আন্তনাক্ষত্রিক ধূমকেতু ৩আই/অ্যাটলাসের রহস্য উন্মোচনের দাবি বিজ্ঞানীদের

· Prothom Alo

মহাবিশ্বের অসীম শূন্যতা থেকে আমাদের সৌরজগতে ভেসে আসা রহস্যময় আন্তনাক্ষত্রিক ধূমকেতু ৩আই/অ্যাটলাসের উৎপত্তি সম্পর্কে নতুন তথ্য জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, গত বছর পৃথিবীর পাশ দিয়ে দ্রুতবেগে চলে যাওয়া ধূমকেতুটি সম্ভবত আকাশগঙ্গা বা মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির এমন এক শীতল ও বিচ্ছিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছে, যেখানে এখনো কোনো সৌরজগত তৈরি হয়নি।

গত বছরের মাঝমাঝি সময়ে শনাক্ত হওয়া আন্তনাক্ষত্রিক ধূমকেতু ৩আই/অ্যাটলাসের বিস্তারিত তথ্য জানতে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করছিলেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, শনাক্ত করার পর থেকেই একাধিক স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে ধূমকেতুটির ওপর নজর রাখা হয়। অক্টোবর মাসে ধূমকেতুটি মঙ্গল গ্রহকে অতিক্রম করেছে। এরপর ডিসেম্বর মাসে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি আসার পর বর্তমানে বৃহস্পতি গ্রহকে ছাড়িয়ে আমাদের সৌরজগত থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়ার পথে রয়েছে ধূমকেতুটি।

Visit milkshakeslot.online for more information.

বিজ্ঞানীদের ধারণা, ধূমকেতুটির বয়স প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি বছর, যা আমাদের সূর্যের বয়সের দ্বিগুণের বেশি। পৃথিবীর জন্য ক্ষতির কারণ না হলেও ধূমকেতুটিতে ভারি হাইড্রোজেন শনাক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী তেরেসা পানেক-কারেনো বলেন, এই উপাদান ইঙ্গিত দেয় ধূমকেতুটি আমাদের বর্তমান মহাজাগতিক পরিবেশের তুলনায় অনেক বেশি শীতল কোনো স্থান থেকে এসেছে। এমনকি আমাদের সৌরজগতের সূর্য গঠিত হওয়ারও অনেক আগে এর জন্ম। সূর্য যখন গঠিত হচ্ছিল, তখন তার আশপাশে অনেক নবজাতক নক্ষত্রের ভিড় ছিল, যা পরিবেশকে কিছুটা উষ্ণ রাখত। কিন্তু এই ধূমকেতুর মূল নক্ষত্র সম্ভবত অনেকটা একাকী বা নিঃসঙ্গ ছিল, যার ফলে সেখানে তাপ ছিল কম এবং পরিবেশ ছিল চরম শীতল।

ধূমকেতুটির সুনির্দিষ্ট জন্মস্থান এখনো অজানা। তবে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ধূমকেতুটির নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রের আকার ৪৪০ মিটার থেকে ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটারের মধ্যে। এটি বর্তমানে ঘণ্টায় ২ লাখ ২০ হাজার কিলোমিটার বেগে মহাশূন্যে ছুটে চলছে। বিজ্ঞানী তেরেসা পানেক-কারেনোর মতে, ধূমকেতুটির সমস্ত তথ্য একত্র করলে হয়তো মহাবিশ্বের প্রাথমিক সময়ে গ্রহ গঠনের পরিবেশ কেমন ছিল, সে সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাবে।

প্রসঙ্গত, আমাদের সৌরজগতে প্রথম আন্তনাক্ষত্রিক ধূমকেতু হিসেবে ২০১৭ সালে শনাক্ত হয়েছিল ওমুয়ামুয়া। এরপর ২০১৯ সালে ২আই/বরিসভ নামের দ্বিতীয় ধূমকেতুটি শনাক্ত করা হয়। ৩আই/অ্যাটলাস এই তালিকায় তৃতীয় হলেও বিজ্ঞানীদের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Read full story at source