এসএসসি পাসের দুদিন পর সাপের কামড়ে মৃত্যু, মা হারালেন বেঁচে থাকার অবলম্বন

· Prothom Alo

দুই দিন আগে সোনালী আক্তারের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আনন্দে ভেসেছিল পরিবার। সেই আনন্দের রেশ না কাটতেই বিষধর সাপের কামড়ে প্রাণ গেল ওই কিশোরীর। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউনিয়নের দুর্গম চর মিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সোনালী ছিল অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বাবা মারা যাওয়ার পর তাকে নিয়ে মা মোছা. রাশেদা খাতুন (৪০) মামার বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে থেকেই পড়াশোনা করছিল সোনালী। আরেক মেয়ে মারা যাওয়ার পর সোনালীকে ঘিরেই ছিল মায়ের সব স্বপ্ন। মেয়ের দিকে তাকিয়ে মা আর বিয়েও করেননি। মেয়েই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। সোনালীও মাকে আঁকড়ে ধরে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল।

Visit playerbros.org for more information.

বেড়ার সিনথী পাঠশালা থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ ৩ দশমিক ৫৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হয় সোনালী। ফল প্রকাশের পর দুই দিনও কাটেনি, তার আগেই নিভে গেল ওই কিশোরীর জীবনপ্রদীপ।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে মায়ের সঙ্গে পাশের একটি বাড়ি থেকে নিজেদের বাড়িতে ফিরছিল সোনালী। এ সময় তাকে একটি সাপ কামড় দেয়। পরে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে উপজেলার বাঁধেরহাট নামক স্থানের এক ওঝার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় ঝাড়ফুঁকের একপর্যায়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। তখন তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার আগেই পথে তার মৃত্যু হয়।

বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে শোকস্তব্ধ রাশেদা। স্বজনদের কাছে বারবার তিনি শুধু বলছেন, ‘আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?’

সাপের কামড়ে মারা যাওয়া সোনালী আক্তারের বাড়িতে এলাকাবাসী ও স্বজনদের ভিড়। বুধবার দুপুরে

সহপাঠী ও শিক্ষকেরা জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্কাউটিং ও খেলাধুলায়ও পারদর্শী ছিল সোনালী। বিদ্যালয়ে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করত। তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি শিক্ষক-সহপাঠীদের কাছে ছিল খুবই প্রিয়।

সিনথী পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম সজীব বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয় ভালো ফল করায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে আনন্দ অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে ফোনে সোনালীর সঙ্গে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ তাঁর কথা হয়। সোনালী শুধু পড়াশোনায় ভালো ছিল না, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্কাউটিং ও খেলাধুলাতেও তার আগ্রহ ও দক্ষতা ছিল। তার এমন মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শোকাহত।

Read full story at source