অ্যাপলের পরিচয়ে ভুয়া সতর্কবার্তা পাঠিয়ে আইফোন ব্যবহারকারীদের অর্থ চুরি
· Prothom Alo

আইফোন ব্যবহারকারীদের ভুয়া ‘অ্যাপল হাই অ্যালার্ট’বার্তা পাঠিয়ে অর্থ চুরি করছে একদল প্রতারক। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে ২৪ হাজার ডলার খুঁইয়েছেন এক নারী। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমে আইফোনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ব্যবহারকারীদের কাছে অ্যাপলের নামে ভুয়া সতর্কবার্তা পাঠিয়ে আতঙ্ক তৈরি করছে একদল প্রতারক। পরে সমস্যা সমাধানের কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় তারা।
প্রতারণার শিকার পেনসিলভানিয়ার ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টির বাসিন্দা বারবারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তাঁর ফোনে ‘অ্যাপল হাই অ্যালার্ট’ শিরোনামের একটি বার্তা আসে। সেখানে দাবি করা হয়, তার ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ সরানো হয়েছে। যদি তিনি নিজে সেই লেনদেন না করে থাকেন, তাহলে দ্রুত একটি নির্দিষ্ট ফোননম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। বার্তাটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে তিনি নম্বরটিতে ফোন করেন। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে সহায়তাকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, তাঁর ব্যাংক হিসাব হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। অর্থ নিরাপদ রাখতে হলে দ্রুত একটি ‘সুরক্ষিত’ হিসাবে টাকা স্থানান্তর করতে হবে। সেই কথায় বিশ্বাস করে বারবারা নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ তুলে প্রতারকদের দেওয়া অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন, পুরো ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত প্রতারণা।
Visit moryak.biz for more information.
স্থানীয় পুলিশ বিভাগের তথ্যমতে, বারবারার পাঠানো অর্থ একটি ভুয়া অনলাইন ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়েছিল। এরপর মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই সেই অর্থ চীনের একটি ব্যাংক হিসাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই এমন অভিযোগ আসছে, যেখানে মানুষকে বলা হয় তাদের অর্থ ঝুঁকিতে রয়েছে এবং সেটি নিরাপদ রাখতে দ্রুত অন্য হিসাবে পাঠাতে হবে।
এ ধরনের প্রতারণাকে ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, প্রতারকেরা সাধারণত পরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধি সেজে ব্যবহারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফোনকল, বার্তা বা ই–মেইলের মাধ্যমে তারা ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি করে ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের লগইন তথ্য, নিরাপত্তা কোড বা ব্যাংক–সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হয়।
প্রযুক্তি–বিশেষজ্ঞদের মতে, ভয় বা জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাপ সৃষ্টি করা অনলাইন প্রতারণার অন্যতম পরিচিত কৌশল। তাই সন্দেহজনক বার্তা বা ফোনকল পেলে আতঙ্কিত না হয়ে তথ্য যাচাই করা জরুরি। কোনো অবস্থাতেই অপরিচিত ব্যক্তি বা অচেনা বার্তার নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থ স্থানান্তর বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া উচিত নয়।
সূত্র: ডেইলি মেইল