জেলায় জেলায় ঈদ জামাতে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা
· Prothom Alo
প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের বিশেষ খুতবা শেষে দেশের মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এ সময় ফিলিস্তিন, ইরান, আফগানিস্তানসহ বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ওপর সব ধরনের নির্যাতন বন্ধ ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে মহান আল্লাহর কাছে অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা করেন মুসল্লিরা।
দিনাজপুর
রাতভর আকাশের গর্জন, বৃষ্টিপাত ও থেমে থেমে ঝোড়ো হাওয়ার পরও দিনাজপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গোর- এ-শহীদ বড় ময়দানে ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন বিপুলসংখ্যক মুসল্লি। সকাল ৯টায় শুরু হয় জামাত। নির্ধারিত সময়ের আগেই মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় ময়দান। নামাজে ইমামের দায়িত্ব পালন করেন মাওলানা মতিউর রহমান কাশেমী।
Visit lebandit.lat for more information.
এখানে নামাজ আদায় করেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ আলমগীর কবীর প্রমুখ। নামাজ শেষে বাংলাদেশের অগ্রগতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
দিনাজপুর শহরের মালদাহপট্টি এলাকার বাসিন্দা মোফাসিরুল রাশেদ বলেন, ‘এত বড় জামাত, অসংখ্য মুসল্লি। বহু দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসেছেন। এখানে নামাজ পড়া একটা ভাগ্যের ব্যাপার। রাতে ঝড়-বৃষ্টিতে মনটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সকালে আবহাওয়া কিছুটা ভালো হওয়ায় এখানে নামাজ আদায় করতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।’
দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাতজামাত শেষে সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঐতিহাসিক এই মাঠে সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় হয়েছে। নির্বাচনের সময় মানুষ যেভাবে ভোট দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করেছেন, আগামী দিনগুলোতেও সেভাবে দেশের স্বার্থে সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনার জন্য সবাই সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন।’
বৃহৎ এই ঈদ জামাতকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার পাশাপাশি ছিল গোয়েন্দা নজরদারি। মাঠের আশপাশে র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর ছিলেন। মাঠের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছিল পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। ঈদগাহ মিনারের পশ্চিম প্রান্তে মুসল্লিদের অজুর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ময়দানের চারদিকে ২০টি ফটক নির্মাণ করা হয়েছে।
দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ মাঠের আয়তন ২২ একর। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে ছোট পরিসরে এখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০১৫ সালে জেলা পরিষদের অর্থায়নে এই ঈদগাহ মিনারটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৭ সালে মিনার নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ওই বছরই প্রথম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। লাল–খয়েরি আর সাদা রঙের মিশ্রণে নির্মিত মিনারটির দৈর্ঘ্য ৫১৬ ফুট। ৫২ গম্বুজবিশিষ্ট ঈদগাহ মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছে মোগল স্থাপত্যরীতিতে। মেহরাবের উচ্চতা ৫৫ ফুট। এর মধ্যে দুই প্রান্তে দুটি মিনারের উচ্চতা ৬০ ফুট। মাঝের দুটির উচ্চতা ৫০ ফুট। এতে খিলান আছে ৩২টি। প্রতিটি গম্বুজে আছে বৈদ্যুতিক বাতি। মসজিদে নববি, কুয়েত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের স্থাপনার আদলে তৈরি মিনারটির নির্মাণকাজে ব্যয় হয়েছিল প্রায় চার কোটি টাকা।
বাগেহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে মুসল্লিদের ঢলবাগেরহাট
বাগেরহাটে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদে। মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন প্রাচীন এই মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে শনিবার ভোর থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে দূরদূরান্ত থেকে মুসল্লিরা আসতে থাকেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মসজিদ। মসজিদের দুই পাশে করা অস্থায়ী প্যান্ডেলেও নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। মুসল্লিদের আধিক্যের কারণে ঈদুল ফিতরে প্রতিবছরের মতো এবারও তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে এই মসজিদে। সকাল সাড়ে ৭টায় প্রথম জামাতে ইমামতি করেন খানজাহান (রহ.) মাজার সংলগ্ন মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মো. খালিদ। প্রথম জামাতে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালামসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে শুরু হয় দ্বিতীয় জামাত। এই জামাতে ইমামতি করেন ষাটগম্বুজ মসজিদের ভারপ্রাপ্ত ইমাম ও খতিব মো. নাসির উদ্দিন। সকাল ৯টায় তৃতীয় ও শেষ জামাতে ইমামতি করেন বায়তুশ শরফ এতিমখানা ও মাদ্রাসার সুপার হাফেজ মাওলানা মো. এনামুল হক।
এবার ঈদের জামাত উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল জেলা প্রশাসন। দর্শনার্থীদের জন্য দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জার ব্যবস্থা, তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ঈদ ঘিরে ইতিমধ্যে মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশ এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করায় স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পেরেছেন মুসল্লিরা। তবে বৃষ্টির কারণে আনন্দ উৎসবে কিছুটা ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে নামাজ শেষ করে খোলা ময়দানে কোলাকুরি করতে দেখা যায়নি কাউকে।
বাগেরহাটের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, মসজিদের ভেতর ও বাইরে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। বৃষ্টি থাকলেও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘খুবই আনন্দঘন পরিবেশে আমরা সবাই একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছি। মুসলিম উম্মাহ, দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া করেছি।’
রংপুর
সকাল সাড়ে ৮টায় রংপুর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন রংপুর কেরামতিয়া জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মো. বায়েজীদ হোসাইন। ঈদের বিশেষ খুতবা শেষে দেশের মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। জেলার প্রধান এই ঈদ জামাতে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ ফজলে খোদা মো. নাজিরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা–কর্মী, জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্টজন এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন।
এর আগে সকাল ৮টায় রংপুর পুলিশ লাইনস মাঠে, কেরামতিয়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়, সকাল ৯টায় শাপলা চত্বর আশরাফিয়া জামে মসজিদসহ নগরীর বিভিন্ন ঈদগাহ, মসজিদ ও মাদ্রাসা মাঠে সুবিধাজনক সময়ে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর নগর ছাড়াও প্রধান জামাতের সময়ের সঙ্গে সংগতি রেখে গঙ্গাচড়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, সদর, পীরগাছা, কাউনিয়া, মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ উপজেলাতে ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদ উপলক্ষে সিটি করপোরেশন থেকে নগরীর সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলোকে জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক লেখা পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে জেলার হাসপাতাল, কারাগার ও এতিমখানাগুলোতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে।
রংপুর বিভাগীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানিয়েছে, রংপুর জেলায় ছয় হাজারের বেশি মসজিদে ঈদ জামাত আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো কোনো মসজিদে ছিল একাধিক ঈদ জামাতের ব্যবস্থা।
সিলেট
সকালে সিলেটের ঐতিহাসিক শাহি ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রধান ঈদ জামাত। নামাজে অংশ নিতে ফজরের নামাজের পর থেকে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শাহি ঈদগাহ ময়দানে মুসল্লিদের সমাগম ঘটে। এতে মুসল্লিদের ঢল নামে। সিলেটের শাহি ঈদগাহে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুমসহ রাজনৈতিক দলের নেতা–কর্মীরা নামাজ আদায় করেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিলেটে ২ হাজার ৯৫৮টি স্থানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪৩টি ঈদগাহ ও মাঠে এবং ২ হাজার ৫১৫টি মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট মহানগর এলাকায় ৩৯৬টি ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর বাইরে সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলায় ৩৫১ ঈদগাহ এবং মাঠে এবং ২ হাজার ২১১টি মসজিদে ঈদের দিন ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদে সকাল ৮টায় ও হজরত শাহপরান (রহ.) দরগাহ মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বন্দরবাজারের ঐতিহ্যবাহী কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় ও তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব শায়খ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানী। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ মাওলানা মিফতাহ উদ্দিন আহমদ এবং তৃতীয় জামাতে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা হোসাইন আহমদ। সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আনজুমানে খেদমতে কুরআন সিলেটের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে পুরো সিলেটজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কড়া। পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঈদগাহ-মসজিদ এলাকা কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখেন। মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ের জন্য প্রবেশ ও বাইরের পথগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা গেছে।
ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মোনাজাত। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনেরাজশাহী
নগরীর দরগাপাড়া হজরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) মাজার সংলগ্ন মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়। জামাত শেষ হয় ৮টা ২০ মিনিটে। পরে একই স্থানে সকাল পৌনে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জামাত। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহের পরিবর্তে শাহ মখদুম দরগার মসজিদেই ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।
দরগাহ ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায় করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। নামাজ শেষে তিনি দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। মাতৃভূমি ও দেশকে রক্ষা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সবার মধ্যে ঈদের ভালোবাসার বন্ধন অটুট রাখতে হবে।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করেন। পাশাপাশি হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে মিলেমিশে থাকার জন্য দোয়া করা হয়।
আয়োজকদের ভাষ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর একই জামাতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে এক বিশেষ মুহূর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশা এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া জিন্নাহনগর জামে মসজিদ, সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট মসজিদ, টিকাপাড়া মসজিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদসহ রাজশাহীর বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস এবং মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান জানিয়েছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরীতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজশাহীতে গতকাল শুক্রবার রাতভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৭টার দিকেও এই বৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী আবহাওয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আজ রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ মিলিমিটারের মতো বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
খুলনা
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল আটটায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে। জামাতে ইমামতি করেন টাউন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ। এ ছাড়া সকাল ৯টায় দ্বিতীয় ও ১০টায় তৃতীয় জামাত খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ, কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে মুসল্লিরা পরস্পর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদে এবং বয়রা মডেল মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। খালিশপুর জামে মসজিদ এবং বসুপাড়া ইসলামাবাদ জামে মসজিদে সকাল আটটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরের ৩১টি ওয়ার্ডে পৃথকভাবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ঈদ জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি আবদুল কুদ্দুস। খুতবা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমৃদ্ধি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। জামাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. হারুনর রশীদ খান অংশ নেন।
খুলনা নগরের নিউমার্কেট সংলগ্ন বায়তুন-নুর-জামে মসজিদ, ডাকবাংলা জামে মসজিদ, ময়লাপোতা বায়তুল আমান জামে মসজিদ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, সোনাডাঙ্গা হাফিজনগর জামে মসজিদ, খুলনা ইসলামাবাদ, পিটিআই জামে মসজিদ, পশ্চিম টুটপাড়া আশরাফিয়া জামে মসজিদ, রহমানিয়া জামে মসজিদ, জাতিসংঘ শিশুপার্ক, কেডিএ, নিরালা জামে মসজিদ, সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা, দারুল উলুম মাদ্রাসা, সোনাডাঙ্গা আন্তজেলা বাস টার্মিনাল মসজিদ, রূপসা বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ, ফেরিঘাট আবু বক্কর সিদ্দিক (রা.) জামে মসজিদ, গোবরচাকা জামে মসজিদ, আড়ংঘাটা, নতুন রাস্তা জামে মসজিদ, দক্ষিণ কাশিপুর জামে মসজিদ, টুটপাড়া, মিয়াপাড়া, শেখপাড়া, বসুপাড়া, জোড়াগেট সিঅ্যান্ডবি কলোনি মসজিদ, বয়রা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন, খালিশপুর ক্রিসেন্ট জুট মিলস, বিএল কলেজ, দেয়ানা, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা, খানজাহান নগর খালাসী মাদ্রাসা ও দৌলতপুর, মহেশ্বরপাশা, খালিশপুর, খানজাহান আলী থানাসহ নগরের বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।