নওগাঁয় বাগান পরিদর্শন, আম আমদানিতে আগ্রহী জাপানের ব্যবসায়ীরা

· Prothom Alo

নওগাঁর পোরশা উপজেলার বন্ধুপাড়া এলাকার একটি রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শন করেছেন জাপানের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল। আজ শুক্রবার আমবাগান পরিদর্শন শেষে নিরাপদ আম উৎপাদন নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আম আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন।

Visit biznow.biz for more information.

ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্ম পরিদর্শন শেষে জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সদস্য কাওয়ামতু বলেন, জাপানে আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে জাপানে আম আমদানির জন্য তাঁরা বাংলাদেশে জাপানের দূতাবাসের আমন্ত্রণে রাজশাহী ও নওগাঁ অঞ্চলে রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শনে এসেছেন। এখন জাপানের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ থেকে আম রপ্তানির বিভিন্ন পর্যায় যাচাই-বাছাই চলছে। সব ঠিক থাকলে জাপান বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আম নেবে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁরা নওগাঁর পোরশায় রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শনে এসেছেন।

কাওয়ামতু আরও বলেন, ‘আমরা জেনেছি, নওগাঁর আম অত্যন্ত আম সুমিষ্ট ও সুস্বাদু। এ এলাকার আমগুলো কতটা রপ্তানিযোগ্য, তা যাচাই করতে এখানে জাপানের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা এসেছি। বাংলাদেশে উৎপাদিত সুস্বাদু ফ্রেশ আম আমরা জাপানে বাজারে নিতে চাই।’

জাপানি ওই প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন জাপানি ব্যবসায়ী সাকাকিবারা, ইশিমটু ও শিগিমরি। এ ছাড়া পরিদর্শনের সময় জাপানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আবু সাঈদ নামের বাংলাদেশের এক আম রপ্তানিকারক ছিলেন। এর আগে জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের এই সদস্যরা নওগাঁ ছাড়াও রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শন করেন।

জাপানি ব্যবাসায়ী প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শন ছাড়াও তাঁরা কয়েকটি জেলায় আম গ্রেডিং, শর্টিং ও শোধনকেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখছেন। পরিদর্শন শেষে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে আম আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন। এতে খুশি বাগানমালিক ও উদ্যোক্তারা। জাপানে আম রপ্তানি দেশের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দেবে।

রাজশাহী ও নওগাঁ অঞ্চলে রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শনে এসেছেন জাপানের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল

বাগান পরিদর্শনের সময় ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক রায়হান সিদ্দিক ছাড়াও স্থানীয় আমচাষি আকরাম হোসেন, শহিদুল, সালাউদ্দিন, পোরশা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

রায়হান সিদ্দিক তাঁর বাগানে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে জাপানি প্রতিনিধিদলকে ধারণা দেন। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে নওগাঁ থেকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের আম যাচ্ছে। গত বছর থেকে চিনের বাজারেও আম রপ্তানি হওয়া শুরু হয়েছে। তবে এ বছর প্রথম জাপানের বাজারে দেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জাপানে আম রপ্তানি হলো আমচাষিরা অনেক লাভবান হবেন।

অপর আমচাষি সালাউদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে আম কিনতে আগ্রহী জাপানের ব্যবসায়ীরা। এটা কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য খুশির খবর। কোনো তৃতীয় পক্ষ ছাড়া সরাসরি বাগান থেকে জাপানে আম রপ্তানি করতে পারলে আমাদের মতো চাষিদের নিশ্চিত হবে ন্যায্যমূল্য।’

পোরশা উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। উত্তম কৃষিচর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে নিরাপদ আমের উৎপাদন কার্যক্রম দেখার জন্য ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূতের নির্দেশনায় জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পোরশার বন্ধুপাড়ার এই বাগান পরিদর্শন করেছে। জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল আমবাগানটি পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির আমবাগান থেকে ৩ লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Read full story at source