কবি–সাহিত্যিকদের সঙ্গে আড্ডায় আলোকিত হয়েছিলাম: শিল্পী রফিকুন নবী

· Prothom Alo

তারুণ্যের সময় কবি–সাহিত্যিকদের সঙ্গে আড্ডায় আলোকিত হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী (রনবী)। তিনি বলেছেন, কবি–সাহিত্যিকদের সঙ্গে যদি আড্ডাগুলো না থাকত, ওই ঘনিষ্ঠতা যদি না থাকত, তাহলে আজকে শুধু তিনি নন; অনেক শিল্পী এত দূর আসতে পারতেন না।

‘সাহিত্যে কালি ও কলমের টান: সাহিত্যের সঙ্গে চিত্রকলার সংযোগ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী এ কথাগুলো বলেন। শনিবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে এ সভার আয়োজন করে সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতিবিষয়ক মাসিক পত্রিকা কালি ও কলম।

Visit rhodia.club for more information.

কবি–সাহিত্যিকদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ছিল উল্লেখ করে চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী বলেন, তিনি বয়সে তরুণ হলেও তাঁর সময়ের কবি–সাহিত্যিকদের আড্ডায় থাকতেন। তাঁদের সঙ্গে ওঠাবসা করতেন। তাঁদের মনমানসিকতা বুঝতে পারতেন।

একসময়ের জনপ্রিয় সাময়িক পত্রিকা সচিত্র সন্ধানীতে আড্ডা দেওয়ার স্মৃতিচারণা করে রফিকুন নবী বলেন, সেই আড্ডায় কবি শামসুর রাহমান, কথাশিল্পী শওকত ওসমানসহ অনেকে আসতেন। জমজমাট আড্ডা হতো। কখনো শিল্প–সাহিত্য নিয়ে কথা হতো, কখনো হালকা কথা হতো, কখনো আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে কথা, কখনো দেশের রাজনীতি নিয়ে কথা হতো। যেকোনো আড্ডায় দেশের রাজনীতির কথাটা তখন বেশি হতো। সেই আড্ডা থেকে তাঁর বয়সীরা আলোকিত হতেন। সেই আলোকে নিজেদের তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। ওই আড্ডাগুলো যদি না থাকত, ওই মেশামিশি যদি না থাকত, ওই ঘনিষ্ঠতা যদি না থাকত, তাহলে আজকের তিনি (রফিকুন নবী) শুধু না, অনেক শিল্পী এত দূর আসতে পারতেন না।

দর্শনার্থীদের এক প্রশ্নের জবাবে চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী বলেন, এখন নতুন প্রযুক্তি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রাধান্য পাচ্ছে। এআই দিয়ে যাঁরা ইলাস্ট্রেশন করছেন, তাঁদের কাজের ধরন প্রায় এক রকমই। ড্রয়িং যেটা এআই থেকে বেরিয়ে আসে—এক রকমের, একই ধরনের। সেটা এখন পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে গৃহীত হয়েছে বলে তাঁর মনে হয় না। কারণ, শিল্পীর হাত থেকে বেরোনো আর এআইকে প্রোগ্রাম করে বের করা—দুটি আলাদা ঘটনা। তারপরও কাজটা হচ্ছে, এটা বড় কথা।

বক্তব্য দেন প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ। রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়। ১৬ মে

এ আয়োজনে প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বলেন, এআইয়ের নিশ্চয় অনেক ভালো দিক আছে। যে ছবিগুলো আঁকা আছে, সেখান থেকে একটা সাধারণ ধারণা নিয়ে আঁকে এআই। ফলে সব ছবি একই রকম হয়। এটা হয়তো একসময় সৃজনশীল জায়গায় গিয়ে পৌঁছাবে। তবে এখন পর্যন্ত সে জায়গায় পৌঁছায়নি।

একটা সময় শিল্পীদের সঙ্গে কবি-সাহিত্যিকদের নিবিড় সম্পর্ক ছিল বলে শিল্পী সব্যসাচী হাজরা বলেন, এখন সেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন। যার নেতিবাচক প্রভাব এখন কাজের মধ্যে পড়ছে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়। ১৬ মে

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সিটি ব্যাংক নিবেদিত কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার ২০২৫–এর জন্য বই আহ্বান করা হচ্ছে। আগ্রহীদের আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিল্পী রফি হক, লেখক ও সাংবাদিক সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম।

Read full story at source