এসআরবি গঠনে সংসদে বিল, র্যাবের প্রায় সবই থাকছে তাতে
· Prothom Alo

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে ৮টি বিষয়ে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি নামে পুলিশের অধীনে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনে গত বৃহস্পতিবার সংসদে বিলটি আনা হয়। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের দুজন সংসদ সদস্য আছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে ভিন্নমতের বিষয়গুলো লিখিতভাবে সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপন করা হয় বলে বৈঠকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
Visit saltysenoritaaz.com for more information.
আগামীকাল কমিটি বিলটি নিয়ে সংসদে প্রতিবেদন দেবে। এর পরদিন বৃহস্পতিবার বিলটি সংসদে পাস হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন প্রথম আলোকে বলেন, র্যাবকে বিলুপ্ত করার অঙ্গীকার ছিল। কিন্তু এখন আসলে র্যাব যেভাবে ছিল নাম বদলে হুবহু সেভাবে রেখে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিলের ৭-৮টি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। তবে কী কী বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন, তার বিস্তারিত তিনি জানাননি।
তবে বৈঠকের একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিলটি দ্রুত পাস না করে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ সভা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তারা বলেছে, বিলটির মাধ্যমে র্যাবের নামের বাইরে ঠিক কী বদলাচ্ছে, তা সরকারকে দেখতে হবে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে র্যাব যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছে। বিদেশি সরকারগুলো দেখবে এসআরবির নিয়ম, তদারকি ও কাজের ধরন র্যাব থেকে সত্যিই আলাদা কি না।
বিলের যেসব বিষয়ে তাদের আপত্তি আছে, সেখানে নিজেদের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। যেমন বিরোধী দল বলেছে, বিলে যেভাবে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ করার কথা বলা হয়েছে, তাতে তদন্তের স্বার্থের সংঘাত হতে পারে। কারণ, এই কমিটির প্রধান ও সদস্যসচিব হবেন এসআরবির কর্মকর্তা। বিরোধী দল অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতিকে সভাপতি করে প্রতিকার কমিটি করার বিধান প্রস্তাব দিয়েছে।
বিরোধী দল বলেছে, বেসামরিক ব্যক্তিকে এসআরবি কোথায় ও কতক্ষণ আটক রাখতে পারবে, তা স্পষ্ট নয়। এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার সুযোগ থাকলেও সেগুলোর অবস্থান প্রকাশ ও হেফাজতের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড রাখার বাধ্যবাধকতা নেই। তারা প্রস্তাব দিয়েছে, এসআরবির প্রতিটি দপ্তর, ক্যাম্প, হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে। প্রত্যেক আটক ব্যক্তির নাম, সময়, স্থান, আইনি কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসা ও থানায় হস্তান্তরের তথ্য রেজিস্টারে রাখতে হবে।
আরেকটি ধারার সঙ্গে ভিন্নমত জানিয়ে বিরোধী দল বলেছে, এসআরবি যে জেলায় কাজ করবে, সেখানে মাসিক কার্যবিবরণী দিতে হবে।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ সংশোধিত আকারে বিলটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বলা হয়, অতীতে র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভিন্নভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোনো বাহিনীর অপব্যবহারের কারণে পুরো বাহিনীকে বিলুপ্ত না করে এর দক্ষ জনবল ও বিদ্যমান সরঞ্জামকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ, পেশাদারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ রকিবুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান, মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, নূরুল ইসলাম ও আব্দুল বাতেন।
২০০৩ সালে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স’ সংশোধন করে র্যাব গঠনের আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছিল। নানা কর্মকাণ্ডের কারণে বাহিনীটি সমালোচিত হয়। এখন ওই অধ্যাদেশের র্যাব-সংক্রান্ত বিধান বাদ দিয়ে র্যাব বিলুপ্ত করা এবং পৃথক এসআরবি আইন করা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত আইনের খসড়া পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কাগজে ‘র্যাব’ বিলুপ্ত হলেও বাহিনীটির প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতার প্রায় সবই থাকছে। র্যাবের বর্তমান জনবল, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, নথি ও অন্যান্য সম্পদ এসআরবিতে চলে যাবে। র্যাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন ইউনিটের সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। র্যাবের দায়দায়িত্ব, চুক্তি এবং পক্ষে বা বিপক্ষে চলমান মামলাও এসআরবির নামে চলবে।
র্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে জাতিসংঘ, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো অতীতে বিভিন্ন সময়ে বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাব এবং বাহিনীটির সাবেক ও তৎকালীন সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
বিএমইউর ৮ অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা
আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক পিজি হাসপাতাল) ৮টি অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা কিছু কিছু আপত্তি নিষ্পত্তি করেছেন। আর কিছু আপত্তি আরও খতিয়ে দেখার জন্য কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। তার ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। তিনি বলেন, অডিট আপত্তিতে দেখা গেছে, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে সরকারের নিয়ম হচ্ছে লাভের ওপর ৩০ শতাংশ কমিশন বিশেষজ্ঞরা পাবেন। কিন্তু লাভের ওপর না নিয়ে আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ কমিশন নিচ্ছেন তাঁরা।
সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, বড় বড় দুর্নীতি, অনিয়ম যেসব জায়গায় আছে, সেগুলোর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা দেওয়ার জন্য মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রককে (সিএজি) নির্দেশনা দিয়েছে কমিটি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, মাহাবুবুর রহমান, হাফিজ ইব্রাহীম, এস কে আজিজুল বারী, মনজুরুল ইসলাম, ফজলে হুদা, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, রুহুল আমিন।