২১ এপ্রিল থেকে এসসিবি ও চ্যানেল আই কৃষি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন জমা শুরু
· Prothom Alo

বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (এসসিবি) বাংলাদেশ ও চ্যানেল আইয়ের যৌথ উদ্যোগে শুরু হতে যাচ্ছে ১১তম বারের মতো আয়োজিত ‘কৃষি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করতে ২০১৪ সাল থেকে যৌথভাবে এই আয়োজন করে আসছে এই দুই প্রতিষ্ঠান।
Visit betsport.cv for more information.
এবারের আয়োজনেও গতবারের মতো মোট ১৩টি শ্রেণিতে পুরস্কার দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে সব ক্যাটাগরিতে মোট ৩৬ লাখ টাকার অর্থ পুরস্কার থাকছে এ বছর। এর মধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ে আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তি সাত লাখ টাকা অর্থ পুরস্কার পাবেন।
আজ রোববার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এসসিবি ও চ্যানেল আইয়ের যৌথ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, এসসিবি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাসের এজাজ বিজয় এবং কান্ট্রি হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিটপী দাশ চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘শুধু পুরস্কার পাওয়া নয়; এই স্বীকৃতি কৃষি উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করবে। এ ছাড়া তাঁদের দায়িত্ববোধ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা বৃদ্ধি করবে। সেটাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। কৃষক যত এগিয়ে যাবেন, বাংলাদেশও ততটা এগিয়ে যাবে।’
এ সময় শাইখ সিরাজ বলেন, ‘দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ এখনো কৃষির সঙ্গে যুক্ত। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর এখন জলবায়ু পরিবর্তন এই খাতের নতুন চ্যালেঞ্জ। সবকিছুর মধ্যেও কৃষক, কৃষিবিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্টদের চেষ্টায় দেশ আজও খাদ্যে আত্মনির্ভরশীল। তাই কৃষিতে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজকে সামনে আনতে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে এই আয়োজন।’
সংবাদ সম্মেলনে নাসের এজাজ বিজয় বলেন, কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদন নয়, বরং রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা ও মূল্যস্ফীতির চাপও কৃষির জন্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে এ খাতে এখনো পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হয়নি। বিশেষ করে অ্যাগ্রো-প্রসেসিং ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
পুরস্কারের শ্রেণিবিভাগ
এ বছর কৃষি অ্যাওয়ার্ডে ব্যক্তি পর্যায়ে আজীবন সম্মাননা, সেরা নারী কৃষক, সেরা পুরুষ কৃষক, পরিবর্তনের নায়ক (নারী বা পুরুষ), সেরা সাংবাদিক (কৃষি), জুরি স্পেশাল (বিচারকমণ্ডলীর বিশেষ সম্মাননা), সেরা মেধাবী সংগ্রামী কৃষক (পুরুষ), সেরা মেধাবী সংগ্রামী কৃষক (নারী), জলবায়ু অভিযোজনভিত্তিক শ্রেষ্ঠ কৃষক (নারী বা পুরুষ) ও ছাদ কৃষি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ক্রমাগত নগরায়ণের ফলে শহরভিত্তিক কৃষিকে অনুপ্রাণিত করার জন্য গতবারের মতো এবারও পুরস্কারে যুক্ত হয়েছে ‘ছাদ কৃষি’ শ্রেণি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কৃষি খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান, কৃষি সহায়তা ও বাস্তবায়নে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান এবং বছরের শ্রেষ্ঠ কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হবে।
২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ‘কৃষি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন গ্রহণ, চলবে ১০ জুলাই পর্যন্ত। আগামী ১১ থেকে ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে জমা হওয়া মনোনয়ন থেকে প্রতিটি বিভাগে সর্বোচ্চ তিনজন করে প্রার্থী বাছাই করা হবে। এরপর মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই ও বিচারকদের পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত হবে বিজয়ীদের নাম। অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত আয়োজন হবে চলতি বছরের ১৬ অথবা ১৭ অক্টোবর।