বিদ্যালয়ের পাশের বাড়ির আলমারি থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার, পিটুনিতে নারী নিহত

· Prothom Alo

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে শিশুশিক্ষার্থীর মরদেহ বিদ্যালয়ের পাশের এক বাড়ির আলমারি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ওই বাড়ির এক নারী গণপিটুনির শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন। উপজেলার কাজলা কাশিবাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছে।

Visit newssport.cv for more information.

নিহত শিশুর নাম ফারজানা সুলতানা (৯)। সে উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পিটুনিতে নিহত নারীর নাম সুমাইয়া (২৬)। তিনি কাজলা কাশিবাটি এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা মো. আমিরুলের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ফারজানা বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যায়। বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পর সে বাড়ি ফেরেনি। তখন পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিষয়টি তাঁরা কালীগঞ্জ থানায় জানান।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা–পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে নিয়ে শিশুটির খোঁজ শুরু করে। রাতে আটটার দিকে সুমাইয়ার বসতঘরের ভেতরের আলমারির ড্রয়ার থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকার লোকজনের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ জনতা সুমাইয়াকে ধরে পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, শিশু ফারজানার কানের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ওই নারীর বাড়ি থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। মব তৈরি করে অভিযুক্ত নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, মরদেহ দুটির সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে কালীগঞ্জ থানায় রাখা হবে। ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে লাশ দুটি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

Read full story at source