ঘুমিয়েও ক্লান্ত? কারণ হতে পারে এই অজানা সমস্যা

· Prothom Alo

রাতের গভীরে নাক ডাকার শব্দ অনেক সময়ই আমরা হালকাভাবে নিই—ভেবে নিই, এটা হয়তো শুধু একটি বিরক্তিকর অভ্যাস। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত নাক ডাকা কখনও কখনও বড় কোনো শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে ওজন বেড়ে গেলে এই সমস্যার ঝুঁকি আরও বাড়ে।

Visit cat-cross.com for more information.

স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন একটি অবস্থা, যেখানে ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। এই সময় শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়, ঘুম ভেঙে যায় বারবার—যদিও অনেকেই তা টের পান না। ফলে সারারাত ঘুমিয়েও সকালে উঠে ক্লান্তি কাটে না।

ওজনজনিত স্লিপ অ্যাপনিয়ার ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও জটিল হয়। শরীরে অতিরিক্ত চর্বি, বিশেষ করে গলা ও শ্বাসনালির আশপাশে জমে গেলে বাতাস চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে ঘুমের সময় শ্বাস নিতে বাধা সৃষ্টি হয়।

এই সমস্যার কিছু প্রাথমিক লক্ষণ রয়েছে, যেগুলো অনেকেই গুরুত্ব দেন না। যেমন—
রাতে জোরে ও ঘন ঘন নাক ডাকা,

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাস আটকে আসা বা হাঁপিয়ে ওঠা,

অনেকক্ষণ বিছানায় থাকার পরও ঘুম ভাঙার পর ক্লান্ত লাগা,

সকালে মাথাব্যথা,

দিনভর ঝিমুনি বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি,

মনোযোগ কমে যাওয়া বা মেজাজের পরিবর্তন।

এই লক্ষণগুলো যদি নিয়মিত দেখা যায়, তবে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ চিকিৎসা না করলে স্লিপ অ্যাপনিয়া ধীরে ধীরে আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য ওজন বৃদ্ধি পেলেও স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ওজন শরীরের শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে—ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমায় এবং ঘুমের সময় শ্বাসনালির ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

এর প্রভাব শুধু ঘুমেই সীমাবদ্ধ থাকে না। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে এটি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এমনকি স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। পাশাপাশি, ঘুমের ঘাটতির কারণে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা ওজন কমানোকে আরও কঠিন করে তোলে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—দিনে অতিরিক্ত ঝিমুনি ও ক্লান্তির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

তাই নিয়মিত নাক ডাকা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে হালকাভাবে না নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম, সঠিক ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

মনে রাখবেন, ভালো ঘুম শুধু আরাম নয়—এটি আপনার সামগ্রিক সুস্থতার অন্যতম ভিত্তি।

ছবি: এআই

Read full story at source