গাজীপুরে পানিবন্দী হাজারো পরিবার, খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন

· Prothom Alo

টানা তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার অন্তত ছয়টি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

Visit extonnews.click for more information.

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, এসব এলাকার কোথাও কোথাও ডুবে গেছে সড়ক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে পুরো এলাকা। দুর্ভোগে পড়া অনেক মানুষ রাত থেকে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু সড়কে।

গত সোমবার ভোররাতে টানা বৃষ্টির পর আজ বুধবার সকালেও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যায়। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজব্যবস্থা ও পানি ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে পানি নামতে সময় লাগছে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ও জলাধার দখল এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজব্যবস্থার কারণে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তাঁদের দাবি, সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমির কিছু স্থাপনা নির্মাণের ফলে মহাসড়কের নিচের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আশপাশের এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

গত সোমবার ভোররাতে টানা প্রায় তিন ঘণ্টা বৃষ্টির পর কালিয়াকৈর পৌরসভার হরিণহাটি, হাবিবপুর, বিশ্বাসপাড়া, রূপনগর, শিয়ালপাড়া ও পূর্ব চান্দরা ছাপড়া মসজিদসংলগ্ন এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সোমবার ভোররাতে টানা প্রায় তিন ঘণ্টা বৃষ্টির পর কালিয়াকৈর পৌরসভার হরিণহাটি, হাবিবপুর, বিশ্বাসপাড়া, রূপনগর, শিয়ালপাড়া ও পূর্ব চান্দরা ছাপড়া মসজিদসংলগ্ন এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বসতবাড়ি, মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ে। বৃষ্টির ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক এলাকায় পানি নামেনি।

ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমির ৩ নম্বর গেট থেকে হরিণহাটি এপেক্স পর্যন্ত সড়কের অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় পানি ঢোকায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। অনেকেই শিশুসন্তান নিয়ে রাতে আঞ্চলিক সড়কে আশ্রয় নেন।

বিশ্বাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমান পরিবার–পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে আঞ্চলিক সড়কে। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির পানিতে বাড়িতে কোমরসমান পানি। সব আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। বাজার থেকে রাতে শুকনা খাবার নিয়ে এসছিলাম। সেগুলিই খেয়ে রাস্তার মধ্যে কোনো রকমে শুয়ে কাটিয়েছি।’

এইচ এম ফখরুল হোসাইন, কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকয়েকটি স্থানে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলছে এবং বিভিন্ন এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। ভরাট হয়ে যাওয়া ড্রেন ও খাল খননের উদ্যোগও নেওয়া হবে।

পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডাইনকিনি ও হরতকিতলা এলাকায় প্রধান সড়ক, শতাধিক দোকানপাট, স্কুল ও ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে আছে। আকস্মিকভাবে পানি ঢোকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও ডাইং কারখানার দূষিত পানি ও আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

হাবিবপুর এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাঁদের এলাকার শতাধিক পরিবার ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেক কারখানার শ্রমিক কোমরপানি মাড়িয়ে কাজে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

বিশ্বাসপাড়ার ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বলেন, ‘প্রায় দুই দিন হয়ে গেল, এখনো বাড়ি থেকে পানি নামেনি। রান্নাবান্না করতে পারছি না। দোকানের মালামালও নষ্ট হয়ে গেছে। পরিকল্পিতভাবে ড্রেন ও খাল সংস্কার না করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, পৌরসভার খালগুলো পানি ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। কয়েকটি স্থানে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলছে এবং বিভিন্ন এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। ভরাট হয়ে যাওয়া ড্রেন ও খাল খননের উদ্যোগও নেওয়া হবে।

Read full story at source