ফাইনালে বেশি গোল দেখতে চাই
· Prothom Alo

বিশ্বকাপ ফাইনালে আমার কোনো ফেবারিট নেই। অনেকে হয়তো ভাবছেন, এ আবার হয় নাকি! কিন্তু এটাই সত্যি। কারণ, আর্জেন্টিনা ও স্পেন দুই দলই খুব ভালো খেলে শিরোপার লড়াইয়ে এসেছে। কোনো দলকে সমর্থন না করে আমি উপভোগ্য একটা ফাইনাল দেখতে চাই, যেখানে গোল হবে বেশি।
একজন নিরপেক্ষ দর্শক হিসেবেই আমি ফাইনালটা টিভিতে দেখব। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজের শেষ মুহূর্তে করা সেই অবিশ্বাস্য সেভটি যেমন আমার স্মৃতিতে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে, আশা করি এই ফাইনালেও তেমন কোনো অবিস্মরণীয় রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ধরা দেবে। তেমন কিছু হলে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এর চেয়ে বড় উপহার আর কিছু হবে না। কাতারের ফাইনাল টাইব্রেকারে গড়িয়েছিল, এবারও তেমন কিছু হবে কি না, জানি না। তবে তীব্র লড়াই হলে ফুটবলপ্রেমীদের রাত জেগে ফাইনাল দেখা সার্থক হবে।
Visit bettingx.club for more information.
নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার দারুণ সব কামব্যাক দেখেছি; কিন্তু স্পেন তেমন পরিস্থিতিতে পড়েনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা স্পেন বাকি ছয় ম্যাচেই আগে গোল করেছে। ফলে গোল খাওয়ার পর স্পেন কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, তা দেখাটা বাকি রয়ে গেছে। সেটি তাদের জন্য একটা পরীক্ষাও হতে পারে।
আমি মনে করি,বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে এক আর দুই নম্বর দলের এই লড়াইটা ম্যাচের আগে ৫০–৫০ অবস্থায় আছে। কেউ কারও চেয়ে কম নয়। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনার বড় ম্যাচ জেতার যেমন দারুণ অভিজ্ঞতা আছে, স্পেনও দুই বছর আগে ইউরো জিতেছে। ১৬ বছর আগে জিতেছে বিশ্বকাপ। কিন্তু মনে রাখতে হবে, টানা চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে তৃতীয় ফাইনাল খেলতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি নামের অতিমানবীয় এক ফুটবলার, তিনি জানেন ফাইনালে কী করতে হবে।
নিউইয়র্কে ফ্যান ইভেন্টে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিএই বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সেও মেসি যা করছেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। টুর্নামেন্টে আটটি গোল এবং চারটি অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বলের মতো সব পুরস্কারের প্রধান দাবিদার। আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না, তবে সম্ভবত এটিই আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে। তাই আমি মন থেকে চাই, মেসি যেন এই ফাইনালে অন্তত একটি গোল করেন।
দূরপাল্লার মিসাইল ছুড়ে স্পেনের ঘুম কেড়ে নিতে পারেন এনজোমেসির পাশাপাশি স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালও যদি গোল করতে পারেন, সেটিও হবে দারুণ এক মুহূর্ত। কারণ, আমরা ১৭-১৮ বছর আগের একটি ছবি দেখেছি, যেখানে মেসি ছোট্ট একটি শিশুকে কোলে ধরে আছেন। আজ সেই শিশুই বড় হয়ে মেসির মুখোমুখি ফাইনালে খেলছেন! এটা সত্যিই রূপকথার মতো। মেসি–ইয়ামাল লড়াই দেখতে আমি মুখিয়ে আছি।
নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে ২–১ গোলে হারে বিদায় নেয় ব্রাজিলদুর্ভাগ্যবশত, আমার নিজের প্রিয় দল ব্রাজিল শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে; কিন্তু তার পরও বাকি ম্যাচগুলো খুব আগ্রহ নিয়ে দেখেছি। আমার দেখা সবচেয়ে ভালো ম্যাচ ছিল শেষ ষোলোতেই আর্জেন্টিনা ও মিসরের লড়াইটি। মাঠ থেকে গ্যালারির খুব কাছে বসে আমি ম্যাচটি দেখেছি, সেখানে আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর মুহূর্তটা ছিল এককথায় অসাধারণ।
এবারের বিশ্বকাপ অনেক দিক দিয়েই আলাদা। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে। এবার খেলাও হচ্ছে প্রায় ৪০ দিন ধরে, যেখানে সাধারণত এক মাসের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়। একটু লম্বা হলেও ফুটবল সমর্থকেরা আগের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ দেখার সুযোগ পেয়েছেন। আমি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে গ্যালারিতে বসে কয়েকটি খেলা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। সেদিক থেকে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। যে দলই জিতুক, আজকের ফাইনালটা জমজমাট হলে আমার বিশ্বকাপ দেখার আনন্দ পরিপূর্ণ হবে।
লেখক: বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক
পুতুলনাচের অদৃশ্য জাদুকর: স্পেনের আসল ‘কলকাঠি’ নাড়েন যিনি