রাজধানীতে ‘বিঝু-বৈসু-সাংগ্রাই-বিষু মেলা’ শুরু হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার

· Prothom Alo

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব ‘বিঝু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু, চাংক্রান ও বিষু’ উপলক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীতে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বিশেষ মেলা। রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরের শাক্যমুনি বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই মেলা চলবে আগামী শনিবার (১১ এপ্রিল) পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

‘ঢাকাস্থ পার্বত্য উদ্যোক্তা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর উদ্যোগে এবং ‘সিএইচটি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’–র সহযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

Visit afsport.lat for more information.

মেলার উদ্বোধনী দিন (৯ এপ্রিল) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

কী থাকছে মেলায়

এবারের মেলায় ৩০ থেকে ৩৫টি স্টলে পার্বত্য চট্টগ্রামের টাটকা কৃষিপণ্য, জুম চাষের সবজি, ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প এবং রসনাবিলাসী পাহাড়ি খাবারের সমাহার থাকবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে বিভিন্ন পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী গান ও নাচের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সমাপনী দিনে (১১ এপ্রিল) বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে লটারি ড্র।

স্পেশাল বিজু বাজার

মেলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পরদিন, অর্থাৎ ১২ এপ্রিল রোববার বসবে ‘স্পেশাল বিজু বাজার’। পাহাড়িদের প্রধান উৎসবের দিনগুলোর কেনাকাটার কথা মাথায় রেখে টাটকা সবজি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও শুকনা খাবারের এক বিশেষ বাজার বসবে এই দিন।

এবারের মেলায় ইতিমধ্যে স্টল বরাদ্দ নিয়েছেন পাহাড়ি নারী উদ্যোক্তা জিলিয়ান তালুকদার। তাঁর স্টলের নাম ‘কোরিয়ান গ্ল্যাম বাংলাদেশ’। মেলা বিষয়ে জিলিয়ান তালুকদার বলেন, তাঁর স্টলে পাহাড়ের ঐতিহ্যের সঙ্গে কোরিয়ার বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীও পাওয়া যাবে।

আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব সুবিমল চাকমা বলেন, পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, পোশাক ও খাদ্যের প্রতি নগরবাসীর ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। মূলত পাহাড়ের উৎসবের আমেজ রাজধানীর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। এখানে পাহাড়ি-বাঙালিনির্বিশেষে সবাই পাহাড়ের আতিথেয়তা ও সম্প্রীতির স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক দো অং মারমা এ মেলায় রাজধানীবাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে পাহাড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটানোর জন্য বিশেষ অনুরোধ করেছেন।

মেলার আয়োজকদের অন্যতম সদস্য হেবাং রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী বিপলী চাকমা বলেন, গত বছর তাঁরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। সেই উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা থেকে তাঁরা দ্বিতীয়বারের মতো মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছেন। বিপলী চাকমা বলেন, মেলায় হেবাংয়ের নানান মুখরোচক রান্না থাকছে।

কীভাবে যাবেন মেলায়

মেট্রোরেলের মিরপুর ১০ স্টেশন থেকে রিকশায় মাত্র ৫ মিনিটে মেলার স্থলে পৌঁছা যাবে। মেলার স্থান শাক্যমুনি বৌদ্ধবিহারের পাশেই রয়েছে স্কলাসটিকা এবং এসওএস শিশুপল্লী। বিপরীতে রয়েছে বিআরটিএর কার্যালয়।

Read full story at source