সাত ডাকাত গ্রেপ্তার, অস্ত্র–গুলির সঙ্গে পাওয়া গেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক

· Prothom Alo

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি গুলি, ওয়াকিটকি, পুলিশের লোগোযুক্ত হাতকড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পোশাক, গাড়ির ভুয়া নম্বর প্লেটসহ ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়িও উদ্ধার করা হয়েছে।

Visit lej.life for more information.

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. তৈয়ব আলী সর্দার (৪৫), পাভেল সর্দার (৩৩), সাইফুর রহমান (৪৫), রাব্বি আলম (২৪), ইমরান হোসেন ভূঁইয়া (২৮), নুরুল ইসলাম (৩৩) ও মো. ইসমাইল (২৮)।

পাভেল সর্দার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চাকরিচ্যুত পেটি অফিসার এবং রাব্বি আলম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সৈনিক। আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে তিনটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কামরাঙ্গীরচর থানার বেড়িবাঁধসংলগ্ন দূরানী ব্রিজের দক্ষিণ পাশে ফাঁকা জায়গায় ছয়-সাতজনের একটি ডাকাত দল ডাকাতির পরিকল্পনা করতে সমবেত হয়েছে। তারা বিভিন্ন বাহিনীর নাম ও পদবি ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক, ওয়াকিটকি এবং দেশি-বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করে দস্যুতা ও ডাকাতি করে আসছিল।

ওই তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনারের (লালবাগ) নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তৈয়ব আলী সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যান। তাঁর কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়।

তৈয়বকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন উত্তরখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাভেল সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি কিরিচ, দুটি মুঠোফোন, র‍্যাবের লোগোযুক্ত একটি পরিচয়পত্র রাখার খাপ, সেনাবাহিনীর দুটি ফিল্ড ক্যাপ ও একটি কালো লেজার লাইট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, তৈয়ব ও পাভেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর এলাকা থেকে সাইফুর রহমান, রাব্বি আলম, ইমরান হোসেন, নুরুল ইসলাম ও মো. ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর থানার সেন্টার পয়েন্ট শপিংমলের পার্কিং এলাকা থেকে একটি কালো ওয়াকিটকি সেট, বাংলাদেশ পুলিশের লোগোযুক্ত একটি হাতকড়া, গাড়ির দুটি ভুয়া নম্বর প্লেট, র‍্যাব লেখা তিনটি পোশাক, ডিবি লেখা একটি পোশাক, দুটি প্রতিফলক পোশাক, কালো রঙের পাঁচটি প্রতিফলক স্টিকার, হলুদ রঙের পাঁচটি প্রতিফলক স্টিকার, একটি কালো পিস্তলের খাপ, একটি খেলনা পিস্তল ও তিনটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাঁরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি ও দস্যুতা করতেন। পরে ইমরান হোসেনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো জায়গা অনুযায়ী গতকাল শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার রূপসী গ্রামে তাঁর বোনের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও ছয়টি গুলি উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া তৈয়ব আলী সর্দারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সকাল আটটার দিকে ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁর মালিকানাধীন ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, উদ্ধার করা পিস্তলটি তৈয়ব আলী সর্দার পাঁচ-ছয় দিন আগে ইমরানের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। তৈয়ব আলী সর্দারের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ ৪৫টি মামলা এবং পাঁচটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, গত মে মাসে যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই ঘটনায় তৈয়ব ও পাভেলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া গত ১৩ জুলাই খিলক্ষেত থানার কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে ডাকাতির ঘটনায় তৈয়বের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সম্প্রতি একাধিক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে একটি মামলা এবং রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে। পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Read full story at source