দৌলতপুর সীমান্তে শূন্যরেখায় অসুস্থ হয়ে পড়ছেন ১২ নারী-পুরুষ-শিশু, পতাকা বৈঠকেও সমাধান আসেনি
· Prothom Alo

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে খেতের আইলে অবস্থান করা পুশ ইনের শিকার শিশুসহ ১২ নারী–পুরুষ ভারতীয় নয় বলে দাবি করেছে বিএসএফ। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সীমান্তে দুই দেশের পতাকা বৈঠকে বিএসএফ এই দাবি করে। তবে তাদেরকে কঠোর বার্তা দিয়েছে বিজিবি। বিজিবি বলেছে, পুশ ইন বিএসএফ করে। তাদেরকেই ওই মানুষদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
Visit extonnews.click for more information.
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তের ১৫০/৩ এস পিলারের কাছে এই পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আধা ঘণ্টা বৈঠকের পর বিএসএফ তাদের সীমানায় চলে যায়। পতাকা বৈঠকের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়ানের আওতায় প্রাগপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আসাদুজ্জামান।
‘পুশ ইন’ চেষ্টার শিকার ১২ জনের রাত কাটল কুষ্টিয়ার শূন্যরেখার কাছেএদিকে শনিবার বিকেল চারটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১২ জন নারী–পুরুষ ও শিশুরা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে পাটখেতের আইলে অবস্থান করছেন। শারীরিকভাবে তাঁরা প্রায় সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে চারজন শিশু প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাঁরা গতকাল যেখানে ছিলেন, সেখান থেকে কয়েক গজ সামনে পিলারের দিকে পাটখেতের আইলে একটি শিমুলগাছের নিচে বসে আছেন।
গতকাল শুক্রবার ভোর পাঁচটায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে তাঁদের প্রবেশ ঠেকিয়ে দেয় বিজিবি ও সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলার এলাকায় বিএসএফ ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শূন্যরেখায় অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন পুরুষ, চারজন নারী এবং চারটি শিশু রয়েছে। বর্তমানে ওই ১২ জন ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরের অংশে শূন্যরেখার কাছাকাছি একটি মাঠের খেতের মধ্যে অবস্থান করছেন। বিজিবি জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিরা যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় সীমান্তবাসীরাও সহযোগিতা করছেন।
শূন্যরেখায় অপেক্ষমাণ শিশুদের অবস্থা দেখে এক কৃষক কেঁদে ফেলেছেন। স্থানীয় লোকজনের পক্ষ থেকে কৌশলে ওই ১২ জনকে বিস্কুট, পাউরুটি, দুধ ও কলা পানি দেওয়া হয়েছে। তিনবেলা খাবারের জন্য কিছু না কিছু দেওয়া হচ্ছে। মানবিক দিক থেকে স্থানীয় লোকজন এটা করছেন।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ একপর্যায়ে জানিয়েছে, তারা যাচাই করছে এই মানুষেরা তাঁদের নাগরিক কি না। যদি তাঁদের নাগরিক হন, তবে নিয়ে ফেরত নেওয়া হবে। আর এই যাচাই কবে কখন করবে, পতাকা বৈঠক আবার কখন হবে, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি। বিজিবির এক কর্মকর্তা পরিচয় না বলার শর্তে জানান, ‘যেহেতু আমরা পুশ ইন করিনি, সেহেতু তাদের পরিচয় যাচাই করছি না।’