আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার ৭ পুরস্কার
· Prothom Alo

ইস্তিগফার শব্দের অর্থ ক্ষমা প্রার্থনা করা। পরিভাষায় ইস্তিগফার মানে নিজের পাপরাশি থেকে মুক্ত হতে আল্লাহ–তাআলার কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করা।
ক্ষমা প্রার্থনা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দের একটি আমল। কোরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন প্রসঙ্গে তাঁর প্রিয় বান্দাদের ইস্তিগফারের বিমল পথে হাঁটার নির্দেশনা দিয়েছেন।
Visit tr-sport.bond for more information.
ইসলামের আলোকে ইস্তিগফারের ৭টি মূল পুরস্কারের কথা আলোচনা করা হলো।
১. উত্তম জীবন উপভোগ করা
আমরা সবাই পৃথিবীতে একটি সুন্দর ও উত্তম জীবন উপভোগ করতে চাই। এই উত্তম জীবন লাভের অনন্য মাধ্যম হচ্ছে ইস্তিগফার।
কোরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ইস্তিগফার তথা পাপের ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তাঁর অভিমুখী হও। তিনি তোমাদের এক নির্ধারিত কাল পর্যন্ত উত্তম জীবন উপভোগ করতে দেবেন এবং যে কেউ বেশি আমল করবে তাকে নিজের পক্ষ থেকে বেশি প্রতিদান দেবেন। আর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের জন্য এক মহা দিবসের শাস্তির আশঙ্কা করি।” (সুরা হুদ, আয়াত: ৩)
যে ১০ কারণে আত্মার মৃত্যু হয়২. জাগতিক আজাব থেকে মুক্তি
সব ধরনের আজাব-গজব ও মহামারি থেকে বাঁচতে পারা মানবমাত্রেরই আজন্ম আকাঙ্ক্ষা। সেই আজাব থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকরী ঐশী উপায় হলো ইস্তিগফার।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “এবং (হে নবী) আল্লাহ এমন নন যে তুমি তাদের মধ্যে বর্তমান থাকা অবস্থায় তাদের শাস্তি দেবেন এবং তিনি এমনও নন যে তারা ইস্তিগফারে রত থাকা অবস্থায় তাদের শাস্তি দেবেন।” (সুরা আনফাল, আয়াত: ৩৩)
৩, ৪ ও ৫. সম্পদ, সন্তান ও ফসলে উন্নতি
ইস্তিগফারের সুফল হিসেবে উপরিউক্ত তিনটি বৈষয়িক পুরস্কারের ঘোষণা আল্লাহ–তাআলা একই সুরার ধারাবাহিক তিনটি আয়াতে দিয়েছেন।
আল্লাহ–তাআলা বলেন, “আমি তাদের বলেছি, নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে উন্নতি দান করবেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান আর তোমাদের জন্য নদ-নদীর ব্যবস্থা করে দেবেন।” (সুরা নুহ, আয়াত: ১০-১২)
মহানবী কেন ‘মাদায়েনে সালেহ’ দেখতে নিষেধ করেছেন৬. পরকালের সুসংবাদ
যারা নিয়মিত ইস্তিগফার করে, পরকালে তাদের আমলনামা অত্যন্ত সমৃদ্ধ হয়। তাদের জন্য নবীজি (সা.) সুসংবাদের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যাদের আমলনামায় বেশি ইস্তিগফার পাওয়া যাবে, তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৮১৮)
৭. নবীজির নিয়মিত অভ্যাস
ইস্তিগফার আল্লাহ–তাআলার এত প্রিয় আমল যে নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও নবীজি (সা.) প্রতিদিন অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করতেন এবং উম্মতকেও এর নির্দেশনা দিতেন।
তিনি বলেন, “হে লোকেরা, তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো এবং তারই কাছে ক্ষমা চাও। জেনে রেখো, আমি প্রতিদিন ১০০ বার আল্লাহর কাছে তওবা-ইস্তিগফার করি।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭০২)
ইস্তিগফার কেবল পরকালীন মুক্তির উপায় নয়, বরং এটি মানুষের জাগতিক বিষণ্নতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং পারিবারিক কলহ দূর করার এক অনন্য প্রতিষেধক।
একজন মানুষ যখন নিজের ভুল স্বীকার করে সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে হাত পাতে, তখন তার অন্তরে এক অনাবিল প্রশান্তি নেমে আসে।
আব্দুল্লাহ আলমামুন আশরাফী : মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়া মাখযানুল উলুম, গাজীপুর