সাবেক রাষ্ট্রপতি হামিদ–সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
· Prothom Alo

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার বাংলাদেশ আজাদি পার্টি ও রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম নামের দুটি সংগঠন পৃথকভাবে দুটি অভিযোগ করেছে। সাহাবুদ্দিনের পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছে আজাদি পার্টি।
চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিলের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আজাদি পার্টির আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. হাসিনুর রহমান। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত এত লোককে হত্যা করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে; কোনো দিন প্রতিবাদ করেননি সাবেক এই দুই রাষ্ট্রপতি। এসব অপরাধে তাঁদের মৌন সম্মতি ছিল।
Visit esporist.com for more information.
আজাদি পার্টির প্রধান সংগঠক মুন্সি বোরহান মাহমুদ বলেন, সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা গণহত্যা, একে একে জুডিশিয়াল কিলিং, গুম, খুন, আয়নাঘরসহ বাংলাদেশে যতগুলো গণহত্যা হয়েছে, যতগুলো নারকীয় ঘটনা ঘটেছে—সব ঘটনার সময় এই দুজন ব্যক্তি রাষ্ট্রের প্রধান ছিলেন। তৎকালীন সময়ের রাষ্ট্রপতিরা ফ্যাসিস্ট সরকারকে সমর্থন দিয়েছেন, সব ধরনের নিরাপত্তা দিয়েছেন। এই অন্যায়গুলোর প্রতিবাদ করেননি এবং ওই ক্ষমতার অংশ হয়ে সুবিধা ভোগ করেছেন। এই দুই সাবেক রাষ্ট্রপতি এই অন্যায়ের দায় এড়াতে পারেন না।
রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের অভিযোগ
রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম নামের সংগঠন শুধু সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছে। চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস বলেছেন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে গত বছরের ১৮ জানুয়ারি রাতে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাঁকে গুম করা হয়। পরদিন ১৯ জানুয়ারি বাংলামোটর এলাকায় তাঁকে ফেলে রেখে যায়।
অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘একান্ত সহযোগী’ হিসেবেও সাহাবুদ্দিনকে উল্লেখ করেছেন আল নূর মোহাম্মদ। অভিযোগে তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র–জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, খুন, গুমের হুকুমদাতা হিসেবে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণ–অভ্যুত্থানসংশ্লিষ্ট ঘটনাবলিতে সাহাবুদ্দিনের কোনো আইনগত দায় বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার জোর দাবি জানান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামকে এক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আজ এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।