সকল তেলবাজদের ধন্যবাদ
· Prothom Alo

করোনা আমাদের দুটো জিনিস শিখিয়ে গেছে। প্রথমটা, আমরা করোনার চেয়েও শক্তিশালী। আর দ্বিতীয়টা হচ্ছে, অফিস বাসায় বসেও করা যায়।
হোম অফিস। সব হবে অনলাইনে, আলাপ-আলোচনা জুম কলে। সকাল-সকাল একটা মিটিং। ভিডিও অন রাখতে হয়। মূলত বিপত্তিটা এখানেই। সারারাত নাটক সিনেমা রিলস দেখে ভোরের দিকে ঘুম আসে। কিন্তু দশটা বাজতেই উঠে মিটিংয়ে বসতে হয়। মুসিবত আর কাকে বলে!
Visit playerbros.org for more information.
দুই দিনেই বুঝে গেলাম এত সকালে হাতমুখ ধুয়ে ভালো জামাকাপড় পরে ঢুলুঢুলু চোখে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকাটা রীতিমতো অসম্ভব ব্যাপার। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম ভিডিও আর অন করব না।
সেদিন বস আপত্তি জানাতেই বললাম, নেটে সমস্যা। ভিডিও অন করলে অডিও শুনি না ভাই! আমি অ্যাকটিভ আছি। তা বলেন, আজকের এজেন্ডা কী?
এদিকে আমি মাত্রই ব্রাশটা হাতে নিয়েছি। তখনও পেস্টে প্লাস্টিক আছে, এই তথ্য জানা ছিল না। আমি নিশ্চিন্তে দাঁত মাজতে মাজতে অফিস করলাম।
কিছু লেখেন ভাই!পরদিনই দেখা গেল, অফিসের ম্যাক্সিমাম লোকেরই নেটে সমস্যা। কেউ আর ভিডিও অন করে না। তবে এতে কাজকর্মের কোনো সমস্যা হয় না। বসও ব্যাপারটা বুঝে গেলেন। একদিন দেখি তিনি নিজেই ভিডিও অফ রেখেছেন। বিব্রত গলায় বললেন, ইয়ে মানে, আমার নেটেও সমস্যা। প্রোভাইডার বলল, কিছুদিন এমনই থাকবে…
তবে মাঝেমধ্যে ভিডিও অন তো করতেই হয়। এটাও আসলে মুসিবতের ব্যাপার। নিজের ঘরে ভালো প্যান্টশার্ট পরে বসে থাকার মতো বিড়ম্বনা আর হয় না। এই সমস্যার সমাধানও বের হয়ে গেল। শুধু ইস্ত্রি করা শার্ট পরে বসে গেলেই হয়। নিচে থাকে চিরায়ত আরামদায়ক পোশাক লুঙ্গি।
এইসব ট্রিক আসলে দোষের না। যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু ঠিক থাকলেই হয়। এটাই আমাদের ঐতিহ্য, এটাই আমাদের সংস্কৃতি।
সেদিন একটা নিউজ দেখলাম—প্রধানমন্ত্রী যাবেন তাই রং করা হয়েছিল এক পাশ, অন্য পাশ মলিন!
ঘটনা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী গিয়েছিলেন হাটহাজারীতে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে। পরে সেখান থেকে সড়কপথে চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়িসংলগ্ন হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে এস সভায় যোগ দেন তিনি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী সড়কের যে পাশ দিয়ে গেছেন কেবল সেই পাশটিতেই সড়ক পরিচ্ছন্ন করা এবং ডিভাইডারে রং লাগানোর ব্যবস্থা করে সড়ক বিভাগ। অন্য পাশটিতে রং করা হয়নি।
খুবই ইন্টারেস্টিং নিউজ। এমনিতে প্রধানমন্ত্রী মহোদয় বা দেশের বড় নেতারা তো সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। যখন দেখি তাদের চিন্তাভাবনাও আমাদের মতোই, যতটুকু লাগে, ঠিক ততটুকুতেই তারা খুশি, খুব আনন্দ হয়। মনে হয়, কী আশ্চর্য, তারা তো আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ!
অথবা মনে হয়, আমরা সাধারণরাও আসলে সাধারণ কেউ না, আমরাও ঠিক বড় নেতাদের মতোই অসাধারণ!
এমন অসাধারণ অনুভূতি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং তার আশেপাশের সকল তেলবাজদের ধন্যবাদ।
—বি.স.
মিসির আলির ভুতুড়ে বিলরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিষেধ মানেই নিমন্ত্রণ কট খেয়ে চট করে দেওয়া স্ট্যাটাসগুচ্ছচুলায় নাই আগুন কোথায় ভাজি বেগুন?মাইক্রোপ্লাস্টিক ও গুজব