হাওর থেকে যুক্তরাজ্যের শেফিল্ডে, একসঙ্গে তিন বৃত্তি পাওয়া শামসুল আলমের স্বপ্নপূরণের গল্প

· Prothom Alo

হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি। বর্ষা এলে চারপাশের যোগাযোগব্যবস্থা হয়ে ওঠে দুরূহ। সন্ধ্যা নামলে নেমে আসে নীরবতা। বিদ্যুৎ ও আধুনিক সুবিধার সীমাবদ্ধতার মধ্যেই বই হাতে বসত এক কিশোর। সামনে তখনো ছিল না বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরি, বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা বৃত্তির স্বপ্ন। ছিল শুধু পড়াশোনা করে নিজের জন্য একটি পথ তৈরির ইচ্ছা।

Visit saltysenoritaaz.org for more information.

নেত্রকোনার মদন উপজেলার চানগাঁও গ্রামের চকপাড়ার সেই কিশোর মো. শামসুল আলম। ডাকনাম সম্রাট। নামের মতোই যেন তাঁর পথচলা। হাওরের প্রত্যন্ত পরিবেশ থেকে উঠে এসে তিনি পড়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), কাজ করেছেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে, বৈদেশিক অর্থায়নে গিয়েছেন বিভিন্ন দেশে, দায়িত্ব পালন করেছেন বিসিএস গণপূর্ত ক্যাডারে এবং এরপর একই বছর পেয়েছেন (২০২৪ সালে) তিনটি মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি—যুক্তরাজ্য সরকারের কমনওয়েলথ স্কলারশিপ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ। শেষ পর্যন্ত বেছে নিয়েছেন কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। এখন তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।

হাওরের জীবন—

১৯৯১ সালের ৩ জুন মাতুলালয় নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার চানগাঁওয়ের চকপাড়ায় জন্ম শামসুল আলমের। পৈতৃক নিবাস একই উপজেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামে। বছরের প্রায় ছয় মাস যোগাযোগব্যবস্থা কঠিন হয়ে পড়ে হাওরবেষ্টিত দ্বীপসদৃশ এই গ্রামটির। বর্ষায় নৌকাই হয়ে উঠত চলাচলের অন্যতম মাধ্যম। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে রাতের জীবনও ছিল ভিন্ন রকম। সে গ্রামের স্কুল গোবিন্দশ্রী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তার প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার হাতেখড়ি। কখনো নৌকা এবং কখনো পানিতে ভিজে স্কুলে যেতে হতো। পরিবারকেও পেরোতে হয়েছে কঠিন সময়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে টানা কয়েক বছর বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংসারে সাময়িক টানাপোড়েন তৈরি হয়। তবে সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে পরিবার আপস করেননি। ব্যবসায়ী মো. হারুন অর রশিদ ও গৃহিণী মমতা আক্তারের দুই সন্তানের মধ্যে বড় শামসুল। সন্তানদের ভালো পড়াশোনার জন্য তিনি হয় আলাদাভাবে উপজেলা সদর, শামসুলের মাতুলালয়ের কাছে এসেছেন। ছেলেকে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয় জাহাঙ্গীরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং সেখান থেকে প্রাথমিক শেষ করে শামসুল ভর্তি হন জাহাঙ্গীরপুর টি আমিন পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে এবং ২০০৭ সালে সেখান থেকে ৪.৩৮ জিপিএ নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করেন। এরপর ২০০৯ সালে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি। কলেজের প্রায় সব পরীক্ষায় তিনি প্রথম হতেন বলে তিনি দিন দিন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। তত দিনে জীবনের লক্ষ্যও স্পষ্ট হয়ে ওঠে—প্রকৌশলী হওয়া।

যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ স্কলারশিপ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ। শেষ পর্যন্ত বেছে নেন কমনওয়েলথ স্কলারশিপ

চুয়েটে এসে বদলে গেল পরিসর—

প্রকৌশলী হওয়ার এ লক্ষ্যই তাঁকে নিয়ে আসে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১৪ সালে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে গবেষণা, প্রযুক্তি, সাংবাদিকতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন তিনি। দায়িত্ব পালন করেন চুয়েট সাংবাদিক সমিতির সভাপতির পদে। শিক্ষার্থীদের গবেষণাধর্মী সংগঠন অ্যান্ড্রোমিডা স্পেস অ্যান্ড রোবোটিকস রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (আসরো) সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্বও পালন করেছেন। প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকে সহপাঠীদের সঙ্গে তৈরি করেছিলেন বাংলা ভাষায় নির্দেশনা দেওয়া যায় এমন রোবট, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক ফ্যান ও বাতি, ডিজিটাল থার্মোমিটার, ফ্লুইড ভেলোসিটি মিটার এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণকারী রোবট। এসব প্রকল্পের জন্য তিনি একাধিকবার স্বীকৃতি পেয়েছেন। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আয়োজিত ‘ডিজিটাল আইটি মেলায়’ শামসুল আলম ও তার সহপাঠীদের প্রকল্পগুলোর সমন্বয়ে গঠিত স্টল প্রথম হয়। তাঁর তৈরি ভেলোসিটি মিটার প্রকল্পটি চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের একাডেমিক ল্যাবের ব্যবহারিক কাজে অধ্যাপক আয়েশা আখতারের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত হয়েছে। ২০১৪ সালে মো. শামসুল আলম তৈরি করেছিলেন বাংলা ভাষায় নির্দেশনা অনুযায়ী চলাচলকারী উদ্ধারকারী বাই পেডাল রোবট। প্রথম আলোতে সেটি প্রকাশিত হয়েছিল। শামসুল আলমের গবেষণাপত্রগুলো প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন জার্নালে এবং সাইটেশন হয়েছে অনেকবার।

বিদেশে পড়াশোনার খরচ: টিউশন ফি ছাড়াও যেসব হিসাব রাখা জরুরি

বিদেশে যাওয়ার সুযোগেও থেকে গেলেন দেশে—

স্নাতক শেষ করার পর তাঁর অনেক সহপাঠী উচ্চশিক্ষা ও চাকরির জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছিলেন। মো. শামসুল আলম তখন ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন। নিজের শেখা জ্ঞান দেশের কাজে লাগাতে চান। পরে নানা বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। ২০১৯ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডে এক্সিকিউটিভ ট্রেইনি পদে যোগ দেন, যা সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রবেশনার) পদের সমতুল্য। সেখানে দায়িত্ব পান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। পরের বছরই কাজের সূত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ আসে। ২০২০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে জুনিয়র স্পেশালিস্ট হিসেবে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পাঠায়। সেখানে তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতির উৎপাদন ও মান পর্যবেক্ষণের কাজে যুক্ত ছিলেন। কাজ করেছেন রাশিয়ার স্টেট নিউক্লিয়ার করপোরেশন (রোসাটম), আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করেন। এভাবেই প্রত্যন্ত হাওর থেকে উঠে আসা সেই কিশোর তখন দেশের অন্যতম বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পের আন্তর্জাতিক কর্মপরিসরে কাজ করে যাচ্ছেন।

চুয়েটে একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে গবেষণা, প্রযুক্তি, সাংবাদিকতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন মো. শামসুল আলমষষ্ঠ-স্নাতক শিক্ষার্থীরা পাবেন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা অনুদান, যেভাবে আবেদন

বিদেশে থেকেই শোনেন বিসিএসের রেজাল্ট—

আগে শুরু হওয়া ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারেন রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে বসেই—সুপারিশপ্রাপ্ত হন গণপূর্ত ক্যাডারে। এদিকে রূপপুর প্রকল্পের নানা অসংগতি নিয়ে ম্যানেজমেন্টকে বারবার অবহিত করতে গিয়ে ভর্ৎসনা পেয়েছেন একাধিকবার। তাই দেশে ফেরার কয়েক দিন রূপপুর প্রকল্পে কাজ করার পর সিদ্ধান্ত নেন সিভিল সার্ভিসে যোগ দেবেন। ২০২১ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন গণপূর্ত ক্যাডারে—শুরু হয় কর্মজীবনের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরে বিভিন্ন সময়ে পিরোজপুর ও পটুয়াখালীতে উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করেন। পাশাপাশি কাজের পাশাপাশি পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও ধরে রাখেন। এবার লক্ষ্য ঠিক করেন উচ্চশিক্ষার।

শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন দেবে এসএসসি পাস শিক্ষার্থীদের বৃত্তি

এক বছরে তিন বৃত্তি—

স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ২০২৪ সালে বড় সাফল্য পান শামসুল আলম। বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ও পিএইচডিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। একই বছরে তিনটি বৃত্তি পান—যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ স্কলারশিপ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ এবং বাংলাদেশের সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ। তিনটির মধ্যে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ বেছে নেন।

ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডে ইলেকট্রনিকস ও তড়িৎ কৌশল বিষয়ে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তি হন। সম্প্রতি সেখানে থেকে তিনি মাস্টার অব সায়েন্স ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেছেন। মাস্টার্স প্রোগ্রামে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল সৌরবিদ্যুৎকে বৈদ্যুতিক গ্রিডে কার্যকরভাবে যুক্ত করার জন্য উপযুক্ত ইনভার্টার তৈরি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ভবিষ্যতের বিদ্যুতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য সরকারের গবেষণা তহবিলের অধীনে ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্ক এবং জয়েন্ট নেচার কনসারভেশন কমিটির যৌথ পরিচালনায় আয়োজিত ক্যারিয়ার প্রজেক্টে তিনি এক্সিলেন্ট সিটিজেন সায়েন্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। পাশাপাশি তিনি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি নিয়ে ইউটিউব এবং অন্যান্য অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমে ‘টেকটক’ নামে একটি অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

চুয়েটের দিন, প্রযুক্তি নিয়ে কাজ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রাশিয়ায় কাজের অভিজ্ঞতা, বিসিএস ক্যাডারের জীবন এবং তিনটি বৃত্তির সুযোগ। শেষ পর্যন্ত সেই পথ গেছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় অব শেফিল্ডে।

অর্জন শুধু নিজের নয়—

মো. শামসুল আলমের কাছে তাঁর এই পথচলা একা নয়। জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে অনেকেই তাঁকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন বলে তিনি জানান। তাঁর ভাষায়, ‘মা–বাবার দোয়া, ত্যাগ ও সহযোগিতা না থাকলে হয়তো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা বা বিসিএস ক্যাডার হিসেবে প্রজাতন্ত্রে কাজ করার সুযোগ হতো না।’ জীবনসঙ্গীর সহযোগিতার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর স্ত্রী রোকসানা ফিরদাউস নিগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটিতে লিডসে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত। শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্ত্রীর পরামর্শ, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণাই উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব করেছে।’

ক্যারিয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর মামা সড়ক ও জনপথের প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল আমিন এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন বিভিন্নভাবে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। তিনি আরও জানান, বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য শিক্ষকদের সুপারিশপত্র প্রয়োজন। তাঁর শিক্ষক অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেন এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে সুপারিশপত্র দিয়েছেন বলে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এক কন্যাসন্তানের বাবা শামসুল আলমের কাছে স্কলারশিপসহ শেফিল্ডের ডিগ্রি তাই কেবল একটি একাডেমিক অর্জন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের সহযোগিতা, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং অনেক বছরের পরিশ্রম।

কমনওয়েলথ স্কলারদের জন্য যুক্তরাজ্যের সংসদ ভবন প্যালেস অফ ওয়েস্টমিনিস্টারে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মো. শামসুল আলম

ফিরতে চান দেশের কাজে—

বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে সামনে অনেক সম্ভাবনা থাকলেও শামসুল আলমের ভাবনায় বাংলাদেশই বড় জায়গা দখল করে আছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কাজে লাগাতে চান তিনি। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন বিল্ডিং, আধুনিক বিদ্যুৎব্যবস্থা ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে তাঁর।

তবে কর্মজীবনে কিছু হতাশার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। কয়েকজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর মামলার কারণে পদোন্নতি বিলম্বিত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারে যোগদান করে আমি যাঁদের আমার জুনিয়র হিসেবে পেয়েছি, তাঁরা ডাবল পদোন্নতি পেয়ে আমার বস হয়ে গেছেন; অথচ পদোন্নতির সব যোগ্যতা ও পদ ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও আমাদের ব্যাচের পদোন্নতি হচ্ছে না।’ তাঁর মতে, একজন কর্মকর্তা যখন নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন পান, তখন কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহ ও দায়িত্ববোধও বাড়ে।

বিনা মূল্যে ভারতের আইটেক কোর্সে ভর্তি, জেনে নিন আবেদনের বিস্তারিতস্বীর সঙ্গে মো. শামসুল আলম

যে গল্পের শেষ এখনো হয়নি—

নেত্রকোনার হাওরঘেরা একটি গ্রাম থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর যাত্রা। পথে ছিল সীমাবদ্ধতা, ছিল প্রতিকূলতা। এরপর আসতে লাগল চুয়েটের দিন, প্রযুক্তি নিয়ে কাজ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রাশিয়ায় কাজের অভিজ্ঞতা, বিসিএস ক্যাডারের জীবন এবং তিনটি বৃত্তির সুযোগ। শেষ পর্যন্ত সেই পথ গেছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় অব শেফিল্ডে। হাওরের যে গ্রাম থেকে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল, তাঁকে সেই পথ পাড়ি দিতে হয়েছে সুযোগের সীমাবদ্ধতা, প্রতিকূলতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে। আর সেই পথের প্রতিটি ধাপ তাঁকে বারবার মনে করিয়েছে—পরিস্থিতি পথে কঠিন করতে পারে, কিন্তু স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারে না।

Read full story at source