আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দের কাবরালের গোলটিই বিশ্বকাপের সেরা গোল

· Prothom Alo

ফুটবল মাঠে একটা মুহূর্ত কীভাবে ইতিহাস হয়ে যায়, তা হয়তো বলে বোঝানো কঠিন। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের একটা নির্দিষ্ট মুহূর্তের কথা তুমি চাইলেও ভুলতে পারবে না। অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলছে, বিশ্বকাপ মঞ্চে প্রথমবারের মতো খেলতে আসা ছোট দেশ কেপ ভার্দে ২-১ গোলে পিছিয়ে আছে ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। ঠিক সেই সময়েই এক অভাবনীয় ম্যাজিক দেখালেন ২৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডার সিডনি লোপেস কাবরাল।

Visit betsport.cv for more information.

মাঠের বাঁ প্রান্তের পেনাল্টি বক্সের ঠিক বাইরে বল পেলেন কেপ ভার্দের এই লেফট-ব্যাক। সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। চোখের পলকে অ্যালিস্টারকে ডজ দিয়ে ডান পায়ের এক অবিশ্বাস্য বাঁকানো শটে বল সোজা পাঠিয়ে দিলেন গোলপোস্টের ডান দিকের ওপরের কোনায়। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের কেবল চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না! এই অবিশ্বাস্য শটের জন্যই তিনি জিতে নিয়েছেন ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল অব দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার। আফ্রিকার কোনো দেশের খেলোয়াড় হিসেবে এই প্রথম কেউ এমন স্বীকৃতি পেলেন।

সিডনি লোপেজ কাবরাল

মায়ের আনন্দাশ্রু ও মূর্ছা যাওয়া

কাবরাল যখন শটটা নিচ্ছিলেন, তখন তাঁর মাথায় কী চলছিল? তাঁর নিজের ভাষাতেই বলি, ম্যাক অ্যালিস্টারকে কাটানোর পর তিনি একটা ফাঁকা জায়গা দেখতে পান, আর মনে মনে ভাবেন—‘একটা শট নিয়েই দেখি!’ কাবরাল দুপায়েই দারুণ শট নিতে পারেন। তিনি পোস্টের ওপরের কোনা লক্ষ্য করে শট নেওয়ার পর যখন দেখলেন বল জালে জড়াচ্ছে, তখন নিজেই নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তিনি বলেছেন, ‘আমি ভাবছিলাম, এ আমি কী করলাম! সতীর্থরা সবাই তখন আনন্দে চিৎকার করছে, মাথায় হাত দিয়ে উল্লাস করছে।’

বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়েরা কে কী করছেন

বিশ্বকাপের মঞ্চে এত বড় দলের বিপক্ষে এমন একটা গোল করার পর কাবরাল অবিশ্বাস্য চোখে-মাথায় হাত দিয়ে দৌড়াতে শুরু করেন গ্যালারিতে বসা তাঁর মা এবং বান্ধবীর দিকে। কিন্তু গ্যালারির কাছে গিয়ে দেখেন এক অদ্ভুত কাণ্ড! তাঁর মা সেখানে আনন্দে কাঁদছেন। গোলটা দেখার পরপরই নাকি উত্তেজনায় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন! সবাই তখন তাঁর মায়ের জ্ঞান ফেরাতেই বেশি ব্যস্ত ছিল।

হারলেও বিশ্বকাপে দারুণ গল্পের খোরাক দিয়ে গেল কেপ ভার্দে

পঞ্চম বিভাগ থেকে বিশ্বকাপের চূড়ায়

কাবরালের এই উত্থানের গল্পটা শুনলে তুমি রীতিমতো অবাক হবে। নেদারল্যান্ডসে কেপ ভার্দের এক অভিবাসী পরিবারে তাঁর জন্ম। ফুটবলের হাতেখড়ি ডাচ ক্লাব ফেইনুর্ড এবং টুয়েন্টির একাডেমিতে। এরপর খেলেছেন সুইডেনের হেলসিংবার্গেও। ২০২২ সালেও তিনি জার্মানির পঞ্চম বিভাগের এক অখ্যাত ক্লাব রট-উইস এরফুর্টে খেলতেন।

সেখান থেকে তাঁর ক্যারিয়ার কীভাবে উল্কার মতো ছুটেছে, একটু খেয়াল করুন। ২০২৩ সালেই কেপ ভার্দে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অভিষেক হয়। ২০২৫ সালে পর্তুগালের শীর্ষ লিগের ক্লাব এস্ত্রেলা দা আমাদোরায় সই করেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেন বিখ্যাত ক্লাব বেনফিকায়। সেখানে ১২টি ম্যাচও খেলেন। আর বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ঠিক আগে, জুন মাসে তিনি পাড়ি জমান তুরস্কের ক্লাব ট্রাবজনস্পোরে।

ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত ১১১ মিনিটে সতীর্থ মিডফিল্ডার দিনের একটি আত্মঘাতী গোলে কেপ ভার্দেকে বিদায় নিতে হয় ঠিকই, কিন্তু নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপযাত্রাটাকে তারা ঠিকই স্মরণীয় করে রেখেছে।

শিরোপা জিতলে খেলোয়াড়েরা জাল কাটেন কেন?

কিংবদন্তিদের কাতারে কাবরাল

কাবরালের এই গোল যে কতটা দারুণ ছিল, তার প্রমাণ মেলে ব্রাজিল ও রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি লেফট-ব্যাক মার্সেলোর একটি মেসেজ থেকে। মার্সেলো ম্যাচ শেষে কাবরালকে মেসেজ দিয়ে জানান, তিনি টুর্নামেন্টের সেরা গোল হিসেবে এই গোলকেই ভোট দিয়েছেন।

২০০৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই গোল অব দ্য টুর্নামেন্ট পুরস্কারের ইতিহাস বেশ রাজকীয়। এর আগে ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনার ম্যাক্সি রদ্রিগেজ, ২০১০ সালে উরুগুয়ের ডিয়েগো ফোরলান, ২০১৪ সালে কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেজ, ২০১৮ সালে ফ্রান্সের বেঞ্জামিন পাভার্ড এবং ২০২২ সালে সার্বিয়ার বিপক্ষে বাইসাইকেল কিকের জন্য ব্রাজিলের রিচার্লিসন এই পুরস্কার জিতেছিলেন। এবার সেই কিংবদন্তিদের ছোট্ট তালিকায় নিজের নামটি পাকাপোক্ত করে নিলেন কেপ ভার্দের এই তরুণ তুর্কি।

সূত্র: দ্য অ্যাথলেটিকআর্জেন্টিনা কেন গোলে কোনো শট নিতে পারল না

Read full story at source