সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে শেষ করতে হবে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান

· Prothom Alo

দেশব্যাপী বর্ষবরণের সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

Visit casino-promo.biz for more information.

এতে বলা হয়, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরের অনুষ্ঠানে বিকেল পাঁচটার মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে সব অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। এই দিনে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি থাকবে। বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তবে মুখোশ হাতে বহন করা যাবে। প্রদর্শনীর জন্য তৈরি মুখোশ এমনভাবে প্রদর্শন করা যাবে না, যাতে মুখ ঢেকে থাকে। অংশগ্রহণকারীদের শুরুতেই মিছিলে যোগ দিতে হবে। মিছিল শুরুর পর মাঝপথে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস ওড়ানো, আতশবাজি ফাটানো, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল বা কার রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত আর্চওয়ে থাকবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার রোধে দেশব্যাপী সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

সব বড় অনুষ্ঠানস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। রমনা লেকে যেকোনো দুর্ঘটনা রোধে ডুবুরি দল নিয়োজিত থাকবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পয়লা বৈশাখের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (টিএসসি) মেট্রোরেল স্টেশন নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।

সাধারণ মানুষকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দেশলাই বা লাইটার বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া শিশুদের সঙ্গে তাদের পরিচয়সংবলিত নোট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এই উৎসবকে নিরাপদ করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

পয়লা বৈশাখের দিন রমনা পার্ক এলাকায় একটি ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে কারও কিছু হারিয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই সেন্টারে যোগাযোগ করতে পারে। এতে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুরা হারিয়ে যায়। শিশুরা হারিয়ে গেলে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টারে যোগাযোগ করবে।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Read full story at source