বাংলাদেশি নোভাস ক্লিনিক্যাল রিসার্চকে কিনে নিল কানাডার সোমরু বায়োসায়েন্স

· Prothom Alo

বাংলাদেশি চুক্তিভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (সিআরও) নোভাস ক্লিনিক্যাল রিসার্চ সার্ভিসেসের শতভাগ শেয়ার কিনে নিয়েছে কানাডাভিত্তিক জৈবপ্রযুক্তি (বায়োটেকনোলজি) কোম্পানি ও ওষুধ গবেষণা সংস্থা ‘সোমরু বায়োসায়েন্স ইনকরপোরেটেড’। কানাডীয় এই প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ শাখা—সোমরু বায়োসায়েন্স (বিডি) লিমিটেডের মাধ্যমে এই অধিগ্রহণপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সোমরু বায়োসায়েন্স।

Visit michezonews.co.za for more information.

তবে কত টাকায় প্রতিষ্ঠানটি কিনে নেওয়া হয়েছে তা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। এই বিনিয়োগ বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) হিসেবে গণ্য হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি সমন্বিত বৈশ্বিক ক্লিনিক্যাল গবেষণা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই কৌশলগত অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সোমরু বায়োসায়েন্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত জৈব-বিশ্লেষণাত্মক (বায়োঅ্যানালিটিক্যাল) প্রযুক্তি, রোগপ্রতিরোধক্ষমতা (ইমিউনোজেনিসিটি) ও বায়োমার্কার মূল্যায়ন এবং নীতিগত সহায়তার সঙ্গে নোভাসের স্থানীয় ক্লিনিক্যাল গবেষণা সক্ষমতার মিশ্রণ ঘটবে। এর ফলে এই অঞ্চলে নতুন ওষুধ, প্রতিষেধক (ভ্যাকসিন) ও বায়োসিমিলার বা জৈব-অনুরূপ ওষুধ উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে।

সোমরু বায়োসায়েন্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ মঈন বলেন, ‘এই চুক্তি কানাডা ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি অর্থবহ সংযোগ তৈরি করেছে, যা বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে, প্রযুক্তি স্থানান্তর সহজতর করবে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে। এই উদ্যোগের ফলে কানাডায় আমাদের আন্তর্জাতিক কাজের পরিধি যেমন বাড়বে, তেমনি বৈশ্বিক চিকিৎসা গবেষণার (ক্লিনিক্যাল গবেষণা) ইকোসিস্টেমে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।’

মোহাম্মদ মঈন আরও জানান, অধিগ্রহণের পর বাংলাদেশে মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (কোয়ালিটি সিস্টেম), দক্ষ জনবল তৈরি, পরীক্ষাগার আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের পেছনে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সোমরুর। এর মাধ্যমে নোভাসকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, বায়োইকুইভ্যালেন্স স্টাডি ও কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগার (সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরি) সেবার জন্য একটি আঞ্চলিক ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ বা উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

সোমরু বায়োসায়েন্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা রফিক ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসা গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় বৈচিত্র্যময় রোগী বাংলাদেশে সহজে পাওয়া যায়, যা আন্তর্জাতিক গবেষক ও প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় একটি সুযোগ। নোভাসের মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা আর সোমরুর বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা একসঙ্গে হওয়ায় আমরা আরও সহজে বিশ্বমানের ক্লিনিক্যাল তথ্য-উপাত্ত তৈরি করতে পারব। এটি মূলত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত মানুষের জন্য নতুন ও কার্যকর ওষুধ উদ্ভাবনে দারুণ ভূমিকা রাখবে।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্বের বৃহত্তম বায়োটেকনোলজি সম্মেলন ‘বায়ো ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন’-এ সোমরু-এর অংশগ্রহণের প্রস্তুতির প্রাক্কালে এই বড় অধিগ্রহণের ঘোষণাটি এল।

কানাডার প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ডে সোমরু বায়োসায়েন্সের প্রধান কার্যালয়। বর্তমানে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নতুন ওষুধ আবিষ্কার, প্রাক্‌-ক্লিনিক্যাল ও ক্লিনিক্যাল উন্নয়ন এবং রেগুলেটরি কনসাল্টিং সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে ঢাকাভিত্তিক নোভাস ক্লিনিক্যাল রিসার্চ দীর্ঘদিন ধরে দেশে মানুষের শরীরে ওষুধের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা পরীক্ষা (ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ব্যবস্থাপনা), সমমানের ওষুধের কার্যকারিতা তুলনা (বায়োইকুইভ্যালেন্স স্টাডি) এবং অণুজীববিজ্ঞান (মলিকুলার বায়োলজি সলিউশন) নিয়ে কাজ করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অধিগ্রহণপ্রক্রিয়া ও যাবতীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে নোভাস ক্লিনিক্যাল রিসার্চ সার্ভিসেস সোমরুর বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার উদীয়মান বাজারের গ্রাহকদের সেবা প্রদান করবে।

Read full story at source