ইরান যুদ্ধের প্রভাব: জাপানি চিপসের প্যাকেট সাদা-কালো হলো কীভাবে

· Prothom Alo

দোকানে ঝোলানো চিপসের রঙিন প্যাকেটগুলো দূর থেকে সবার আগে চোখে পড়ে। আমাদের দেশে আমরা সাধারণত লাল, নীল বা সবুজ রঙের উজ্জ্বল সব প্যাকেটে চিপস দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু জাপানের মতো উন্নত দেশে এখন জনপ্রিয় সব চিপসের প্যাকেট থেকে রং উধাও হয়ে যাচ্ছে। দোকানগুলোতে সাজানো রয়েছে কেবল সাদা-কালো বা ধূসর রঙের প্যাকেট। প্রথম দেখলে মনে হতে পারে এগুলো হয়তো নকল কিংবা ছাপার কোনো বড় ভুল। কিন্তু আসলে এটি কোনো ভুল নয়। কিন্তু কেন এমন রঙিন চিপসের প্যাকেট জাপানে হঠাৎ সাদা-কালো হয়ে গেল?

ইরান যুদ্ধের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে মালামাল আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কালির প্রধান কিছু উপাদানের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে জাপানে। আর এই ঘাটতির কারণেই জাপানের সবচেয়ে বড় চিপস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের কিছু জনপ্রিয় পণ্যের জন্য রঙিন প্যাকেটের বদলে সাদা-কালো মোড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।

Visit umafrika.club for more information.

বড় হাতের অক্ষর কি তবে হারিয়ে যাচ্ছেহরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন হয়

ক্যালবি মূলত তাদের আলুর চিপসের উজ্জ্বল ও রঙিন প্যাকেটের জন্য সবার কাছে পরিচিত। কিন্তু কোম্পানিটি জানিয়েছে, সাদা-কালো প্যাকেটের এই নতুন নিয়মটি ক্যালবি কোম্পানির ১৪টি পণ্যের ওপর কার্যকর হতে যাচ্ছে। ২৫ মে থেকে এই নতুন প্যাকেটগুলো বাজারে আসবে। তবে প্যাকেটের রং বদলে গেলেও ভেতরের চিপসের গুণমান ও স্বাদে কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ জাপানিরা এখন থেকে তাদের প্রিয় চিপসের সেই চেনা রঙিন প্যাকেট আপাতত আর পাচ্ছে না।

জাপানের এই চিপস তৈরির কোম্পানিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে নির্দিষ্ট কিছু কাঁচামাল পাওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই বাজারে চিপসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই তারা এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত প্যাকেটের রঙের চেয়ে চিপসের উৎপাদন চালিয়ে যাওয়াকেই তারা এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ঠিক কোন উপাদানের অভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা কোম্পানিটি এখনো পরিষ্কার করে বলেনি। তবে জাপান সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশজুড়ে কালির উপাদানের বড় কোনো সংকটের খবর তাদের কাছে নেই। তাঁরা মনে করছেন, জাপানের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ কাঁচামাল এখনো মজুত আছে।

কেন কিছু মাছ নিজের বাচ্চাকে খেয়ে ফেলেএলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ট্যাংকার

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা সম্ভবত ন্যাপথা–সংক্রান্ত। ন্যাপথা হলো খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়ামের একটি উপজাত, যা ছাপার কালি তৈরির বিশেষ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। পরিস্থিতি বুঝতে ও সরবরাহের এই গরমিল দূর করতে জাপান সরকার খুব শিগগির ক্যালবি কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করছে।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে বিশ্বজুড়ে মালামাল সরবরাহে এক বিশাল গোলমাল দেখা দিয়েছে। এই যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্য থেকে সারা বিশ্বে তেল ও পণ্য পাঠানোর প্রধান নৌপথ। ফলে বিভিন্ন দেশের বড় কোম্পানিগুলো এখন এই সংকট সামাল দেওয়ার বিকল্প পথ খুঁজছে।

এ সমস্যার প্রভাব এখন সবখানে ছড়িয়ে পড়ছে। সারের অভাবে এশিয়াজুড়ে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। আবার ভারত থেকে চাল রপ্তানি করা ব্যবসায়ীরা মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে তাঁদের পণ্য পাঠাতে পারছেন না। শুধু তা–ই নয়, বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের কাছে পণ্য পৌঁছাতেও অনেক দেরি হচ্ছে। কারণ, আকাশপথে পণ্য পরিবহনের বা এয়ার কার্গোর একটি বড় অংশই নিয়ন্ত্রণ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান সংস্থাগুলো, যারা এখন যুদ্ধের কারণে স্বাভাবিক সেবা দিতে পারছে না।

গরু কেন মেঘ দেখলে ভয় পায়চিপস

ক্যালবি তাদের নতুন যে প্যাকেটের ছবি প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, চিপসের ব্যাগগুলো এখন ধূসর রঙের বিভিন্ন শেডে। আগে আলুর চিপসের সাগরের মধ্যে টুপি পরা যে মাসকট বা কার্টুন চরিত্রটি হাসিমুখে থাকত, এখন আর সেটি নেই। তার বদলে মোড়কটি এখন একদম বর্ণহীন, যেখানে কেবল নাম আর প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো লেখা রয়েছে।

প্যাকেজিং এমন সাদামাটা হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়তে পারেন ক্রেতারা। সুপারমার্কেটে গিয়ে দ্রুত নিজের পছন্দের চিপসটি খুঁজে নিতে এখন আর রঙের ওপর ভরসা করা যাবে না। বরং প্যাকেটের গায়ের লেখা পড়ে নিশ্চিত হতে হবে কোনটা কোন স্বাদের। সাধারণত ক্যালবির নিয়মিত গ্রাহকেরা জানেন, লাল রঙের ব্যাগ মানেই হালকা লবণযুক্ত আলুর চিপস, আর হলুদ প্যাকেটে সবুজ লেবেল থাকলে সেটি সিউইড বা সামুদ্রিক শৈবাল ফ্লেভারের। কিন্তু এখন আর সেই চেনা রং দেখে চিপস চেনার উপায় নেই।

সূত্র: গালফ নিউজ, সিএনএন২০২৫ সালে আলাস্কায় আঘাত হানা সুনামিটি এযাবৎকালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

Read full story at source