স্ট্রিট ফুড থেকে কি লিভার ড্যামেজ হতে পারে? ঝুঁকি এড়াতে কী করবেন
· Prothom Alo

স্ট্রিট ফুড বা রাস্তার খাবার সবসময় ক্ষতিকর নয়, তবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার, নোংরা পানি বা বারবার ভাজা তেল ব্যবহার করলে তা লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
লিভারের সমস্যা এখন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে আমাদের মধ্যে। এর মধ্যে ফ্যাটি লিভার থেকে শুরু করে সংক্রমণজনিত হেপাটাইটিস উল্লেখযোগ্য। অনেক সময়ই স্ট্রিটফুডের সঙ্গে লিভার ড্যামেজের একটি যোগসূত্রের কথা বলা হয়। আসলে স্ট্রিট ফুড বা রাস্তার খাবার সবসময় ক্ষতিকর নয়, তবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার, নোংরা পানি বা বারবার ভাজা তেল ব্যবহার করলে তা লিভারের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অনিরাপদ খাবার খেলে লিভারে সংক্রমণ, চর্বি জমা বা বিষাক্ত পদার্থের প্রভাব পড়তে পারে। চলুন জেনে নিই ঝুঁকির ক্ষেত্র ও এড়ানোর উপায়গুলো।
Visit turconews.click for more information.
১. সংক্রমণ ও হেপাটাইটিস
অপরিষ্কার হাতে খাবার তৈরি, নোংরা পানি ব্যবহার বা ঠিকমতো রান্না না করা খাবার থেকে হেপাটাইটিস এ ও হেপাটাইটিস ই ভাইরাস ছড়াতে পারে। এই ভাইরাস লিভারে সংক্রমণ ঘটায়।
অপরিষ্কার হাতে খাবার তৈরি থেকে হেপাটাইটিস এ ও হেপাটাইটিস ই ভাইরাস ছড়াতে পারেলক্ষণ হতে পারে:
চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া
দুর্বল লাগা
জ্বর
বমিভাব
পেটব্যথা
২. পচা বা নিম্নমানের উপকরণ
কখনও কখনও পুরোনো মাংস, বাসি মসলা বা নষ্ট খাবার ব্যবহার করা হয়। এতে বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হতে পারে, যা লিভারের জন্য ক্ষতিকর। কিছু ফাঙ্গাস থেকে তৈরি “অ্যাফ্লাটক্সিন” নামের বিষ দীর্ঘমেয়াদে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
৩. একই তেল বারবার ব্যবহার
অনেক দোকানে একই তেল বারবার গরম করে ভাজা হয়। এতে ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হয়, যা:
লিভারে চর্বি জমাতে পারে
প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে
লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে
অনেক দোকানে একই তেল বারবার গরম করে ভাজা হয়৪. অতিরিক্ত তেল, চিনি ও লবণ
ফাস্টফুড ধরনের অনেক স্ট্রিট ফুডে অতিরিক্ত পরিমাণে কিছু উপকরণ থাকে। যেমন:
তেল
চিনি
লবণ
নিয়মিত এসব খাবার খেলে ওজন বাড়ে এবং ফ্যাটি লিভার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
৫. ক্ষতিকর রং বা রাসায়নিক
খাবারকে আকর্ষণীয় দেখাতে কখনও কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এগুলো নিয়মিত খেলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে।
খাবারকে আকর্ষণীয় দেখাতে কখনও কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়৬. দূষিত পরিবেশের প্রভাব
রাস্তার ধুলোবালি, দূষিত পানি বা নিম্নমানের বাসনপত্র থেকেও খাবারে ক্ষতিকর ধাতু মিশতে পারে। দীর্ঘদিন এগুলো শরীরে জমলে লিভারের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে।
ঝুঁকি কমাতে কী করবেন
সবসময় চলে ও নিয়মিত ক্রেতা আছে, এমন দোকান থেকে খাবার খান
গরম ও সদ্য রান্না করা খাবার বেছে নিন
কাটা ফল বা খোলা সালাদ এড়িয়ে চলুন
খুব কালো বা পুরোনো তেলে ভাজা খাবার না খাওয়াই ভালো
খাবার তৈরির পরিবেশ পরিষ্কার কি না খেয়াল করুনখাবার তৈরির পরিবেশ পরিষ্কার কি না খেয়াল করুন
মাঝেমধ্যে স্ট্রিট ফুড খেলে সাধারণত বড় সমস্যা হয় না। তবে নিয়মিত অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সূত্র: হেলথলাইন, বেটার হেলথ চ্যানেল
ছবি: এআই, হাল ফ্যাশন ও ইন্সটাগ্রাম