মেসি-রোনালদোর কি দেখা হতে পারে

· Prothom Alo

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে এর মধ্যেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের পর্ব নিশ্চিত করে ফেলেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

Visit forestarrow.help for more information.

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে শুরু করলেও উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে শেষ ৩২–এর পথে আছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালও। প্রশ্ন হচ্ছে, যদি দুই দলই পরের পর্ব নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে মেসি-রোনালদোর কি দেখা হতে পারে, হলে সেটি কোন পর্বে?

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের যে সমীকরণ, তাতে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের পর্বে ওঠে, তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা হতে পারে দুই দলের। সে ক্ষেত্রে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেখা হয়ে যাবে মেসি-রোনালদোর।

দুই দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে শেষ ৩২–এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এইচ’–এর রানার্সআপ দল। এই মুহূর্তে এই গ্রুপের দ্বিতীয় দল উরুগুয়ে। ওদিকে পর্তুগাল অবশ্য নিজেদের গ্রুপে আছে ২ নম্বরে, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হলে শেষ ম্যাচে হারাতে হবে কলম্বিয়াকে।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে শেষ ৩২–এ পর্তুগালের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ গ্রুপ ডি, ই, আই, জে, এলের ৩ নম্বরে থাকা দল। দুই দল যদি শেষ ৩২ ও শেষ ১৬–এর ম্যাচ জিততে পারে, তবেই কোয়ার্টারে মুখোমুখি হয়ে যাবেন মেসি ও রোনালদো। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল যদি দুই দলই গ্রুপে দ্বিতীয় হয়, তাহলে তাদের দেখা হতে পারত শেষ ১৬–তেই।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পর্তুগাল যদি গ্রুপ রানার্সআপ হয়, তাহলে কী হবে? তখন আবার দুই দল যদি নকআউট পর্বে জিতে এগিয়ে যায়, তাহলে ফাইনালের আগে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, জাতীয় দলে মেসি-রোনালদো কখনো একে অন্যের মুখোমুখি হয়েছেন?

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি যখন জাতীয় দলের জার্সিতে মুখোমুখি

হয়েছেন। এর আগে দুবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে একে অন্যের বিপক্ষে খেলেছেন মেসি-রোনালদো। প্রথমটি ২০১১ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক প্রীতি ম্যাচে। আনহেল দি মারিয়ার গোলে সেই ম্যাচে প্রথম এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ২০ মিনিটে রোনালদোর গোলে সমতা ফেরায় পর্তুগাল। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা, মেসি সেখান থেকে গোল করে দলকে এনে দেন জয়।

আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের পর্বে ওঠে, তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা হতে পারে দুই দলের। সে ক্ষেত্রে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেখা হয়ে যাবে মেসি-রোনালদোর।

সেই ম্যাচের তিন বছর পর ২০১৪ সালে আবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। এবারও প্রীতি ম্যাচে, ভেন্যু রোনালদোর একসময়ের ঘরের মাঠ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ওল্ড ট্রাফোর্ড। মেসি-রোনালদো শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন, মেসি গোল করার খুব কাছাকাছিও গিয়েছিলেন। রোনালদো অবশ্য খুব বেশি সুযোগ পাননি।

তবে ওল্ড ট্রাফোর্ডের ৪০ হাজার দর্শককে হতাশ করে বিরতির সময়েই দুজনকে তুলে নেওয়া হয়। সেই ম্যাচে পর্তুগাল জিতেছিল শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ে রাফায়েল গেরেরোর হেডে করা গোলে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাই মেসি-রোনালদোর লড়াইটা এখন পর্যন্ত তাই ১-১ সমতায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল নিজেদের ইতিহাসে এই দুবারই একে অন্যের মুখোমুখি হয়েছে।

নেইমারের ফেরার দিনে ব্রাজিলের কে কেমন খেললেন

সব প্রতিযোগিতা মিলে দুজনের ৩৫ বারের দেখায় মেসি জিতেছেন ১৬টিতে, রোনালদোর জয় হয়েছে ১০ বার। আর ড্র হয়েছে ৯টি ম্যাচ। তবে এই ৩৫ ম্যাচে দুজনই আছেন একটা জায়গায় সমতায়—করেছেন সমান ২২টি করে গোল।

প্রশ্ন হচ্ছে, মেসি-রোনালদোর দ্বৈরথ নিয়ে এত জল্পনা–কল্পনা, সেটা এই দুজন জানেন তো? রোনালদোকে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর সেটি মনে করিয়ে দেওয়া হলে চোখেমুখে কিছুটা বিরক্তি ফুটলেও উত্তর দিলেন পেশাদার ফুটবলারের মতোই, ‘এখন এই প্রশ্নের তো মানে নেই। জানি না কীভাবে উত্তর দিতে হবে। তবে ঠিক আছে, বলছি। এটা হবে দারুণ!’

‘দারুণ’ যে হবে, তা তো না বললেও চলে!

ভিনির গোল কেন বাতিল হয়েছিল, সত্যিই কি ফাউল ছিল

Read full story at source