শিশুর জ্বরে কখন ও কীভাবে প্যারাসিটামল খেতে দেবেন
· Prothom Alo
শিশুর শরীর সামান্য গরম মনে হলেই অনেক মা-বাবা উদ্বিগ্ন হন। তাড়াহুড়ো করে প্যারাসিটামল খাওয়ানো শুরু করেন। অনেক সময় তাপমাত্রা না মেপেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় এবং শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রথমেই জানা জরুরি শিশুকে কখন প্যারাসিটামল দেওয়া উচিত।
Visit tr-sport.click for more information.
কখন শুরু করবেন প্যারাসিটামল
শরীরের তাপমাত্রা ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলেই প্যারাসিটামল প্রয়োজন হয়। এর মাত্রা নির্ধারিত হয় শিশুর ওজনের ভিত্তিতে, বয়সের ভিত্তিতে নয়। সাধারণ হিসাব প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রায় ১৫ মিলিগ্রাম।
উদাহরণ দেওয়া যাক তাহলে। প্রায় ৮ কেজি ওজনের একটি শিশুর জন্য সিরাপের পরিমাণ এক চা-চামচ অথবা পাঁচ মিলিলিটার আর ১৬ কেজি ওজনের শিশুর জন্য তা দ্বিগুণ অর্থাৎ দুই চা-চামচ। এই সিরাপ প্রতি ছয় ঘণ্টা অন্তর দেওয়া যায়। দিনে সর্বোচ্চ চারবার। যদি জ্বর ১০২ ডিগ্রি বা তার বেশি হয় ও শিশু সিরাপ খাওয়ার অবস্থায় না থাকে, তখন ওজন অনুযায়ী পায়ুপথে সাপোজিটরি দিতে পারেন আট ঘণ্টা অন্তর এক দিনে সর্বোচ্চ তিনবার।
ঝুম বৃষ্টির সেই দিনটাতেই বাবার সঙ্গে সম্পর্কের ধরনটা বদলে গিয়েছিলপ্যারাসিটামল কতটা নিরাপদ
নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান না মেনে বা অতিরিক্ত মাত্রায় প্যারাসিটামল দিলে শিশুর লিভার ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে। শিশুর শরীরে র্যাশ, ফুসকুড়ি, মুখ অথবা ঠোঁট ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘুম, খিঁচুনি বা জন্ডিসও হতে পারে। তাই এই ওষুধকে নিরাপদ মনে করে নিজের ইচ্ছামতো বারবার প্রয়োগ করাটা মোটেও উচিত নয়।
অ্যান্টিবায়োটিক কি জরুরি
আরেকটি বিষয়ে অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকে, তা হলো জ্বরের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিকের সম্পর্ক। শিশুর জ্বর হলেই অনেক মা-বাবা মনে করেন, দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক দিলেই সমস্যা মিটবে। বাস্তবতা হলো, শিশুদের অধিকাংশ জ্বরের কারণ ভাইরাসজনিত, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিকের ভূমিকা নেই। জ্বর এলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা প্রক্রিয়া, জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি অংশ। অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করলে তা শুধু শিশুর শরীরের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য নষ্ট করে না, ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স অথবা প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। এতে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনের সময় চিকিৎসা কঠিন করে তোলে।
শিশুর জ্বর হলে কী করবেন
শিশুর জ্বর হলে প্রথমেই তাপমাত্রা মেপে দেখুন। প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় প্যারাসিটামল দিন। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন না। জ্বর তিন দিনের বেশি থাকলে অথবা শিশুর অস্বাভাবিক দুর্বলতা, খিঁচুনি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
ডা. মানিক মজুমদার, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড, ময়মনসিংহ