পাঁচ বছরেও কেন কাজ শেষ হলো না
· Prothom Alo

একটি ২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ছোট সেতু নির্মাণে কত বছর সময় লাগতে পারে? টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাঁকড়ার খালের ওপর এলজিইডি কর্তৃক নির্মাণাধীন সেতুটির কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, ২০২৬ সালের মাঝামাঝিতে এসেও তার মাত্র অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারের খামখেয়ালি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে সেখানে যে জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে, তা মানা যায় না।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ২ কোটি ২৮ লাখ টাকার এই সেতু করটিয়াপাড়া, কালিদাস, বহুরিয়া ও চতলবাইদ এলাকার হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থায়নে নির্মিত বাঁশের অস্থায়ী মাচা দিয়ে এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। খালের দুই পাশে অটোরিকশার পৃথক স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় সাধারণ যাত্রীদের এক পাশে নেমে হেঁটে পার হয়ে অন্য পাশে গিয়ে আবার গাড়ি ধরতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন ওই অঞ্চলের কৃষকেরা। ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে বেশি ভাড়ায় তাঁদের কৃষিপণ্য জেলা ও উপজেলা শহরে নিতে হচ্ছে। সখীপুর থেকে চতলবাইদ পর্যন্ত আট কিলোমিটারের নতুন সড়কটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে নির্মাণ করা হলেও মাঝখানের এই ২৫ মিটারের সেতুর জন্য পুরো সড়কটিই এখন অব্যবহৃত ও অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। জনগণের কোটি কোটি টাকার করের টাকায় নির্মিত সড়ক কীভাবে একটি সেতুর অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে, তা ভাবলে অবাক হতে হয়।
এই দীর্ঘসূত্রতার পেছনে যে ‘ঠিকাদারি সংস্কৃতির’ চিত্র উঠে এসেছে, তা আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পের এক চেনা ব্যাধি। মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়ে তা অন্য একজনের কাছে ‘বিক্রি’ করে দেয়। এরপর রাজনৈতিক অস্থিরতা, মামলা বা ব্যক্তিগত অপারগতার অজুহাতে বছরের পর বছর কাজ ফেলে রাখা হয়। এলজিইডির কর্মকর্তারা বলছেন, ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দিয়েও কাজ করানো যায়নি এবং এখন নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রশ্ন হলো, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করা এবং বছরের পর বছর প্রকল্প ঝুলিয়ে রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অপরাধে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কেন এত দিন কোনো শাস্তিমূলক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? কেন তাদের কালোতালিকাভুক্ত করা হলো না? আমাদের দেশে ঠিকাদারদের এই দায়হীনতা ও পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতিই মূলত এ ধরনের অরাজকতাকে টিকিয়ে রাখছে।
আমরা আশা করি, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করবে এবং জরুরি ভিত্তিতে সেতুর বাকি কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেবে।