আবার কি ইংল্যান্ডে ফিরবেন, কী বলছেন হ্যারি কেইন
· Prothom Alo

তিন বছর আগে ইংল্যান্ড ছেড়ে জার্মানিতে পাড়ি জমানোর সময় তাঁর চোখে ছিল একধরনের অস্থিরতা। নতুন শহর, নতুন ক্লাব, নতুন চ্যালেঞ্জ। পুরোনো এক রেকর্ডের ছায়াও ছিল সঙ্গে। প্রিমিয়ার লিগে ফিরে গিয়ে অ্যালান শিয়ারারের ২৬০ গোলের রেকর্ড ভাঙার ভাবনাটাও যে ছিল না, তা বলা যাবে না।
Visit amunra-online.pl for more information.
এখন? সেই ‘তাগিদ’ আর নেই হ্যারি কেইনের।
২০২৫-২৬ মৌসুমটা যেন কেইনের ক্যারিয়ারের এক বিস্ফোরণ। কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির অধীনে বায়ার্ন মিউনিখের আক্রমণভাগে তিনি যেন নিজেকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বুন্দেসলিগায় ৩১ ম্যাচে ৩৬ গোল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা দেনিজ উনদাভের চেয়ে ১৭টি বেশি। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ মিলিয়ে কোনো খেলোয়াড়ই তাঁর চেয়ে বেশি গোল করতে পারেননি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৪ গোল। সঙ্গে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে ৬ গোল, দল টুর্নামেন্ট শেষ করেছে তৃতীয় হয়ে।
এগুলো শুধু সংখ্যা নয়, একধরনের আধিপত্যের ভাষা।
বায়ার্নে প্রথম তিন মৌসুমেই বুন্দেসলিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইন। ইতিহাসে তাঁর সামনে এখন শুধু গার্ড মুলার আর রবার্ট লেভানডফস্কি। দুজনেরই গোল্ডেন বুট সাতবার। এই শতকে টানা চারবার জেতার কীর্তি শুধু লেভানডফস্কির। কেইন তাঁর ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছেন।
কিন্তু এসবের মধ্যেও কেইনের প্রিমিয়ার লিগে ফেরার কথা চলে আসে মাঝেমধ্যে। কিন্তু কেইনের কথায় এখন অন্য সুর, ‘টটেনহাম ছেড়ে যখন প্রথম বের হয়েছিলাম, মনে হয়েছিল একদিন ফিরবই। কিন্তু এখন সেই তাগিদটা আগের মতো নেই।’
টটেনহামের জার্সিতে দীর্ঘদিন মাঠ মাতিয়েছেন হ্যারি কেইনমিউনিখ কেইনকে বদলে দিয়েছে। নতুন এক ফুটবলজগতের দরজা খুলে দিয়েছে। ইংল্যান্ডের বাইরের ফুটবলকে কেইন এখন অন্যভাবে দেখেন। নিজেই বললেন, ‘আমি এখানে খুব সুখে আছি। এই দল, এই কোচ, এই পরিবেশ, সব মিলিয়ে দারুণ। পরিবারও এখানে গুছিয়ে নিয়েছে। এখন আমার লক্ষ্য, যতটা সম্ভব সেরা জায়গায় থাকা।’
স্প্যানিশ ফুটবলের গোপন সোনার খনি আসলে যেখানেপ্রিমিয়ার লিগে কেইনের গোল ২১৩। শিয়ারারের রেকর্ড খুব বেশি দূর নয়। তবু সেই দৌড় এখন তাঁর অগ্রাধিকার নয়। ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি দরজা বন্ধ করছেন না, কিন্তু জানালাও খুলছেন না, ‘আমি কখনোই “না” বলি না। তবে এখন আমি বায়ার্নেই মনোযোগী। ভবিষ্যৎ কী আনবে, দেখা যাবে।’
পরিসংখ্যান বলছে, তিনি হয়তো দ্বিতীয় দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে ইউরোপের শীর্ষ লিগে ১০০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে পারেন। রিয়াল মাদ্রিদে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রথম ১০০ গোল করতে লেগেছিল ৯২ ম্যাচ। বুন্দেসলিগায় কেইনের এখন ৯৪ ম্যাচে ৯৮ গোল।
সর্বশেষ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে ৬ গোল করা কেইন এবার ব্যালন ডি’অর জয়েরও দাবিদারআরেকটা বড় হাতছানিও সামনে। ব্যালন ডি’অর। এ বছরের লড়াইটা অনেক বেশি উন্মুক্ত। কেইনের নামও শোনা যাচ্ছে জোরে। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর কোনো ইংলিশ খেলোয়াড় এই পুরস্কার জেতেননি। তবে কেইনের নিজের কথায়, ‘এটা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। অক্টোবর পর্যন্ত অনেক আলোচনা হবে। কিন্তু আমি যা করার ছিল, করেছি। এটা ছিল আমার সেরা মৌসুম।’
বাবাকে হারানোর পর মেসির প্রথম গোল, লাল কার্ড বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানের