দিল্লি হাইকোর্টের অনলাইন শুনানিতে অনুপ্রবেশকারী, পর্নোগ্রাফি প্রদর্শন
· Prothom Alo

ভারতের দিল্লির হাইকোর্টের ভার্চ্যুয়াল বা অনলাইন বিচারিক কার্যক্রমে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে আদালতের ভিডিও কনফারেন্সিং চলাকালে একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি যুক্ত হন। তিনি দফায় দফায় অশ্লীল ভিডিও বা পর্নোগ্রাফি প্রদর্শন করেন।
দুপুর ১২টার কিছু পর প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার এজলাসে অনলাইনে শুনানি চলছিল। শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিডিও কনফারেন্সিং ও অনলাইন সহযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্ম সিংকো ওয়েবেক্স ব্যবহার করা হচ্ছিল।
Visit tr-sport.bond for more information.
একপর্যায়ে অনলাইন শুনানিতে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি (আইডি) যুক্ত হন। তিনি নিজের স্ক্রিন শেয়ার করেন এবং অশ্লীল দৃশ্য প্রদর্শন শুরু করেন। আদালত কর্তৃপক্ষ দ্রুত ওই আইডির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
কিন্তু কয়েক মিনিট পর আবারও একই ঘটনা ঘটে। তৃতীয় দফায় অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তি পর্নোগ্রাফি চালানোর পাশাপাশি একটি অডিও বার্তা বাজান। সেখানে তিনি দাবি করেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে হ্যাক করা হয়েছে...মিটিং এখনই বন্ধ করুন। আর কখনো চালু করবেন না। আপনারা হ্যাকড হয়েছেন।’
কড়া প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় ভারতের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) চেতন শর্মা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কেবল একটি আদালতে নয়, দিল্লি হাইকোর্টের একাধিক এজলাসে পরিকল্পিত অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এটি বিচার বিভাগের পবিত্রতা ও অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত।
এএসজি চেতন শর্মা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আলোকে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, ইন্টারনেট থেকে এ ঘটনার ধারণকৃত সব ভিডিও দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় আদালতকে জানান, প্রশাসনিকভাবে রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিরাপত্তায় কড়াকড়ি
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর হাইকোর্টের কার্যক্রম আবার চালু হলে ভার্চ্যুয়াল শুনানির পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। এখন থেকে আদালত কক্ষের ভিসি লিংক ‘লক’ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সেখানে মডারেটরের অনুমতি ছাড়া কেউ যুক্ত হতে পারবেন না।
এ ছাড়া চ্যাটবক্সে কড়া নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীকে অবশ্যই নিজের নাম এবং মামলার আইটেম নম্বর দেখাতে হবে। অন্যথায় তাঁকে বের করে দেওয়া হবে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা এ ঘটনার তদন্ত শুরু করবে।
পূর্ববর্তী ঘটনা ও উদ্বেগ
আদালতের শুনানিতে এ ধরনের ঘটনা ভারতে এটাই প্রথম নয়। ২০২৩ সালে কর্ণাটক হাইকোর্টে একই কায়দায় ছয়টি এজলাসে পর্নোগ্রাফি চালানো হয়েছিল। এর ফলে কয়েক দিনের জন্য ভার্চ্যুয়াল শুনানি স্থগিত রাখা হয়েছিল।
দিল্লি হাইকোর্টের বিধি অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া আদালতের কার্যক্রম রেকর্ড করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বিচারিক ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশনের যুগে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের সাইবার হামলা কঠোর হাতে দমন করার দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা।