ব্যবসায়ী বাবার ছেলে আলমগীর যেভাবে নায়ক হলেন
· Prothom Alo

বাবা চেয়েছিলেন তাঁর ব্যবসার হাল ধরুক ছেলে। কিন্তু ছেলে হলেন নায়ক। পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চলচ্চিত্রে তাঁকে দেখা গেছে। সংস্কৃতিক্ষেত্রে অবদানের জন্য পেয়েছেন একুশে পদক। আর গতকাল পেলেন ‘মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা ২০২৬’। এর আগে গত সোমবার বিকেলে বারিধারার অফিসে অভিনয়শিল্পী এম এ আলমগীর–এর কাছে নায়ক হয়ে ওঠার গল্প শুনলেন মনজুর কাদের
Visit sportbet.rodeo for more information.
বাবা কলিম উদ্দিন আহমেদ ছিলেন ঠিকাদার। পাকা ব্যবসাদার মানুষ। আরও নানা দিকে ছিল আগ্রহ। ঢালিউডের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ-এর অন্যতম প্রযোজকও তিনি। তাঁর স্বপ্ন, বড় ছেলে পড়াশোনা শেষ করে পারিবারিক ব্যবসা সামলাবে। কিন্তু ছেলে আলমগীরের ঝোঁক—সিনেমা, গান আর খেলাধুলা।
ষাটের দশকের ঢাকায় তেজগাঁওয়ে ধুলোমাখা মাঠ, ফুটবল আর ক্রিকেটের উত্তেজনার মধ্যে কেটেছে আলমগীরের শৈশব। তার মধ্যেই হলিক্রস স্কুলে শিক্ষাজীবনের শুরু। পরে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল। মাঝখানে পাঞ্জাবের সারগোদা ক্যাডেট স্কুলের কঠিন পরিবেশে কাটে দুই বছর। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় বার্ষিক অনুষ্ঠানে গান ও অভিনয়ে নাম লেখান। অভিনয়ে বাদ পড়লেও গানে সুযোগ পান। তাঁর গলায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ‘কত রাগিণীর ভুল ভাঙাতে’ শুনে বাংলার শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ‘তোমার গলাটা মিষ্টি, তুমি গান করো।’
তাই বাবার বিধিনিষেধ সত্ত্বেও এইট–নাইনে পড়ার সময় পকেট খরচের টাকা জমিয়ে গ্রীন রোডে পাকিস্তান সংগীত একাডেমিতে ভর্তি হন। সেখানেই সৈয়দ আব্দুল হাদীর কাছে শেখেন আধুনিক গান, কমল দাশগুপ্তর কাছে কিছুদিন শাস্ত্রীয় সংগীতও শেখেন। তবে তিন মাসের মধ্যেই সেই একাডেমি বন্ধ হয়ে যায়।
শুধু গানই নয়, ওই সময় থেকে সিনেমার পোকাও মাথায় ঢোকে। ভারত-পাকিস্তানের সিনেমা দেখতেন নিয়মিত। দিলীপ কুমার, উত্তম কুমার, রাজ্জাক ছিলেন তাঁর নীরব অনুপ্রেরণা। বাড়ির বড় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি অনুকরণ করতেন তাঁদের স্টাইল, চুলের ভঙ্গি, চোখের চাহনি—প্রতিদিন নীরবে চলত প্রস্তুতি।
খেলাধুলাতেও ছিলেন এগিয়ে। ফুটবলে গোলরক্ষক আর ক্রিকেটে ব্যাটসম্যান। ট্রিপল জাম্পে ইস্ট পাকিস্তানে আন্তস্কুল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। বাড়ির পাশেই ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজের (বর্তমান বিজ্ঞান কলেজ) মাঠ। এখানে নিয়মিত ক্রিকেট ও ফুটবল খেলতেন। সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে আলমগীর বললেন, ‘ক্রিকেটে আমার সঙ্গী আজকের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদও। আমরা উনাকে প্যান্ট–শার্ট পরিয়ে ক্রিকেট খেলাইছি। কারণ, উনি তো জীবনে কখনো পায়জামা–পাঞ্জাবি ছাড়া কিছু পরেননি। তিনি ছিলেন সেই কলেজের প্রফেসর!’
এসএসসি শেষে নটর ডেম কলেজ, এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি। একসময় করাচি বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়তে যান, আবার ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিষয়ে ভর্তি হন। এই ছাত্রজীবনের মধ্যেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিল অন্য এক আলমগীর। তিনি বলেন, ‘উত্তম কুমারের সিনেমা দেখে নিজেকে উত্তম কুমার ভাবতাম। নিজে যখন অভিনয় শুরু তখন পর্দায় দেখে মনে হলো, অধম কুমার হওয়ার যোগ্যতাও বুঝি আমার নেই।’
‘ফিল্মে অভিনয় করবেন?’
আলমগীরের চলচ্চিত্রে আসার ঘটনাটি একেবারেই সিনেমার দৃশ্য। ফার্মগেটের একটি স্টুডিওতে ছবি তুলতে গিয়ে একদিন পরিচালক আলমগীর কুমকুমের সঙ্গে দেখা। তাঁর নানা পোজের ছবিগুলো দেখে তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘ফিল্মে অভিনয় করবেন?’
অপ্রস্তুত আলমগীর কিছু না বলেই সেদিন চলে আসেন।
সেই আলমগীর কুমকুমই কিছুদিন পর ১৯৭২ সালের মে মাসে তাঁদের তেজগাঁওয়ের বিশাল বাড়িতে ভাড়া নিতে আসেন। সেখানে ফিল্মের অফিস করতে চান। প্রথমে রাজি হননি আলমগীর। যাওয়ার সময় কুমকুম আবার অভিনয়ের প্রস্তাব করে নিজের একটি কার্ড দিয়ে তাঁর তেজতুরী বাজারের অফিসে আসার আমন্ত্রণ জানান। আর জানান, শুটিং শুরু হবে ২৪ জুন, সময় খুব কম।
অবশেষে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে কুমকুমের অফিসে যান আলমগীর। সেখানেই অভিনেতা আশীষ কুমার লোহর সঙ্গে পরিচয়। কথাবার্তা শেষে ফেরার পথে তাঁর সঙ্গে একই রিকশায় ওঠেন আশীষ কুমার। তখন আলাপে আলাপে আলমগীর জানতে পারেন, উচ্চারণগত সমস্যার কারণে তাঁকে ছবিতে নেওয়া হচ্ছে না। তাঁর কথায় নাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আঞ্চলিক টান আছে। শুনে খুবই অপমানিত বোধ করেছিলেন তরুণ আলমগীর। বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন।
প্রথম দিন ক্যামেরার সামনে—১৯৭২ সালের ২৪ জুনলোহরই পরামর্শে মুখস্থ করতে শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিদায় অভিশাপ। পাশাপাশি প্রতিদিন জোরে জোরে পত্রিকার শিরোনাম পড়তে থাকেন। ৮-১০ দিনের চর্চাতেই বদলে ফেলেন নিজের উচ্চারণ।
এরপর আবার যোগাযোগ করেন। তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা বলে আশীষ কুমার নিজেই কুমকুমকে জানালেন, ‘উচ্চারণ ঠিক হয়ে গেছে।’ সন্দিহান কুমকুমের সামনে দাঁড়িয়ে আলমগীর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘চেষ্টায় সবই সম্ভব।’
১৯৭২ সালের ২৪ জুন শুরু হলো শুটিং। ছবির নাম আমার জন্মভূমি। প্রথম ছবি মুক্তির আগেই আরও পাঁচটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হন।
১৯৭৩ সালের ঈদুল ফিতরে একসঙ্গে মুক্তি পেল তাঁর দুই ছবি—আমার জন্মভূমি ও দস্যুরানী। আলমগীর বললেন, ‘আমার জন্মভূমি মোটামুটি কিন্তু দস্যুরানী বাম্পার হিট। দুই মাস পর মুক্তি পায় তৃতীয় ছবি অতিথি।’
একের পর এক ছবিতে অভিনয় করতে থাকেন আলমগীর, ব্যবসায়িক সফলতা পায় ছবিগুলো।
নায়ক হিসেবে ছেলের অভিষেক বাবা দেখে যেতে পারেননি। মা আফিয়া খাতুন অবশ্য খুব একটা উৎসাহও দিতেন না, না–ও করতেন না। বলতেন, ‘তুই করতেছিস, কর।’
ওস্তাদ জাকির হোসেনের (ডানে) সঙ্গে আলমগীর ও রুনা লায়লাবাবা দেখে যেতে পারেননি
১৯৭২ সালের ১১ মে আলমগীরের বাবা মারা যান। বললেন, ‘তখন তাঁর ব্যবসা কী আছে, টাকাপয়সা কী জমা আছে, কোথায় কী আছে—কিছুই জানি না। আব্বার কোথায় কী আছে, আমার মা–ও জানতেন না। ঘুরে ঘুরে ছয়টা ব্যাংকে টাকাপয়সা পেলাম। আমার এক মামা আব্বার সঙ্গে ব্যবসায় ছিলেন। তাঁর মাধ্যমে যা সম্ভব, উদ্ধার করেছি।’
বাবা যে শিক্ষা দিয়েছেন, আজীবন তা মেনে চলেছেন আলমগীর, ‘বাবা বলতেন, কখনো অন্যের ছায়া অনুকরণ করতে যেয়ো না। ওটা তোমার কাছ থেকে সরে যেতে পারে। নিজের ছায়াকে অনুসরণ করো, সেটা কখনো বিট্রে করবে না। সারা জীবন ওটা মাথায় রেখে এগিয়েছি।’
শুরুর দিকে আলমগীরের পাশে ছিলেন পরিচালক আলমগীর কুমকুম, এরপর যুক্ত হন মোস্তফা মেহমুদ। সেই সময়ের গল্প বলতে গিয়ে আলমগীর বলেন, ‘কুমকুম ভাইকে আমি ওস্তাদ ডাকতাম। এর বাইরে অভিনয়ে তৈরি হওয়ার জন্য কেউ যদি সাহায্য করে থাকেন, তা করেছেন পরিচালক মোস্তফা মেহমুদ। জহির রায়হান সাহেবের সহকারী ছিলেন, পরে পরিচালক হয়েছেন, তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ছবি মানুষের মন-এর পরিচালক।’
তিন সন্তান মেহরুবা আলমগীর, তাসভীর আহমেদ আলমগীর ও আঁখি আলমগীরের সঙ্গেআলমগীরকে অভিনয়সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের বই পড়তে দিতেন মোস্তফা মেহমুদ। ‘এই করে করে আমাকে তৈরি করেছেন। আমার ক্যারিয়ার তৈরি করে দেওয়ার জন্য ১৯৭৬ থেকে ১৯৮২-৮৩ পর্যন্ত আমাকে আর শাবানাকে নিয়ে টানা ছয়-সাতটি সিনেমা বানালেন। সবই সুপারহিট।’ বলেন আলমগীর।
তিনি যোগ করেন, ‘একজন অভিনেতা যদি বছরে ১০টা ছবি করেন, ১০টা ছবিতে সমান আবেগ, একাগ্রতা দিতে পারেন না। দিলে তিনি পাগল হয়ে যাবেন। এখানে পাঁচটা ছবি থাকবে পেটের দায়ে, পাঁচটা আত্মতৃপ্তির জন্য।’
পাঁচ নায়ক—সোহেল রানা, উজ্জ্বল, রাজ্জাক, ফারুক ও আলমগীর১০৬ সিনেমার জুটি
টানা পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে প্রায় আড়াই শ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন আলমগীর। সামাজিক, অ্যাকশন, ফোক, ফ্যান্টাসিসহ সব ধারাতেই তিনি সফল। সব ধরনের চরিত্রেই মানানসই। পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ৬৭টা ছবির ২৮টিতেই অভিনয় করেন আলমগীর। শুধু তা–ই নয়, ওই সময়ের গুণী পরিচালক আমজাদ হোসেন, কাজী জহির, জহিরুল হক, এ জে মিন্টু, কামাল আহমেদ, শিবলী সাদিক, মোতালেব হোসেন, দেওয়ান নজরুল, আলমগীর কুমকুম, শহিদুল ইসলাম খোকন, কাজী হায়াৎ, দিলীপ বিশ্বাস, আজিজুর রহমান, ইবনে মিজান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আজহারুল ইসলাম খান, দিলীপ সোম, মতিন রহমান, আবদুল্লাহ আল মামুন, সাইফুল আজম কাশেমের মতো পরিচালকদের একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এর বাইরে নুর হোসেন বলাই, মোহাম্মদ হান্নান, সোহানুর রহমান সোহান, মালেক আফসারী, মনতাজুর রহমান আকবর, ইস্পাহানি আরিফ জাহানের মতো ৯০ দশকের পরিচালকদের একাধিক চলচ্চিত্রেও কাজ করেন তিনি।
ভাত দে সিনেমার দৃশ্যে শাবানা ও আলমগীরসমসাময়িক অভিনেতাদের মধ্যে আলমগীরের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন রাজ্জাক। শুধু রাজ্জাক নন, বুলবুল আহমেদ, জসীম, ওয়াসিম, সোহেল রানা, ইলিয়াস কাঞ্চন, জাফর ইকবাল—সবার সঙ্গেই আলমগীরের আছে দর্শকনন্দিত চলচ্চিত্র। ৯০ দশকের রুবেল, মান্না, সালমান শাহ, ওমর সানীদের সঙ্গেও অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্র শুধু অভিনেতা হিসেবেই থাকেননি, হয়েছেন প্রযোজক, পরিচালক।
ববিতা, কবরী, সুচরিতা, অলিভিয়া, রোজিনা, অঞ্জু ঘোষ, দিলারা, দিতি, চম্পাসহ অনেক অভিনেত্রীর সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করলেও আলমগীর-শাবানা জুটি বাংলা চলচ্চিত্রের অনন্য রেকর্ড স্থাপন করেছে। আলমগীরের দেওয়া তথ্যমতে, শাবানার সঙ্গে ১০৬টি ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। আলমগীর-শাবানা অভিনীত প্রথম ছবি দস্যুরানী—সর্বশেষ ছবি ঘরে ঘরে যুদ্ধ। এরপর নব্বই দশকের শেষ দিকে শাবানা অভিনয় ছেড়ে সপরিবার যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। শাবানার সঙ্গে জুটি বিষয়ে আলমগীর বলেন, ‘আমি আর শাবানা জীবনেও কিন্তু জুটি করে ছবি বানাতে কোনো পরিচালককে কখনো বলিনি। সিনেমা একের পর এক হিট হচ্ছে, আর পরিচালকেরা আমাদের নিচ্ছেন। বলতাম, ও ম্যাডাম (শাবানা), এই সিনেমাও তো হিট হয়ে গেল। পরেরটাও হিট।’
১৯৮৫ সালে কামাল আহমেদের মা ও ছেলে ছবিতে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার লাভ করেন। পরে অপেক্ষা (১৯৮৭), ক্ষতিপূরণ (১৯৮৯), মরণের পরে (১৯৯০), পিতামাতা সন্তান (১৯৯১), অন্ধ বিশ্বাস (১৯৯২), দেশপ্রেমিক (১৯৯৪) ছবিতে সেরা অভিনেতা এবং জীবন মরণের সাথী (২০১০) ও কে আপন কে পর (২০১১) ছবিতে সেরা পার্শ্ব–অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।
প্রথম সিনেমায় আলমগীরের সম্মানী ছিল ৫ হাজার টাকা। আর নায়ক হিসেবে সর্বশেষ সম্মানী ছিল ৭ লাখ।
গত ৩ এপ্রিলে ৭৭ বছরে পা দিলেন আলমগীরঅভিনয় করতে চান, কিন্তু…
এই ৩ এপ্রিলে ৭৭ বছরে পা দিলেন আলমগীর। ২০০০ সালের পর সিনেমায় আস্তে আস্তে কাজ কমিয়ে দেন। ২০১২ সালের পর তা একেবারেই কমে যায়। ২০১৮ সালে নিজের প্রযোজিত-পরিচালিত একটি সিনেমার গল্প ছবিতে সর্বশেষ অভিনয় করেন। আলমগীর বললেন, ‘আবার যদি সুযোগ আসে, নিজেকে তৈরি করে ক্যামেরার সামনে গিয়ে কতটা সফল হতে পারব, সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। অভিনয় তো চর্চার ব্যাপার। গানের যেমন তাল, লয়, ছন্দ সব আছে—অভিনয়েরও তাই। আমার তো অনেক দিন চর্চা নেই। এরপরও যদি কেউ আসে, গল্পটা যদি আবেগপ্রবণ করে, তাহলে হয়তো হয়েও যেতে পারে।’
এখন ব্যবসা ঘিরেই যত ব্যস্ততা। অভিনয়ে ব্যস্ত দিনগুলোতে যেমন শুটিংয়ের জন্য দেশের নানা প্রান্তে ছুটতেন; মোহাম্মদপুরের আসাদ অ্যাভিনিউয়ের বাসা থেকে এখনো তেমনই ব্যবসায় জন্য ছোটেন, কখনো গাজীপুরের সোয়েটার কারখানায়, কখনো বারিধারা ডিওএইচএস অফিসে।
পরিকল্পনা করে জীবনে কিছুই করেননি আলমগীর। যখন যা মনে হয়েছে, ভালো লেগেছে, সেটাই করেছেন। পরদিন কী হবে—এমনটা ভাবতেও চান না এই বরেণ্য অভিনয়শিল্পী। বললেন, ‘আই নেভার প্ল্যানড অ্যানিথিং। বরাবরই আই লিভ টুডে। আগামীকাল কী হবে, কখনোই ভাবতে চাই না। একইভাবে পেছনের দিক নিয়ে চিন্তা করার এনার্জিও নেই।’