কোন সবজির দাম কত বাড়ল, ডিমের ডজন কত

· Prothom Alo

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও সরবরাহের ঘাটতিতে রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে অল্প কয়েকটি ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির কেজি এখন ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

Visit newsbetting.cv for more information.

সবজির পাশাপাশি বেড়েছে মুরগির ডিমের দামও। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম ২০ টাকা বেড়েছে; আর বিভিন্ন ধরনের মাছ ও মুরগির দাম আগে থেকেই বাড়তি রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যেও বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চিত্র দেখা গেছে।

গতকাল রাজধানীর তিনটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগের তুলনায় বেশির ভাগ সবজির দামই কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। কোনো কোনো সবজির দাম কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্তও বেড়েছে।

বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সবজির খেত প্লাবিত হয়েছে। এতে সবজি পচে যাওয়া এবং বৃষ্টিতে পরিবহনসংকটের কারণে বাজারে এখন সবজির সরবরাহ কম। এই প্রাকৃতিক সংকটের সুযোগে অনেক ব্যবসায়ী আবার অতিরিক্ত দাম হাঁকছেন। এ ছাড়া ডিমের সরবরাহ কম থাকায় এই পণ্যের দাম বেড়েছে।

গতকাল রাজধানীর তিনটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগের তুলনায় বেশির ভাগ সবজির দামই কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। কোনো কোনো সবজির দাম কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্তও বেড়েছে। যেমন কয়েক দিন আগের ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির হাইব্রিড শসা এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়; আর দেশি শসা কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।

একই চিত্র দেখা গেছে বেগুন ও করলার ক্ষেত্রেও। ৮০ টাকা কেজির বেগুন ও করলা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় আর বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। ঢ্যাঁড়স, ঝিঙে ও চিচিঙ্গার মতো সবজি গত সপ্তাহে ৬০-৮০ টাকায় পাওয়া যেত। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়,

তবে বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে পেঁপে ও টমেটোর দামে। ৩০ টাকা কেজির পেঁপে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়; আর আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ২৪০ টাকা কেজির টমেটোর দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়। এ ছাড়া পেঁয়াজ ৪০ ও আলু ২৫ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত রয়েছে।

যা আগে ছিল ৬০ টাকা। অবশ্য সবজির মান একটু কম হলে দাম কিছুটা কমে পাওয়া যায়। বাজারে কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। কয়েক দিন আগে এক কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকায় কেনা যেত। বর্তমানে প্রতি কেজি সাধারণ মানের কাঁচা মরিচ ১৬০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ভালো মানের কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকা।

তবে বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে পেঁপে ও টমেটোর দামে। ৩০ টাকা কেজির পেঁপে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়; আর আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ২৪০ টাকা কেজির টমেটোর দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়। এ ছাড়া পেঁয়াজ ৪০ ও আলু ২৫ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত রয়েছে।

সবজি বিক্রেতা আল নাহিয়ান খানবৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ অনেক কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন আমার দোকানে ১০০ কেজি সবজি আসত, এখনআসছে ৬০ কেজি। অথচ বাজারে চাহিদা আগের মতোই আছে।

সবজি বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে রাজধানীর বাজারে সবজির সরবরাহ কমেছে। ফলে দাম বাড়তি। রাজধানীর আশকোনার হজ ক্যাম্প বাজারের সবজি বিক্রেতা আবদুল মান্নান বলেন, এই বাজারে নরসিংদী থেকে বেশি সবজি আসে; কিন্তু গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নরসিংদীর সবজিখেতে পানি উঠে অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে। তাই সবজির সরবরাহ বেশ কম।

হঠাৎ দাম বাড়ার বিষয়ে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা আল নাহিয়ান খান বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ অনেক কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন আমার দোকানে ১০০ কেজি সবজি আসত, এখনআসছে ৬০ কেজি। অথচ বাজারে চাহিদা আগের মতোই আছে। পাইকারিতেই আমাদের চড়া দামে কিনতে হচ্ছে।’

১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এই দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে আল নাহিয়ান খান বলেন, নতুন করে সবজির সরবরাহ বাড়ার আগপর্যন্ত এই চড়া ভাব বজায় থাকতে পারে।

মাছের মধ্যে চাষের রুই, তেলাপিয়া, পাঙাশ, কই, পাবদা প্রভৃতির দামও আগের তুলনায় কিছুটা বাড়তি।

ডিমের ডজন ১৪০ টাকা

সবজির পাশাপাশি বেড়েছে মুরগির ডিমের দামও। এক সপ্তাহ আগে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির বাদামি ডিমের দাম ছিল ১২০ টাকা। গতকাল প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০–২০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৪০–৩৫০ টাকা ও হাইব্রিড ধরনের সোনালি মুরগি ৩১০–৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মাছের মধ্যে চাষের রুই, তেলাপিয়া, পাঙাশ, কই, পাবদা প্রভৃতির দামও আগের তুলনায় কিছুটা বাড়তি। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এসব মাছের সরবরাহ কম হলে দাম একটু বাড়ে। বাজারে এক-দেড় কেজি আকারের রুই ৩৫০ টাকার আশপাশে বিক্রি হয়েছে। আকারে আরও বড় হলে দাম ৪০০ টাকার কাছাকাছি। এ ছাড়া তেলাপিয়া, পাঙাশ, কই ও পাবদার দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেশি রয়েছে।

মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা হুমায়রা হোসেন টানা বৃষ্টি হলে সরবরাহ একটু কমবে, তা স্বাভাবিক; কিন্তু সে তুলনায় দাম বেশ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কাঁচা মরিচ তো ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ করেছে।

এদিকে সবজির দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা হুমায়রা হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টি হলে সরবরাহ একটু কমবে, তা স্বাভাবিক; কিন্তু সে তুলনায় দাম বেশ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কাঁচা মরিচ তো ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ করেছে।

Read full story at source