মেহেরপুরে চালক-সহকারীকে মারধরের প্রতিবাদে বাস ধর্মঘট, ভোগান্তি
· Prothom Alo

মেহেরপুরে চলন্ত বাসের চালক ও সহকারীকে মারধরের প্রতিবাদে মেহেরপুর–চুয়াডাঙ্গা সড়কে আন্তজেলা বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল রোববার সদর উপজেলার আমঝুপি বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছে জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন।
Visit palladian.co.za for more information.
শ্রমিক ইউনিয়ন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে মেহেরপুর পৌর টার্মিনাল থেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে গোল্ডেন ট্রাভেলস পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ছেড়ে যায়। টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার সময় একটি পণ্যবাহী ট্রাককে পাশ কাটাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের আরোহীদের সঙ্গে বাসটির চালক ও তাঁর সহকারীর বিরোধ বাধে। মোটরসাইকেল আরোহীদের অভিযোগ, বাসটির চাপে তাঁরা সড়ক থেকে গর্তে পড়ার উপক্রম হয়েছিলেন।
এ নিয়ে বাসের চালক ও সহকারীর সঙ্গে মোটরসাইকেল আরোহী রাকিব ও রাব্বির বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে চালক ও সহকারী ওই দুই আরোহীকে মারধর ও গালিগালাজ করেন। এর জেরে মোটরসাইকেল আরোহীরা স্থানীয় মানুষকে খবর দিলে তাঁরা আমঝুপি বাজারে বাসটি থামিয়ে চালক রানা মিয়া ও সহকারী রতন আলীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। আহত চালক রানা মিয়াকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শ্রমিকনেতাদের দাবি, হামলায় চালকের বুকের হাড় ভেঙে গেছে।
মেহেরপুর জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান বলেন, চালক রানা মিয়াকে মারধর করা হয়েছে। এভাবে যদি চালক ও সহকারীরা প্রতিনিয়ত হামলার শিকার হন, তবে ভয়ে কেউ গাড়ি চালাবেন না। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।
এদিকে পূর্বঘোষণা ছাড়া বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। আজ সোমবার সকালে মেহেরপুর শহরের কলেজ মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য যাত্রী যানবাহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। বাস না পেয়ে অনেকে ইজিবাইক ও অন্যান্য ছোট যানবাহনে চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
আবদুর রহিম নামের এক বিক্রয় প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, বাসে চুয়াডাঙ্গা যেতে ভাড়া লাগে ৫৫ টাকা। কিন্তু বাস বন্ধ থাকায় ইজিবাইকে জনপ্রতি ১৫০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেয়েকে দেখতে যাওয়ার পথে ফাতেমা খাতুন নামের এক বৃদ্ধা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। বাসে গেলে টাকা বাঁচত। এখন বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে ইজিবাইকে যেতে হচ্ছে।’
মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামিনুর রহমান খান বলেন, ‘যাত্রীবাহী পরিবহন বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার জন্য আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে ঝামেলা নিরসনের চেষ্টা করছি।’