কম দামে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু, বাজার সিন্ডিকেট বন্ধে উদ্যোগের কথা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী
· Prothom Alo

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে আজ সোমবার থেকে ট্রাকে করে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। আজ সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল কিনতে পারবেন সাধারণ ক্রেতারা। আগামী ১০ দিন এ কার্যক্রম চলবে।
Visit mchezo.co.za for more information.
সিন্ডিকেট বা বাজার কারসাজি আর চলবে না, ট্রাক সেলের উদ্বোধনকালে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বাজারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর সরকারি নজরদারি নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কারসাজি যাতে কার্যকর হতে না পারে, সে লক্ষ্যে সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে আছে কৌশলগত মজুত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও টিসিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ।
দাম কত, কী পণ্য পাওয়া যাচ্ছে
আজ টিসিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, টিসিবির একটি ট্রাক থেকে তিন ধরনের পণ্য কেনা যাবে। একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ ২ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি চিনি ও ২ কেজি মসুর ডাল কিনতে পারবেন। এর মধ্যে প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১৩০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৮০ টাকা ও প্রতি কেজি মসুর ডাল ৭০ টাকায় বিক্রি করা হবে। সব পণ্য একসঙ্গে কিনলে একজন ক্রেতার খরচ হবে ৪৮০ টাকা। খুচরা বাজার থেকে এসব পণ্য কিনতে ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা লাগে। অর্থাৎ সাশ্রয় হবে ২২০-২৪০ টাকা।
টিসিবি জানায়, সারা দেশে মোট ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করবে সংস্থাটি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরী ও জেলায় ৫০টি ট্রাকে, চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় ২০টি ট্রাকে, অন্য ছয়টি বিভাগীয় শহর ও জেলায় ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬টি জেলায় ১০টি করে ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে।
ট্রাক সেলের পাশাপাশি টিসিবির নিয়মিত স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের মধ্যেও পণ্য বিক্রি করা হবে। মে মাসে সারা দেশে প্রায় ৭২ লাখ ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারের মধ্যে ৩৪ হাজার ৮৪৮ টন পণ্য বিক্রি করা হবে।
উপকার পাবেন প্রায় ৩ কোটি মানুষ
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকি মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যেই টিসিবির মাধ্যমে সারা দেশে নিয়মিতভাবে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষ উৎসব কেন্দ্র করে ট্রাক সেল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত রমজানে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ উপকারভোগীর কাছে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। একইভাবে গত বছরের ঈদুল আজহায় যেখানে প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টন খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল, এবার তা বৃদ্ধি করে প্রায় ১৪ হাজার টনে উন্নীত করা হয়েছে, যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো বিশেষ পরিস্থিতি, উৎসব বা বাজারে অস্বাভাবিক চাপের সময় সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী টিসিবির ট্রাক সেল কার্যক্রম চালু করবে। জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সব সময় প্রস্তুত।
৫৯ লাখ উপকারভোগীর তথ্য প্রশ্নবিদ্ধ ছিল
ট্রাক সেলের উদ্বোধনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এক কোটি উপকারভোগীর মধ্যে প্রায় ৫৯ লাখের তথ্য প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বর্তমানে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে ৮০ লাখ প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ২০ লাখ পরিবার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
টিসিবির পরিবেশক নিয়োগেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা করা হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘টিসিবির কার্যক্রম সম্পূর্ণ প্রশ্নহীন, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হচ্ছে।’
বাজারে কারসাজি প্রতিরোধে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচিত কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য রাষ্ট্রীয় কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি আমদানি থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থা এআইভিত্তিক ডিজিটাল পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে, যাতে সরকার বাস্তবসম্মত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
নিত্যপণ্য আমদানিতে বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী
নিত্যপণ্যের আমদানি মূলধননির্ভর হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কিছু বড় ব্যবসায়ী এই খাতে সক্রিয় থাকেন বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তবে সরকার এমন অংশীদারিভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে আরও বেশি উদ্যোক্তা এই খাতে অংশ নিতে পারবেন। লক্ষ্য হলো বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করা।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, এই সরকার জনমুখী বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। স্বাগত বক্তব্য দেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ।