নগরকান্দায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১১

· Prothom Alo

ফরিদপুরের নগরকান্দায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। আজ শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার গোয়ালদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দার পুড়াপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রামের মোল্লা পক্ষ ও পাশের গোয়ালদী গ্রামের তালুকদার পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মোল্লা পক্ষের নেতৃত্ব দেন মশিউর মোল্লা ও জিয়া মোল্লা এবং তালুকদার পক্ষের নেতৃত্ব দেন সলেমান তালুকদার ও রবি তালুকদার। গত ২৮ মার্চ তালুকদার পক্ষের ইসমাইল তালুকদার জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সন্ধ্যায় পুড়াপাড়া বাজারে ওষুধ কিনতে যান। সে সময় একটি চায়ের দোকানে মোল্লা পক্ষের সাইফুল মোল্লার সঙ্গে ইসমাইল তালুকদারের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইসমাইলকে মারধর করেন সাইফুল। ওই ঘটনার জেরে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে সাইফুল মোল্লা ইসমাইলের বাড়ির সামনে গিয়ে তাঁকে গালাগাল দিতে থাকেন। এ সময় তালুকদার পক্ষের কয়েকজন সাইফুলকে মারধর করেন।

Visit syntagm.co.za for more information.

এলাকাবাসী জানান, ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সাতজন পুলিশ সদস্য ওই দিন থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত এলাকায় পাহারার দায়িত্বে ছিলেন। পুলিশি পাহারার মধ্যেই আজ সকাল থেকে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। গোয়ালদী গ্রাম ও আশপাশ এলাকাজুড়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে পাঁচ দফায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের ১২টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া মোল্লা পক্ষের হেলাল মোল্লার রান্নাঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত মোল্লা পক্ষের চারজন ও তালুকদার পক্ষের ৭ জনসহ মোট ১১ জনকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

গোয়ালদী গ্রামের বাসিন্দা ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম খান জানান, এলাকায় মোল্লা ও তালুকদার এই দুই পক্ষই প্রতাপশালী। মাঝেমধ্যেই তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান বলেন, পুলিশ সদস্য কম থাকায় প্রথম দিকে সংঘর্ষ ঠেকাতে বেগ পেতে হয়। পরে ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Read full story at source