পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন বেশি ইংরেজি-গণিতে
· Prothom Alo

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এ বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৩৯ হাজার ৭৯৮ পরীক্ষার্থী ১ লাখের বেশি আবেদন করেছে। এর মধ্যে ইংরেজিতে ২০ হাজার ৪০০টি এবং গণিতে ১৩ হাজার ৮২৮টি আবেদন জমা পড়েছে। বিষয়ভিত্তিক হিসাবে এ দুই বিষয়েই বেশি আবেদন হয়েছে। এ দুই বিষয়ে মোট ৬০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
১০ আগস্ট সারা দেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ২০১০ সালে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতিতে পরীক্ষা চালুর পর এবারই এ বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৭ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সে হিসাবে ১৯ বছরের মধ্যে এবারই চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে কম।
Visit umafrika.club for more information.
চট্টগ্রাম বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি। ইংরেজি ও গণিতের পর বাংলায় আবেদন জমা পড়েছে বেশি। বাংলায় ৭ হাজার ৭৭১টি আবেদন জমা পড়েছে।
চট্টগ্রাম বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি। ইংরেজি ও গণিতের পর বাংলায় আবেদন জমা পড়েছে বেশি। বাংলায় ৭ হাজার ৭৭১টি আবেদন জমা পড়েছে। মোট আবেদনের ১৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ ইংরেজিতে এবং ১২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ গণিতে। এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞানে ৬ হাজার ৮২৩টি, জীববিজ্ঞানে ৪ হাজার ৫৫৯, রসায়নে ৪ হাজার ৫৩৫ এবং উচ্চতর গণিতে ৪ হাজার ৪৪০টি আবেদন পড়েছে।
ফলাফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হয়। এবার ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। আগে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না। আবেদন করা পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করে মূলত প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা দেখা হতো।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষা দেয়। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। অর্থাৎ ৫২ হাজার ৭৬৬ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। এক বিষয়ে পাস করেনি—এমন পরীক্ষার্থী ২৮ হাজার ৭৭১ জন।
শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কৃতকার্য না হওয়া পরীক্ষার্থীদের হার ইংরেজি ও গণিতে বেশি। ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র মিলিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৬৬ জন। এর মধ্যে পাস করেনি ৩৫ হাজার ৮৭৬ জন। অন্যদিকে গণিতে পরীক্ষা দিয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৫ জন, পাস করেনি ২৫ হাজার ৭৮৩। অর্থাৎ পরীক্ষায় কৃতকার্য না হওয়া অধিকাংশই এ দুই বিষয়ে।
প্রতিবছরই এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সময় নম্বর গণনায় ভুল ধরা পড়ে। পরীক্ষার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের পর অনেকের ফল পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটে। বিগত বছরগুলোতে পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে। এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ১ হাজার ২৬৮টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এবার পুনর্নিরীক্ষণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বরের যোগ-বিয়োগের পাশাপাশি মূল্যায়নে কোনো ভুল হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে। এ কারণে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগও দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বোর্ডে প্রায় ৩০০ পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ইংরেজি ও গণিতে।
চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, এত দিন পুনর্নিরীক্ষণের সময় উত্তরপত্রে প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো। তবে উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল হয়েছে কি না, তা দেখার সুযোগ ছিল না। এবার সে ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এ জন্য প্রায় ২৮৭ পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।