খিরাই নদে ডুবল ৪৫ হাজার ইট, তুলছেন ডুবুরিরা
· Prothom Alo

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার খামারপাড়া এলাকার খিরাই নদে বেইলি সেতু ভেঙে ৪৫ হাজার ইট নিয়ে ডুবে যাওয়া বাল্কহেড উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন ডুবুরি ও শ্রমিকেরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়।
নদের তলদেশ থেকে বাল্কহেডসহ ওই ইট তুলতে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার চুক্তিতে ১০ জন ডুবুরি এবং ৪০ হাজার টাকার চুক্তিতে একদল শ্রমিক কাজ করছেন। ইতিমধ্যে চাঁদপুর থেকে ১০ জন ডুবুরি এসে কাজ শুরু করেছেন। দুর্ঘটনাস্থলে পানির গভীরতা ১৫–২০ হাত।
Visit extonnews.click for more information.
ডুবুরি দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রথমে তাঁরা নদে ডুবে যাওয়া বাল্কহেড থেকে ইটগুলো উত্তোলন করবেন। পরে ভেঙে যাওয়া বেইলি সেতুটি উদ্ধার করবেন। তৃতীয়ত শতাধিক প্লাস্টিকের ড্রামের সাহায্যে ডুবে যাওয়া বাল্কহেডটি উদ্ধার করা হবে। এতে তাঁদের অন্তত পাঁচ দিন সময় লাগবে।
এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে খামারপাড়ায় খিরাই নদের ওপর নির্মিত বেইলি সেতু ভেঙে বাল্কহেডের ওপর পড়ে। এতে বাল্কহেডের চালক, সুকানিসহ ১৭ শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পান। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে সেতুর নষ্ট পাটাতন মেরামতের সময় শ্রমিকেরা না বুঝে সেতুর সংযোগের নাট খুলে ফেলেন। এতে সেতু ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর পাটাতন মেরামতকারী শ্রমিকেরা পালিয়ে যান। বেইলি সেতুটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৫০ মিটার।
বাল্কহেডের একজন মালিক দুলু মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, নদীতে ডুবে যাওয়া বাল্কহেড থেকে ডুবুরিদের সাহায্যে ইটসহ অন্যান্য যন্ত্র উদ্ধার ও বাল্কহেড মেরামত করতে তাঁদের অন্তত পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এলজিইডির দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে তাঁরা এই ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেইলি সেতুর পুরোনো পাটাতন খুলতে গিয়ে হঠাৎ পুরো সেতু ভেঙে নদে থাকা ইটবাহী বাল্কহেডের ওপর পড়ে। এটা আসলে একটি দুর্ঘটনা। শ্রমিকেরা ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটাননি। দুর্ঘটনায় শ্রমিকেরাও হতাহত হতে পারতেন। আল্লাহ তাঁদের রক্ষা করেছেন।’
এদিকে সেতু ভেঙে যাওয়ার পর দাউদকান্দি ছাড়াও চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ, কচুয়া, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও চাঁদপুর সদর উপজেলার একাধিক গ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে ওই গ্রামের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
মতলব দক্ষিণের বকচর গ্রামের গৃহবধূ কুহিনুর আক্তার বলেন, তাঁরা চাঁদপুরের বাসিন্দা হলেও দাউদকান্দি দিয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারেন। সেতু ভেঙে যাওয়ায় এলাকার কেউ অসুস্থ হলে কয়েক কিলোমিটার ভাঙা সড়ক ঘুরে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে তাঁরা নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।