অটোরিকশা তো নয়, যেন এক ছোট গ্রন্থাগার

· Prothom Alo

ভারতের ব্যস্ত শহুরে জীবনে অটোরিকশা শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়। এ যেন প্রতিদিনের ছোট ছোট গল্পের বাহক। ভারতের রাস্তায় চলা এসব তিন চাকার যান সাধারণত রঙিন সাজ, মজার স্লোগান কিংবা অদ্ভুত পোস্টারে নজর কাড়ে। তবে কর্ণাটকের এক অটোচালক ভিন্ন এক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন।

Visit mchezo.life for more information.

ওই চালক নিজের অটোরিকশাটিকে একটি ছোট গ্রন্থাগারে রূপ দিয়েছেন। যাত্রীরা মুঠোফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে না থেকে যেন বইয়ের পাতায় চোখ বুলাতে পারেন, তার সুযোগ করে দিচ্ছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই অটোরিকশায় চালকের আসনের পেছনে ছোট্ট একটি তাক লাগানো আছে। সেখানে যত্ন করে সাজানো আছে নানা ধরনের বই। ভিডিওটির শিরোনামে লেখা হয়েছে—‘ভেবেছিলাম সাধারণ এক যাত্রা, হঠাৎই তা বইয়ের সফরে রূপ নেয়।’

ভিডিওতে এক যাত্রীকে দেখা যায়, চলন্ত অটোর মধ্যেই বই উল্টে দেখছেন, পাতা ওলটাচ্ছেন, এমনকি একটি বুকমার্কও বেছে নিচ্ছেন। ব্যস্ত রাস্তার মধ্যেই যেন তৈরি হয়েছে এক টুকরা শান্তির জায়গা।

শুধু বই নয়, যাত্রাপথে যাত্রীদের খাওয়ার জন্য কৌটাভর্তি ক্যান্ডিও রাখা আছে।

অটোরিকশাচালকের এ উদ্যোগ যেন সৃজনশীলতা ও জনসেবার এক মিশেল। উদ্যোগটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট প্রচেষ্টা যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে—এ অটোচালক তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা ভিডিওটি ইতিমধ্যে ১৬ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে।

ইনস্টাগ্রামের ব্যবহারকারীরা ওই ভিডিওর নিচে নানা প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘এ অটোরিকশাটি সিএনজি বা পেট্রলে চলে না, এটি চলে খাঁটি মানবিকতায়। তিনি যা দিচ্ছেন, তা তাঁর জন্য ১০ গুণ আশীর্বাদ হয়ে ফিরে আসুক।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘ওয়াও! আজকের সেরা রিল। এটি শুধু অটো নয়, এটি জ্ঞানের এক ছোট ভান্ডার। অসাধারণ কাজ, ভাই।’

Read full story at source