বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জবাবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
· Prothom Alo

পণ্যবাহী জাহাজে ইরানি ড্রোনের হামলার অভিযোগ ওঠার এক দিনের মাথায় ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সামরিক কার্যক্রম দেখভাল করা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার জানিয়েছে, ‘গতকালের (বৃহস্পতিবার) হামলার কড়া জবাব’ দেওয়া হয়েছে।
Visit biznow.biz for more information.
এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ‘মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রাখার জায়গা এবং উপকূলীয় রাডার স্টেশনগুলোতে হামলা চালিয়েছে।’
তারা আরও বলেছে, ‘গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ (হরমুজ প্রণালি) দিয়ে যখন ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ছে, তখন ইরানের এমন বিপজ্জনক আচরণ নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করেছে।’
এই ঘোষণার পর ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়।
এর আগে, শুক্রবার দিনের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সতর্কবার্তা দেন। তিনি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এভার লাভলিতে হওয়া হামলাকে ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারকের ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ওই সমঝোতা হয়েছিল।
ওই সমঝোতায় ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে’ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এর মাধ্যমে মূলত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ স্থগিত করা হয়।
তবে এই সমঝোতা চূড়ান্ত কিছু ছিল না। বরং এটিকে পরবর্তী আলোচনার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টিও এই আলোচনার অংশ ছিল।
মানচিত্রে হরমুজ প্রণালিযুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি, সারসহ অন্যান্য পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে।
ওই সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী ৬০ দিনের একটি সময়সীমা ঠিক করা হয়েছিল। এ সময়ে কোনো ধরনের মাশুল ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ওই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়ার জন্য ইরানকে ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করতে বলা হয়েছিল।
কিন্তু এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করে লেবাননে টানা হামলা চালিয়ে যায় ইসরায়েল।
এর জবাবে ইরান গত সপ্তাহে জানায়, লেবাননে হামলার কারণে তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে।
বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলের কাছে এই নৌপথ দিয়ে যাওয়ার সময় ‘এভার লাভলি’ জাহাজটিতে একটি বস্তু আঘাত হানে। তবে এতে জাহাজের কোনো নাবিক বা কর্মী আহত হননি। ফলে কনটেইনারবাহী জাহাজটি তার গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পএই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর দিকে অন্তত চারটি একমুখী হামলার ড্রোন (ওয়ান ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন) ছুড়েছে দেশটি।’
তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছেন তিনি। তবে চতুর্থ ড্রোনটি তার লক্ষ্যবস্তুতে ঠিকই আঘাত হানে।
শুক্রবার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এভার লাভলি জাহাজ প্রসঙ্গে ট্রাম্প লেখেন, ‘ড্রোনগুলোর একটি খুব দামি ও বিশাল আকৃতির পণ্যবাহী জাহাজের ওপরের অংশে শক্তভাবে আঘাত করেছে।’
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, ১৭ জুনের সমঝোতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল আছে কি না।
এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘গতকাল তারা যে হামলা চালিয়েছে, সেটা আমার মোটেও পছন্দ হয়নি।’ এরপর তিনি এভার লাভলি জাহাজের ক্ষতির কথা সংক্ষেপে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘জাহাজটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের এমনটা করা উচিত হয়নি। তাই আপনারা শিগগিরই এর পরিণতি দেখতে পাবেন।’