সিভিতে কোন ভুলগুলো থাকলে শুরুতেই বাদ পড়বেন
· Prothom Alo

একের পর এক সিভি জমা দিচ্ছেন, কিন্তু ডাক আসছে না? হয়তো সামান্য কিছু ভুলের জন্যই আপনি পিছিয়ে থাকছেন। এমন কিছু ভুলের কথা জানাচ্ছেন গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেন।
Visit biznow.biz for more information.
একজন চাকরিপ্রার্থীর জন্য তাঁর সিভি বা জীবনবৃত্তান্ত হলো প্রথম পরিচয়পত্র। কোনো নিয়োগকর্তা বা এইচআর প্রতিনিধি প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আগে সিভি দেখেন। দেখা যায়, যোগ্যতা থাকার পরও শুধু সিভির ভুলের কারণে অনেকে বাদ পড়ে যান। কেন এমন হয়?
বানান ও ব্যাকরণগত ভুল
সিভিতে বানান ভুল বা ব্যাকরণের দুর্বলতা থাকা সবচেয়ে বড় ও মারাত্মক ভুলগুলোর একটি। এটি সরাসরি প্রার্থীর অমনোযোগিতা ও দায়িত্বহীনতা প্রকাশ করে। সিভিটি খুব সতর্কতার সঙ্গে একাধিকবার রিভিশন দেওয়া উচিত। ছোটখাটো কোনো বানান বা বাক্যের ভুল নিয়োগকর্তার মনে প্রার্থীর পেশাদারত্ব সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে।
মালয়েশিয়ায় গিয়ে ভুলেও এই কাজ করবেন নাঅতিরিক্ত দীর্ঘ ও অপ্রাসঙ্গিক বিবরণ
অনেকেরই ধারণা, সিভি যত বেশি পাতার হবে, নিয়োগকর্তা তত বেশি প্রভাবিত হবেন, যা সম্পূর্ণ ভুল। একজন এইচআর কর্মকর্তার কাছে প্রতিটি সিভি দেখার জন্য খুব সীমিত সময় থাকে। আপনি যদি চার থেকে পাঁচ পাতার সিভি বানিয়ে অতিরিক্ত বা অপ্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা লিখে রাখেন, তবে যাচাইকারী অধৈর্য বা বিরক্ত হয়ে পড়তে পারেন। এ জন্য সিভি সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট ও তথ্যবহুল হওয়া উচিত।
যে পদের জন্য আবেদন, তার সঙ্গে অমিল
একটি সর্বজনীন সিভি বানিয়ে সব ধরনের পদের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া আরেকটি প্রচলিত ভুল। যে পদের জন্য আবেদন করছেন, সেই পদের দায়িত্ব ও চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিভি তৈরি করতে হবে। আপনি অতীতে কী কাজ করেছেন, তা যদি নির্দিষ্ট কাজের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হয় কিংবা কীভাবে সেই অভিজ্ঞতা পদের জন্য কাজে লাগবে তা স্পষ্টভাবে না থাকে, তবে সিভিটি শুরুতেই বাদ পড়ে যেতে পারে।
কেবল দায়িত্বের তালিকা দেওয়া, অর্জনের কথা না থাকা
সিভিতে কেবল ‘আমি এই এই কাজ করেছি’ লিখে রাখলে প্রার্থীর প্রকৃত প্রভাব বোঝা যায় না। কাজের তালিকার পাশাপাশি আপনি ওই কাজের মাধ্যমে কী অর্জন করেছেন বা প্রতিষ্ঠানে কী মান যুক্ত করেছেন, তা সংখ্যা বা তথ্যের মাধ্যমে তুলে ধরা উচিত। যেমন: কোনো প্রজেক্টে নেতৃত্ব দিয়ে কতটুকু উন্নতি এনেছেন বা দল পরিচালনা করে কী ধরনের ফলাফল পেয়েছেন, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকাটা প্রার্থীর একটি বড় দুর্বলতা।
প্রথাগত ফরম্যাট ও অস্পষ্ট তথ্যের উপস্থাপনা
তথ্য সাজানোর ক্ষেত্রে এলোমেলো ডিজাইন, অনেক বেশি ফন্ট ব্যবহার বা ভিজ্যুয়াল ভারসাম্য না থাকা সিভির মান কমিয়ে দেয়। আবার ই–মেইল আইডি বা যোগাযোগের নম্বর ভুল দেওয়া বা অপেশাদার কোনো ই–মেইল নাম ব্যবহার প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করে। সংক্ষিপ্ত, নিখুঁত, প্রাঞ্জল ও তথ্যভিত্তিক সিভিই নিয়োগকর্তাদের মনোযোগ কাড়ে।
গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেন