মঙ্গল গ্রহে পাথরের অদ্ভুত স্তূপ কোথা থেকে এল, কারা রাখল

· Prothom Alo

লাল গ্রহ মঙ্গলকে ঘিরে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এই গ্রহের রুক্ষ ও শুষ্ক মরুভূমির বুকে লুকিয়ে আছে কোটি কোটি বছরের প্রাচীন ইতিহাস, যা জানার জন্য প্রতিনিয়ত গবেষণা চলছে। সম্প্রতি নাসার পারসিভারেন্স রোভার মঙ্গল গ্রহে অদ্ভুত গঠনের পাথরের সন্ধান পেয়েছে, যা দেখতে একটির ওপর আরেকটি খাড়াভাবে স্তূপ করে রাখা পাথরের মতো। এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই মঙ্গলের ভূতত্ত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

১৩ মে রোভারের উঁচুতে বসানো অত্যাধুনিক মাস্টক্যাম-জেড ক্যামেরার সাহায্যে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, পাথরগুলো এমন সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো রয়েছে, যেন মনে হয় কেউ হাত দিয়ে একটির ওপর আরেকটি স্তূপ করে রেখেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, লাখ লাখ বছর ধরে তীব্র বাতাস এবং পরিবেশগত প্রতিকূলতার কারণে পাথরগুলোর ক্ষয় হয়েছে। এর ফলে পাথর উপরিভাগ অসম বা আঁকাবাঁকা আকার ধারণ করে সেগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। আসলে এগুলো আলাদা কোনো পাথরের স্তূপ নয়, একটিমাত্র বিশাল পাথর যা কোনো কারণে ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। আর মঙ্গলের তীব্র বাতাস লাখ লাখ বছর ধরে এই ভাঙা পাথরগুলোকে এমন অদ্ভুত রূপ দিয়েছে।

Visit somethingsdifferent.biz for more information.

প্রাচীনকালে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ আজকের মতো ছিল না। সেই সময়ে এই গ্রহে প্রবহমান নদী বা পানির ধারা, পরিবর্তনশীল আবহাওয়া এবং বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া সক্রিয় ছিল। এর আগে নাসার কিউরিওসিটি রোভারের করা বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মঙ্গলের বর্তমান ভূপ্রকৃতি গঠনে সেখানকার তীব্র ও চরম বাতাস প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। সেখানে প্রতিনিয়ত বিশাল বিশাল পাথুরে এলাকাকে ক্ষয় করে চলেছে। মঙ্গলের প্রাচীন নদীতে বা নদীর তলদেশগুলোও একসময় এই বড় বড় পাথরের খণ্ডকে ভাঙতে এবং স্থানান্তরিত করতে সাহায্য করেছিল।

নাসার মঙ্গল মিশন অতীতেও এমন অনেক ছবি পাঠিয়েছে, যা প্রথম দেখায় মানুষকে চমকে দিয়েছিল। রোভারের পাঠানো ছবিতে মঙ্গলের বুকে অদ্ভুত আকৃতির বস্তু, বিচিত্র নকশা এবং ডোরাকাটা পাথর দেখা গেছে। এসব ছবি ইন্টারনেট–দুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে অনেকবার। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৭৬ সালে নাসার ভাইকিং মিশনের সময়। ভাইকিং এমন একটি ছবি পাঠিয়েছিল, যা দেখতে হুবহু মানুষের বিশাল মুখের অবয়বের মতো লাগছিল। পরবর্তী সময়ে উন্নত প্রযুক্তির ছবিতে প্রমাণিত হয় যে সেটি আসলে একটি সাধারণ পাথরের স্তূপ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। পারসিভারেন্স রোভারও এর আগে এমন অনেক ছবি পাঠিয়েছে, যা প্রথম দেখায় অদ্ভুত লাগলেও পরে সাধারণ ভূতাত্ত্বিক গঠন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

মঙ্গল গ্রহের একটি বিশাল অংশ এখনো অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। পারসিভারেন্সের মতো রোভারগুলোই এখন মঙ্গলের মাটিতে আমাদের গবেষণার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। প্রতিটি ছবি এবং স্ক্যান পৃথিবীতে তথ্য পাঠাচ্ছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলের পরিবর্তনের রহস্য বুঝতে সাহায্য করছে। বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক যেকোনো অচেনা কাঠামোর মধ্যে পরিচিত কোনো রূপ খোঁজার চেষ্টা করে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় প্যারেডোলিয়া বলা হয়। কিন্তু প্রকৃতির নিজস্ব প্রকৌশল যে মানুষের কল্পনার চেয়েও নিখুঁত হতে পারে, এই পাথর তারই প্রমাণ।

সূত্র: টেক্লুসিভ নিউজ

Read full story at source