প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা: মাহ্দী আমিন

· Prothom Alo

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত আবার চালু করা, অভিবাসন ব্যয় কমানো ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর নিয়ে আজ সোমবার দেশটির শাংগ্রি লা হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

Visit syntagm.co.za for more information.

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় ১৮ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গে বৈঠক করেন। সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আছেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানসহ ছোট একটি প্রতিনিধিদল। কুয়ালালামপুরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি।

সফরকালে আজ দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথমে একান্ত, পরে প্রতিনিধিদল পর্যায়ে বৈঠক হয় বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, বৈঠকে রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, শ্রমবাজার, শিক্ষা, পর্যটন, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। নয়টি বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ৩৩ দফার যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রযুক্তি পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ এবং হালাল পণ্যের সনদ, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষ জনবল তৈরিতে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা হয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কম খরচ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির অনুরোধ করেছেন তিনি। দেশটিতে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বা কারাগারে থাকা বাংলাদেশিদের মানবিকভাবে বৈধতা দেওয়া অথবা নিরাপদে দেশে ফেরানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

জ্বালানি খাতে এলএনজি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

সফরে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সন্ত্রাস দমনে দুটি ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ বিনিময় হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পার্ডুয়া ও এমএমসি পোর্টের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সব মিলিয়ে এ সফর দুই দেশের সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

Read full story at source