আলভারেজ-এনজো: দুই বন্ধুর এক লক্ষ্য, দুই পথ

· Prothom Alo

রিভার প্লেটের বয়সভিত্তিক দলে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সিতে একসঙ্গে বিশ্বকাপজয়। এনজো ফার্নান্দেজ ও হুলিয়ান আলভারেজের তারকা হয়ে ওঠা তখনই। চার বছর পর ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আবারও একই পথে দুজন।

Visit amunra-online.pl for more information.

এনজো আর চেলসিতে থাকতে চাইছেন না, আলভারেজও আতলেতিকো মাদ্রিদ ছাড়তে মরিয়া। দুজনেরই ক্লাবের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আর ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ প্রান্তে এসে দুজনের ভবিষ্যৎ নিয়েই তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা।

রিভার প্লেটের দুই বন্ধু

এনজো ও আলভারেজের সম্পর্কের শুরুটা ২০১৬ সালে। আর্জেন্টাইন ক্লাবটিতে ছোটবেলা থেকেই ছিলেন এনজো, আর সে বছরই যোগ দেন আলভারেজ। দুজনের পেশাদার ক্যারিয়ার শুরুও হয় রিভার প্লেটের মূল দল দিয়ে।

২০২১ সালে রিভার প্লেটের হয়ে লিগ জেতেন আলভারেজ–এনজো

কাতার বিশ্বকাপের পর অবশ্য দুজনের পথ দুই দিকে বেঁকে যায়। আলভারেজ যোগ দেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ না থাকায় দুই বছর পর নাম লেখান আতলেতিকো মাদ্রিদে। অপর দিকে ২০২২ বিশ্বকাপে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা এনজো ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বেনফিকা থেকে নাম লেখান ইংলিশ ক্লাব চেলসিতে।

এই মুহূর্তে দুজনই ক্লাব ছাড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

আলভারেজের সামনে একটাই পথ?

২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালেই আলভারেজ জানিয়েছিলেন, ‘স্বপ্ন পূরণ করতে’ আতলেতিকো ছাড়তে চান। স্বপ্নপূরণ বলতে বার্সেলোনায় যাওয়া। কিন্তু আতলেতিকো তাঁকে ছাড়তে রাজি নয়। বিশ্বকাপের পর পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে দ্রুতই।

আতলেতিকো সমর্থকদের একাংশ আলভারেজকে দুয়ো দিয়েছেন। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ২-২ ড্রয়ের ম্যাচে ওয়ার্মআপ থেকে শুরু করে বদলি হিসেবে মাঠে নামার পরও তাঁকে দুয়ো শুনতে হয়েছে।

আতলেতিকোর মূল আপত্তি আলভারেজের বার্সায় যেতে চাওয়া। ক্লাবটির বোর্ড বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বার্সেলোনার সঙ্গে আলভারেজকে নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। আতলেতিকোর প্রধান নির্বাহী মিগেল আনহেল গিল মারিন কঠোর ভাষায় এ–ও বলেছেন, আলভারেজকে বার্সেলোনার কাছে ‘কখনোই’ বিক্রি করবে না ক্লাব। এমনকি ২০ কোটি ইউরো পেলেও নয়।

আলভারেজ আতলেতিকো ছাড়তে মরীয়া

ফলে আলভারেজের সামনে এখন কার্যত দুটি পথ—আতলেতিকোতেই থেকে সম্পর্ক মেরামত করা, অথবা ইউরোপের অন্য কোনো ক্লাবে যাওয়া। সেই দ্বিতীয় পথটি এখন সবচেয়ে বাস্তব করে তুলেছে আর্সেনাল।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, আতলেতিকো ও আর্সেনালের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হয়েছে। আতলেতিকোর ক্রীড়া পরিচালক মাতেউ আলেমানি লন্ডনে গিয়ে আর্সেনালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আলভারেজকে ছাড়তে আতলেতিকো চাইছে প্রায় ১৫ কোটি ইউরো। এখন আলভারেজ সবুজ সংকেত দিলে দুই ক্লাবের মধ্যে চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এদিকে আতলেতিকোতে টানা তিন দিন অনুশীলন করেননি আলভারেজ। ক্লাব অবশ্য এটিকে ‘অসুস্থতা’ হিসেবে জানিয়েছে। আতলেতিকোর হয়ে এখন পর্যন্ত ১০৭ ম্যাচে ৪৯ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করেছেন আলভারেজ।

এনজোর গন্তব্য কি সিটি?

এনজোর পরিস্থিতিও অনেকটা একই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যদিও তাঁর সামনে সম্ভাব্য গন্তব্য আরও স্পষ্ট—ম্যানচেস্টার সিটি।

চেলসিতে এনজোর সময়টা শুরু হয়েছিল বিশাল প্রত্যাশা নিয়ে। ২০২৩ সালে বেনফিকা থেকে তাঁকে আনতে ব্রিটিশ রেকর্ড ১০.৭ কোটি পাউন্ড বা প্রায় সাড়ে ১২ কোটি ইউরো খরচ করেছিল চেলসি। এখন সেই খেলোয়াড়কেই ছাড়তে হলে চেলসি চাইছে অন্তত ১২ কোটি পাউন্ড। সিটি সেই দাম দিতে প্রস্তুত কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

এনজোর গন্তব্য হতে পারে ম্যানচেস্টার সিটি

স্কাই স্পোর্টস জানিয়েছে, সিটি এনজোকে পেতে আগ্রহী এবং ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবছে। তবে এখনো দুই ক্লাবের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। চেলসি অবশ্য পুরোপুরি দরজা বন্ধও করছে না। ‘সঠিক প্রস্তাব’ এলে এনজোকে ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে তারা। এর মধ্যে চেলসির সঙ্গে এনজোর সম্পর্কের অস্বস্তির বিষয়টি সামনে এসেছে।

লুটনের বিপক্ষে কারাবাও কাপের ম্যাচে তাঁকে দলে রাখেননি কোচ জাবি আলোনসো। ম্যাচের আগে কোচকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এনজো ‘খেলার আকাঙ্ক্ষা’ হারিয়ে ফেলেছেন কি না। উত্তরে আলোনসো বলেন, দুজনের মধ্যে কথা হয়েছে এবং লুটনের বিপক্ষে তাঁকে দলে না রাখাই ভালো মনে হয়েছে।

চ্যাম্পিয়নস লিগ: লিগ পর্বে চোখ রাখুন এই ৬ ম্যাচে

Read full story at source