জুলাইয়ের চেতনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বিএনপি সরকার: মিয়া গোলাম পরওয়ার
· Prothom Alo

ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার জুলাইয়ের স্মৃতি, গণ-অভ্যুত্থান ও জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি অনীহা প্রকাশ করে এর চেতনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘বিএনপির সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্টে এবং টকশোতে জুলাইয়ের চেতনার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এমনকি তাঁরা আওয়ামী লীগের খুনিদের প্রশ্রয় দিয়ে তাঁদের এ দেশে অনুপ্রবেশের পক্ষে সহানুভূতি দেখাচ্ছেন।’
Visit palladian.co.za for more information.
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ১১–দলীয় ঐক্য জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিদের নিয়ে এই সমাবেশ ও র্যালির আয়োজন করা হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার যদি সত্যিই জুলাইয়ের চেতনায় বিশ্বাস করে, তবে জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায় অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। ওই গণভোটে মানুষ ৮৪টি ঐকমত্যের সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সুকৌশলে জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাব এড়ানোর জন্য বিএনপি মৌলিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজেদের ভিন্নমতকে কাজে লাগাচ্ছে। তারা সংসদে জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব এনেছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মচারীরা পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। অথচ জুলাই আন্দোলনের মূল সুফলভোগী (বেনিফিশিয়ারি) তো বিএনপিই, তারাই এখন ক্ষমতায় এসেছে। এই আন্দোলন না হলে তারা কি এমপি-মন্ত্রী হতে বা সরকার গঠন করতে পারত? এমপি-মন্ত্রীদের বেতন তো বাকি নেই, তাহলে ফাউন্ডেশনের কর্মচারীদের বেতন কেন বাকি থাকবে? জুলাইয়ের আহত ব্যক্তিরা কেন চিকিৎসার টাকা পাচ্ছেন না, কেন তাঁদের ভাতা বন্ধ হয়ে গেল, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। এ ছাড়া আন্দোলনে শহীদের সংখ্যা জাতিসংঘের উল্লেখ করা সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে দাবি করে সরকারকে দায়িত্ব নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ও সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, স্বৈরাচারের পতন হলেও দেশে এখনো ইনসাফ কায়েম হয়নি। বাস্তবতা হলো এক জালিম বিদায় নিয়েছে, আরেক জালিম মসনদে এসে বসেছে। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার মসনদে এসে কেউ যদি মনে করে থাকেন, নতুন করে দিল্লির গোলামি করবেন, শহীদি রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন, তাহলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, আপনাদের মসনদও টিকবে না।’
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সরকারের কাছে থাকা শহীদদের তালিকাটি পূর্ণাঙ্গ নয়। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি শহীদের কথা বলা হলেও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের শর্ত পূরণ করতে না পারায় সরকার ৮৫০ জনের বেশি শহীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করতে পারেনি।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। ১১–দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান জাফরুল্লাহ চৌধুরী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজীসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা।