। তবে আমার মনে হতো, একক পুরস্কারের তেমন কোনো অর্থ নেই। অনেকে মিলে কিছু অর্জনের আনন্দও অনেক। একসঙ্গে যখন কিছু করি, সবাই খুশি হয়। আনন্দটা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। মনে আছে, প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের কাছ থেকে পুরস্কার পাওয়ার পর আমাকে ‘যদি কিছু মনে না করেন’ নামে একটা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। উপস্থাপক প্রশ্ন করেছিলেন, বড় হয়ে কী করবে? সাহস করে উত্তর দিয়েছিলাম, বাংলাদেশে চলে আসব। ব্যাপারটা মনে মনে ছিল, কিন্তু যখন মুখে বলে ফেলেছি, তখন দায়িত্ব হয়ে গেছে।
এ বছরও আপনি দুটি বড় পুরস্কার পেয়েছেন। ছোট-বড় আরও নানা অর্জন আছে। আপনার দৃষ্টিতে আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন কী?
মাহবুব মজুমদার: আমার এখনো কোনো বড় অর্জন নাই। একুশে পদক বা যেসব পুরস্কারের কথা বললেন, আমি সবাইকে বলি, এটা আমার অর্জন না। সবার অর্জন। পুরস্কার পাওয়ার পর আমার ছাত্ররা এত খুশি হয়েছে! আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না, কেন। একটা পুরস্কারই তো! এই পুরস্কার আসলে তাদের জন্যই। এমন অনেক ছাত্র আছে, যাদের সঙ্গে অনেক দিন যোগাযোগ নেই। তারাও ই–মেইল করেছে, মেসেজ পাঠিয়েছে। তবে হ্যাঁ, আনন্দের কথা যদি বলেন, যখন দেখি আমার কোনো ছাত্র একজন প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানী হয়েছে, দারুণ সব কাজ করছে, তখন সবচেয়ে আনন্দ হয়। সেটা বরং চোখে পানি আসার মতো আনন্দ, অর্জন।
‘ছেলেই আমার ডিপিএস’, বললেন পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়া শামীমের বাবামাহবুবুল আলম মজুমদারশিক্ষার্থীদের সব সময় বলা হয়, তোমরা কিচ্ছু পারো না। অথচ ওকে উৎসাহ দেওয়া উচিত। বলা উচিত, তুমি পারবা। গণিত অলিম্পিয়াডে দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি, আপনি যদি কোনো শিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে দেন, সে দিন দিন আরও ভালো করে।এখন কী নিয়ে গবেষণা করছেন?
মাহবুব মজুমদার: আমার গবেষণার বিষয় মূলত কৃষ্ণগহ্বর। কীভাবে মহাবিশ্বের সূচনা হলো—এটাই আমার মৌলিক আগ্রহের জায়গা। বাংলাদেশে এসব বিষয় নিয়ে কাজ করার মতো খুব বেশি অভিজ্ঞ লোক নেই। তবে শিক্ষার্থী আছে। আমার অনেক শিক্ষার্থী আছে, যারা খুব আগ্রহী। ছাত্ররা অনেক রকম কাজ করছে।
প্রায় দুই দশক ধরে আপনি গণিত অলিম্পিয়াডের সঙ্গে যুক্ত। আমরা দেখি, ৫-৬ জন জাতীয় গণিত দলে সুযোগ পায়। কিন্তু এমন আরও হাজারো শিক্ষার্থী তো আছে, যারা হয়তো আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে যায় না, অক্সফোর্ড-হার্ভার্ডে যায় না; তবু গণিত অলিম্পিয়াড তাদের জীবনে একটা বড় পরিবর্তনের কারণ।
মাহবুব মজুমদার: হ্যাঁ। যারা গণিত অলিম্পিয়াডে আসে, তাদের জীবনের গতিপথ অন্য সব শিক্ষার্থীর চেয়ে আলাদা। আপনি জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। শুধু যদি এই পথ ধরে চলতে পারেন, নিশ্চয়ই সফল হবেন। জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডের মধ্য দিয়ে একটা পর্যায়ে গিয়ে আমাদের ছয়জনকে বেছে নিতে হয়। কিন্তু শুধু ওই ছয়জনই যদি সফল হয়, তাহলে তো এই বিরাট আন্দোলনের কোনো মানে থাকে না।
অনেক সময় দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা এই লক্ষ্য নিয়েই গণিত অলিম্পিয়াডে আসে যে আমি এমআইটি, হার্ভার্ড বা অক্সফোর্ডে পড়ব। এই বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
মাহবুব মজুমদার: দুঃখজনকভাবে অনেকে এটা থেকেই অনুপ্রেরণা পাচ্ছে। এটা ভালো। আবার খারাপও হতে পারে। আমি মনে করি এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করাটা খুব বুদ্ধিমানের কাজ না। বাংলাদেশে থেকে বছরে হয়তো সর্বোচ্চ ২-৩ জন এমআইটিতে যেতে পারে। তার মানে তোমার লক্ষ্যই যদি হয় এমআইটি, তাহলে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। কিন্তু যদি লক্ষ্য হয়—আমি সমস্যা সমাধান করাটা উপভোগ করতে চাই, নিজের উন্নয়ন করতে চাই, তাহলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।
আপনার একটা বক্তৃতায় আপনি বলেছেন, এমআইটি আপনার কাছে খুব আলাদা কিছু মনে হয়নি। আপনি কি মনে করেন এমআইটি যে মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে, সেটা আমরাও পারি?
মাহবুব মজুমদার: জিনগতভাবে এই অঞ্চলের মানুষ খুবই মেধাবী। সমস্যা মূলত দুটি। আমাদের বড়রা সৃজনশীলতা, অসাধারণ মেধার মূল্যায়ন করেন না। শিক্ষার্থীদের সব সময় বলা হয়, তোমরা কিচ্ছু পারো না। অথচ ওকে উৎসাহ দেওয়া উচিত। বলা উচিত, তুমি পারবা। গণিত অলিম্পিয়াডে দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি, আপনি যদি কোনো শিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে দেন, সে দিন দিন আরও ভালো করে। আরেকটা সমস্যা হলো, আমাদের ব্যবস্থাপনা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমরা এমনভাবে পরিচালনা করতে জানি না, যেখানে শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যদি ব্যবস্থাপনা ঠিক করতে পারি, আমাদের শিক্ষার্থীরাও বিশ্বমানের হতে পারে।
যখন আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে (আইএমও) যান, নিশ্চয়ই অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও দেখা হয়। যেসব দেশ আইএমওতে খুব ভালো করছে, যেমন চীন, রাশিয়া; ওদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীদের মূল পার্থক্যটা কী দেখেন?
মাহবুব মজুমদার: শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই। হয়তো আমাদের শিক্ষার্থীরা একটু দ্রুতই হতাশ হয়ে পড়ে। প্রথম দিনের পরীক্ষা ভালো না হলেই দেখা যায় ওদের মন খারাপ। কিন্তু বাকিরা ঠিকই আনন্দ করে, ঘুরে বেড়ায়। মূল পার্থক্য সেই একই—আমাদের ব্যবস্থাপনা। ওদের পুরো একটা অবকাঠামো আছে, ট্রেনিং প্রোগ্রাম আছে, ভালো প্রশিক্ষক আছে। আমাদের সেসব নেই।
গণিত অলিম্পিয়াডে আমরা যতখানি এগিয়েছি, তাতে কি আপনি সন্তুষ্ট?
মাহবুব মজুমদার: আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। ফান্ডিংয়ের সীমাবদ্ধতা, অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা। ২০১৬ সালে আমরা ভারতকে পেছনে ফেলে দিয়েছিলাম। ওরা ব্যাপারটা খুব গায়ে মেখেছিল। এরপর কিন্তু তাদের উন্নতিটা দেখার মতো। ২০২৪ সালে ভারত সারা পৃথিবীর মধ্যে চতুর্থ হয়েছে। ২০১৮ সালে আমরা স্বর্ণপদক পেলাম। কিন্তু এরপর একরকম স্থির হয়ে আছে। হ্যাঁ, সন্তুষ্ট তো নই অবশ্যই। আশা করি, ভবিষ্যতে আমরা আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারব।
অনেক বিখ্যাত মানুষকে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন। এমন কোনো শিক্ষকের কথা বলবেন, যিনি আপনাকে খুব অনুপ্রাণিত করেছেন?
মাহবুব মজুমদার: সবচেয়ে এগিয়ে রাখব আমার হাইস্কুলের ম্যাথ টিমের কোচকে। আমার পিএইচডি থিসিসটাও তাঁকেই উৎসর্গ করা। এমন নয় তিনি আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছেন। কিন্তু অনেক মজার মজার সমস্যা দিতেন, আমরা সমাধান করতাম। সেটাই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। আরেকজন ছিলেন, হাইস্কুলে ‘রাইটিং টিচার’। অনেক অনেক লেখাতেন। লেখালেখি শেখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার বাবার কথাও আলাদা করে বলব। স্কুলের পর বাবার অফিসে গেলে আমাকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল হাতে ধরিয়ে দিতেন। বলতেন, পড়ো। আমার তখন ১৪ বছর বয়স। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পড়ে কী-ই বা বুঝব। কিন্তু বাবা বলতেন, ভালো লেখা পড়া উচিত। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক অ্যালেন গুথ খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। কসমিক ইনফ্ল্যাশনের ধারণা যাঁরা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অ্যালেন একজন। হয়তো কখনো নোবেলও পাবেন। গ্র্যাজুয়েট স্কুলে অ্যাডভাইজর ছিলেন অ্যান ডেভিড। প্রচুর স্বাধীনতা দিয়েছেন। ফার্নান্দো কাভেদো নামে এক শিক্ষক ছিলেন। তিনিও আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন।
আপনি তো বোধ হয় স্টিফেন হকিংকেও শিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন?
মাহবুব মজুমদার: সরাসরি তাঁর পিএইচডি স্টুডেন্ট ছিলাম না। তবে তাঁর অফিস আমার খুব কাছেই ছিল। তাঁর সঙ্গে কথা বলা খুব কঠিন ছিল। কম্পিউটারের মাধ্যমে কথা বলতে হতো। তিনি টাইপ করে করে কথা বলতেন, তা-ও মাত্র দুই আঙুল দিয়ে। অপেক্ষা করতে হতো। অনেক সাহস করে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে হতো।
এখন এআই নিয়ে অনেক আলোচনা। শিক্ষার্থী, পেশাজীবীরা অনেকে একরকম ভয়ে আছেন। কারণ, সামনে কী আসছে আমরা জানি না।
মাহবুব মজুমদার: ভয় তো আমরা সবাই পাচ্ছি। আমাদেরও হয়তো চাকরি থাকবে না (হাসি)। হয়তো আর টিচার দরকার হবে না, একজন মানুষ দশজনের কাজ করতে পারবে। একদিকে ভালো, মানুষের সক্ষমতা আরও বাড়বে। আরেক দিকে ভয়ের কারণ হলো, কী ঘটতে যাচ্ছে আমরা জানি না। কাজের ধরন বদলে যাবে। সবাইকে এআই টুলসের ব্যবহার জানতে হবে। বাংলাদেশের তরুণদের এআই-শিক্ষিত করতে হবে। যারা চাকরি করছে, তাদেরও জানতে হবে। যদি এআইয়ের সুবিধা নিতে না পারেন, আপনি এআইয়ের শিকারে (ভিকটিম) পরিণত হবেন।
শিক্ষার্থীদের যদি কোনো পরামর্শ দিতে বলা হয়, কী বলবেন?
মাহবুব মজুমদার: ম্যাথ ক্লাব, সায়েন্স ক্লাব, নানা ক্লাবে যুক্ত হও। বাড়তি কিছু করো। অনেক সময় শিক্ষকেরা চান না শিক্ষার্থীরা সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হোক। কিন্তু এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি তো বলব আমার জন্য এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ক্লাসরুমের গণ্ডির বাইরে গেলে সম্ভাবনাগুলো দেখা যায়। সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি শিক্ষার্থীদের সামনে এমন আরও সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে, তাহলে সেটা বড় পরিবর্তন আনবে।
দেশে ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাননি, এখন হার্ভার্ডে পড়তে যাচ্ছেন আসিফ