ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ
· Prothom Alo

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সাত দফা কৌশলগত সুপারিশও করা হয়েছে।
আজ রোববার সন্ধ্যায় তদন্ত প্রতিবেদনটি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর কাছে জমা দেওয়া হয়।
Visit michezonews.co.za for more information.
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিএমপির উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে এ মুহূর্তে তাঁর কিছু বলার সুযোগ নেই।
পরে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তে খুলশী থানার তিন পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা অপেশাদার ও শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণ করেছেন। ঘটনার পর তাঁদের মধ্যে দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে শাস্তির সুপারিশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সাত দফা সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ সদস্যদের আচরণগত ও মানবিক বিষয় নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ, নিয়মিত ব্রিফিং, দায়িত্ব পালনে পেশাদারত্ব বাড়াতে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণ চোরাচালানের সন্দেহে নাঈম হাসানের গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে ওই তথ্যের উৎস সম্পর্কে কোনো তথ্য উঠে এসেছে কি না, জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না।
১২ জুন রাতে ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে এসে বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন নাঈম হাসান। অভিযোগ অনুযায়ী, এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ তাঁর অটোরিকশা থামায় এবং চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেয়। পরে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁকে একটি অটোরিকশায় করে খুলশী থানায় নেওয়া হয়। সেখানে আরও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে পিটিয়ে থানায় নিল পুলিশ, এসআইসহ তিনজন প্রত্যাহারপরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম। ঘটনার পর দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরদিন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী নগরের ফরিদাপাড়ায় নাঈমের বাসায় গিয়ে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও তদন্ত কমিটি পরে অতিরিক্ত সময় নেয়।