‘ভিএআর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত’, রেফারিকে ধন্যবাদ আর্সেনাল কোচের

· Prothom Alo

রেফারিকে তাঁর কোনো একটি সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ দিচ্ছেন ম্যাচ জেতা দলের কোচ—এমনটা সচরাচর দেখা যায় না। রেফারির সিদ্ধান্ত পক্ষে এলেও তিনি তাঁর পেশাদারত্ব বজায় রেখেছেন বলেই মন্তব্য করে থাকেন জয়ী কোচ। তবে ব্যতিক্রম দেখা গেল রোববার রাতের আর্সেনাল-ওয়েস্ট হাম ম্যাচের পর। শেষ মুহূর্তে ভিএআরে ওয়েস্ট হামের গোল বাতিলের ম্যাচটিতে ১-০ গোলে জিতেছে আর্সেনাল। খেলা শেষে রেফারি ক্রিস কাভানাগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দলটির কোচ মিকেল আরতেতা।

আর্সেনাল কোচের এই ধন্যবাদজ্ঞাপন যেনতেন কোনো সিদ্ধান্তের কারণে নয়। ফুটবল–বিশ্লেষকদের মতে ‘ভিএআর ইতিহাসের সবচেয়ে বড়’ সিদ্ধান্তই ছিল ওটা। এমন এক সিদ্ধান্ত, যার একদিকে ছিল একটি দলের শিরোপা জয়ে হোঁচট খাওয়ার ঝুঁকি, আরেক প্রান্তে একটি দলের প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমিত হয়ে যাওয়ার শঙ্কা। আর ঘটনাটিও ছিল এমনই সূক্ষ্ম, যে খোলা চোখে পক্ষে বা বিপক্ষে বলতে পারেন যে কেউই।

Visit turconews.click for more information.

কী ঘটেছিল

লন্ডন স্টেডিয়ামের ম্যাচটিতে আর্সেনাল তখন ১-০ গোলে এগিয়ে। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ওয়েস্ট হামের কলাম উইলসন জালে বল পাঠালে স্কোরলাইন হয়ে যায় ১-১। রেফারিও এটি গোল হিসেবে অনুমোদন দেন। আর্সেনাল গ্যালারি তখন স্তব্ধ।

খেলোয়াড়েরা রেফারির কাছে গোলের প্রতিবাদ জানান। আর্সেনাল দাবি করে, উইলসন গোল করার আগে ফাউলের শিকার হয়েছেন তাঁদের গোলকিপার ডেভিড রায়া। বল যখন হাওয়ায় ভাসছিল, তখন ওয়েস্ট হামের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের শারীরিক চাপের মুখে থাকা রায়াকে ফাউল করেন পাবলো।

রেফারির কাছে ফাউল চেয়ে আবেদন করে আর্সেনাল

ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি মাঠের রেফারিকে জানান, পুরো ঘটনাটি পর্যালোচনা করা যেতে পারে। এরপর রেফারি ক্রিস সাইডলাইনে থাকা মনিটরে চোখ দেন। বেশ সময় নিয়েই ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি পুরো ঘটনার রিপ্লে দেখেন। এ জন্য চারটি জটলার দৃশ্য বারবার দেখতে হয়েছে তাঁদের। শেষ পর্যন্ত রেফারি আশ্বস্ত হন যে পাবলোর হাতের কারণে রায়ার নড়াচড়া ও বল ধরার ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, যা গোলের ক্ষেত্রে প্রভাবিত করেছে।
রেফারি জানান, গোল বাতিল। উল্লাসে মেতে ওঠে আর্সেনাল।

কী বলেছেন দুই কোচ

ওয়েস্ট হামের গোল বহাল থাকলে ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি হতো। সে ক্ষেত্রে আর্সেনালের পয়েন্ট হতো ৩৬ ম্যাচে ৭৭, এক ম্যাচ কম খেলে সিটির পয়েন্ট ৭৪। যার অর্থ, পরের ম্যাচেই ম্যানচেস্টার সিটির সামনে আবার পয়েন্টে সমতা আনার সুযোগ থাকত, আর্সেনালের জন্য যা শিরোপা না জেতার ঝুঁকি বাড়াত।

শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু থেকে বেঁচে যাওয়ায় আর্সেনাল কোচ রেফারির ‘সাহসিকতা’ ও ‘স্বচ্ছতার’ উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আজ আমি বুঝতে পেরেছি, রেফারিদের কাজ কতটা কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আপনি এমন একটি মুহূর্ত নিয়ে কথা বলছেন, যা দুটি বড় মাপের ক্লাবের ইতিহাস ও গতিপথ নির্ধারণ করে দিতে পারে। দুটি দলই তাদের লক্ষ্য অর্জনে জীবন দিয়ে লড়াই করছে। এমন জায়গায় চাপ থাকে পাহাড়সমান।’

মাঠের ও ভিডিও রেফারির সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে আরতেতা যোগ করেন, ‘যখন আমার ভিএআর কর্মকর্তাদের সমালোচনা করার প্রয়োজন হয়েছে, আমি করেছি। আজ তাদের প্রশংসা করতে হবে, অন্তত একজন রেফারিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য।’

খেলা শেষে তিন পয়েন্টে আনন্দিত মিকেল আরতেতা

আর্সেনাল ভিএআরের কারণে বেঁচে গেলেও ওয়েস্ট হামের জন্য ‘ক্ষতি’ই হয়েছে। ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে এই মুহূর্তে তারা অবনমন অঞ্চলের ১৮তম স্থানে, ১৭তম অবস্থানের টটেনহামের চেয়ে এক কম। স্বাভাবিকভাবেই দলটির কোচ নুনো কিছুটা ক্ষুব্ধই।

তিনি বলেন, ‘আমি রিপ্লেতে খুব একটা মনোযোগ দিইনি, তাতে আরও বেশি মন খারাপ হতো। সেখানে রেফারি আছেন, ভিএআর আছে; অতীতে এমন পরিস্থিতি ছিল, যেগুলোকে ভিন্নভাবে বিচার করা হতো। এর চেয়ে বেশি কিছু না বলাই ভালো। এমনকি রেফারিরাও জানেন না, কোনটি ফাউল আর কোনটি ফাউল নয়। এটি অনেক সন্দেহ এবং জল্পনার সৃষ্টি করে।’

বিশ্লেষকেরা কী বলছেন

স্কাই স্পোর্টসে সাবেক ফুটবলার ও ধারাভাষ্যকার গ্যারি নেভিল বলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগে ভিএআর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত ছিল এটি। নাটক, স্রেফ নাটক! আর্সেনাল যদি শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারে, তবে এই ম্যাচ লোকগাথা হয়ে থাকবে। আর্সেনাল শেষ বাধা পার করল এবং ২২ বছরের মধ্যে তাদের প্রথম লিগ শিরোপার দিকে এটা বিশাল পদক্ষেপ। ভিএআর কি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস রাখে? এ দেশের রেফারিংয়ের জন্য এটি অনেক বড় বিষয়...।’

আরেক সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষক ইয়ান রাইট স্কাই স্পোর্টস স্টুডিওতে ভিএআরের হস্তক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘এটি একটি আশীর্বাদের মতো ছিল!’

সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা ওয়েন রুনিও ‘রেফারি খুব ভালো কাজ করেছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন।

নাটক শেষে ওয়েস্ট হামকে হারিয়ে শিরোপার আরও কাছে আর্সেনাল

Read full story at source