ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জলাতঙ্কের টিকা দিতে টাকা চাওয়ার অভিযোগে নার্স বরখাস্ত
· Prothom Alo

জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার জন্য রোগীর স্বজনের কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোর্শেদা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ রোববার নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (উপসচিব) দিল আফরোজা স্বাক্ষরিত আদেশে তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর আগে শনিবার রাতে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন নোমান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার তদন্তে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মহি উদ্দীনকে প্রধানসহ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
Visit betsport24.es for more information.
মোর্শেদা আক্তার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরদেওকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অব্যাহতির আদেশে উল্লেখ করা হয়, একটি অনলাইন নিউজ চ্যানেলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এতে প্রতীয়মান হয়, জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার জন্য রোগীর স্বজনের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল এবং টাকা না দেওয়ায় রোগীকে সময়মতো টিকা না দিয়ে হয়রানির অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় লোকজন ও রোগীর স্বজনদের ভাষ্য, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার বিশারাবাড়ি এলাকার দুই শিশু আবদুল্লাহ (৪) ও খাদিজাকে (৩) বিড়ালে কামড় দেয়। তাদের চাচা সাব্বির মিয়া রাত আটটার দিকে দুই শিশুকে নিয়ে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মোর্শেদা আক্তার জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার জন্য ২০০ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে রোগী ও স্বজনদের কক্ষে আটকে রাখেন। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, সিনিয়র স্টাফ নার্স মোর্শেদা আক্তার রোগীর স্বজনদের উদ্দেশে ক্ষোভ দেখিয়ে বলছেন, ‘১০০ টাকা কি আপনার জন্য বেশি হয়ে যায়? আপনি দেন দেন বলছেন, আমি তো ভাবছি আপনি টাকা দেবেন। কিন্তু কেন আপনি টাকা দিচ্ছেন না? এখানে ইনজেকশন দেওয়ার নিময় নাই। আপনি তাহলে নিচ থেকে কেন দিয়ে আনলেন না। আমি যে দিয়ে দিলাম এটার কোনো মানবতা নাই। আপনি টাকা দিবেন বলে তো দেন নাই।’ একপর্যায়ে তিনি রোগীসহ স্বজনদের চলে যেতে বলেন।
ভুক্তভোগী শিশুদের চাচা সাব্বির বলেন, ‘ভাতিজা ও ভাতিজিকে বিড়াল কামড় দিলে রাতেই হাসপাতালে যাই। শুরুতে টিকা দিতে কিছুটা অনীহা দেখান ওই নার্স। পরে অনুরোধ করার পর টিকা দেন। কিন্তু টিকা দেওয়ার পরপরই তিনি ২০০ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আজেবাজে কথা বলতে থাকেন এবং একপর্যায়ে আমাদের আটকে রাখেন। ভাই এসে টাকা দিবে বললেও তিনি এতে রাজি হননি।’
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, শনিবার বিষয়টি জানার পরপর ওই সিনিয়র স্টাফ নার্সকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। নার্সিং ও মিডওয়াফারি অধিদপ্তরও তাঁকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে বিভাগীয় মামলা হবে।