জয়ের পথে ৩টি ‘কাঁটা’ বাংলাদেশের সামনে
· Prothom Alo

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ২৭৮ ও ৩৯০। পাকিস্তান: ২৩২ ও ৮৬ ওভারে ৩১৬/৭ (রিজওয়ান ৭৫*, মাসুদ ৭১, বাবর ৪৭; তাইজুল ৪/১১৩, নাহিদ ২/৫৮, মিরাজ ১/৬২)। —চতুর্থ দিন শেষে।
তৃতীয় দিন শেষে বেশ মিষ্টি–মধুর পরিস্থিতি ছিল। জিততে হলে পাকিস্তানকে করতে হবে ৪৩৭ রান। অর্থাৎ চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়ার বিশ্ব রেকর্ড গড়ে জিততে হবে। অনেকে তো ভেবেছিলেন, আজ চতুর্থ দিনেই টেস্টের ফল হয়ে যাবে। সেটা না হলেও খুব বেশি বাকিও নেই। শুধু মোহাম্মদ রিজওয়ানই থেকে গেছেন বাংলাদেশের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬। জিততে হলে আরও ১২১ রান করতে হবে। বাংলাদেশের চাই আরও ৩ উইকেট। এমন সমীকরণে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ জয়ের সুবাসই পাচ্ছে। রিজওয়ান এক প্রান্তে ৭৫ রানে অপরাজিত, অন্য প্রান্তে সাজিদ খান ৮ রানে।
Visit cat-cross.com for more information.
টেস্টের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে এত রান তাড়া করে জয়ের নজির নেই। এ কারণে তৃতীয় দিন শেষে মনে হয়েছিল এই ম্যাচে পাকিস্তানের হার শুধুই সময়ের ব্যাপার এবং সেটাও হতে পারে ম্যাড়মেড়ে হার। কিন্তু দুটি জুটিতে ভর করে সেই ভাবনা পাল্টে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল পাকিস্তান। পাশাপাশি চতুর্থ দিনে পাটা হয়ে ওঠা সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের উইকেট ও বাংলাদেশের বোলারদের মাঝেমধ্যে অকার্যকর বোলিংয়েরও ভূমিকা আছে। তবে এটাও সত্য, পাটা উইকেটে সারা দিন ভালো জায়গায় বোলিংয়ের পুরস্কারও পেয়েছে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের পাল্টা প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা দুটি জুটির। তৃতীয় উইকেটে শান মাসুদ–বাবর আজমের ৯২ রানের জুটি এবং ষষ্ঠ উইকেটে রিজওয়ান–সালমানের ১৩৪ রানের জুটি পাকিস্তানকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল। পতনের শুরুটা হয় রিজওয়ান–সালমানের জুটি ভাঙার পর।
রিজওয়ান–সালমানের জুটি মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিলশেষ সেশনে পড়ন্ত বিকেলে তাইজুলের স্ট্রেট ডেলিভারিতে বোকা বনে বোল্ড হন ৭১ রান করা সালমান। এরপর ক্রিজে পেসার হাসান আলী ব্যাট করতে এলেও খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর সেঞ্চুরি আছে, যদি টিকে যান তাহলে তো দুশ্চিন্তা! কিন্তু সালমান আউট হওয়ার ১০ বলের মধ্যে হাসানকেও ফেরান তাইজুল। পাকিস্তানের স্কোর তখন ৭ উইকেটে ৩০৪। শেষ সেশনে পড়ন্ত বিকেলে তাইজুলের এ দুটি উইকেটই আসলে পাকিস্তানের পাল্টা প্রতিরোধ ভেঙে ম্যাচটা ঘুরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের দিকে।
বাবরকে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নাহিদ, ‘সব ব্যাটসম্যানকে আউট করতেই মজা লাগে’তবে এই হেলে পড়ানোর পেছনে ভিতটা লিটন দাসের। সেটা কিপিং–গ্লাভস হাতে। দ্বিতীয় সেশনে বাবর–মাসুদের জুটি ভাঙায় স্কোরবোর্ডে উইকেটশিকারি হিসেবে তাইজুলের নাম লেখা থাকলেও ওটা আসলে লিটনের ‘উইকেট’। তাইজুলের বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে যাওয়ার সময় বাবরের ব্যাট ছুঁয়েছিল। নিচু হয়ে আসা ক্যাচটি নেন অবিশ্বাস্য দক্ষতায় নেন লিটন। ৪৭ রানে আউট হওয়া বাবর ক্রিজে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
শেষ সেশনে যখন রিজওয়ান–সালমানের জুটি ক্রমেই বড় হয়ে চোখ রাঙাচ্ছিল, তখন বাংলাদেশ আসলেই একটু দুশ্চিন্তায় পড়েছিল। শেষ সেশনে নতুন বল নেওয়ার পর সেই তাইজুলই দারুণ এক স্ট্রেট ডেলিভারিতে জুটিটি ভাঙেন।
দিনের সেরা বোলার ৪ উইকেট নেওয়া তাইজুলসকালের সেশনে পাকিস্তানের শুরুটা অবশ্য একদম খারাপ ছিল না। ২৪ ওভারে ২ উইকেটে ১০১ রান তুলেছে। দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজলকে দলীয় ৪১ রানের মধ্যে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানা।
১১৩ রানে ৪ উইকেট নেওয়া তাইজুলই চতুর্থ দিনের সেরা বোলার। পাটা উইকেটে ধৈর্য ধরে টানা ভালো বল করার পুরস্কার পেয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। ২ উইকেট নেওয়া নাহিদের শিকার ফজল ও সৌদ শাকিল।
পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে ২৮ বলে ৩৮ রান করেছিলেন সাজিদ। আগামীকাল শেষ দিনে সকালের সেশনেও সাজিদ সে রকম কিছু খেলে ফেললে কিংবা ক্রিজে জমে গেলে বাংলাদেশের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। সকালের সেশনে রিজওয়ান–সাজিদের জুটি ভাঙাই হবে বাংলাদেশের প্রথম লক্ষ্য। বিশেষ করে রিজওয়ানকে দ্রুত ফেরাতে পারলে জয়ের আরও কাছে চলে যাবে বাংলাদেশ।